নাটোরে বইয়ের সংকটে পাঠদান ব্যাহত

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ এক মাস পেরিয়ে গেলেও নাটোরে মাধ্যমিক ও প্রাথমিকের সম্পূর্ণ বই হাতে পায়নি শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কবে নাগাদ বই আসবে তার নিশ্চয়তা না থাকায় দুশ্চিন্তায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তবে বাকি বই দ্রুত আসবে বলে জানান জেলার শিক্ষা কর্মকর্তা।

নতুন বছরের এক মাস পেরিয়ে গেলেও সবগুলো বই পায়নি নাটোরের মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা।অন্যান্য বছর এ সময় প্রতিদিন ৭টি করে ক্লাস হলেও এবার বই না পাওয়ায় ৪টি করে ক্লাস হচ্ছে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে। আর সপ্তম শ্রেণীতে বাংলা, গণিত,ইংরেজি বই না আসায় বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। নতুন সিলেবাস অনুযায়ী চলতি বছর থেকে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে অর্ধবার্ষিকী ও বার্ষিকী পরীক্ষা বাতিল করে ক্লাসেই প্রতিদিন পরীক্ষার নিয়ম করা হয়েছে।

মাধ্যমিকে একমাত্র ৬ষ্ঠ শ্রেণির ১২টি বইয়ের মধ্যে ১২টি পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। আর ৭ম শ্রেণির ১২টি বইয়ের মধ্যে ৪টি, ৮ম শ্রেণির ১২টির মধ্যে ৭টি, ৯ম শ্রেণির ১২টির মধ্যে ৪টি বই পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া প্রাথমিকে তৃতীয় শ্রেণিতে ৩টি, চতুর্থ শ্রেণিতে ৩টি ও পঞ্চম শ্রেণিতে ২টি বই পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।

নাটোর সরকারি বালক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র শামসুল আরিফিন জানান, তাদের অর্ধবার্ষিকী ও বার্ষিক পরীক্ষা থাকবে না। প্রতিদিন ক্লাসেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বই না পেয়ে পিছিয়ে পড়ছে তারা।

অভিভাবক নাজমা আক্তার জানান, তার ছেলে সরকারি বালক বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণিতে পড়ে। মাত্র ৪টি বই পেয়েছে। একমাসেও বই না পেয়ে পড়া লেখা ব্যাহত হচ্ছে।

অভিভাবক শামীম আহমেদ জানান, করোনার সময়েও বছরের প্রথম দিন বই পেলেও এবার ব্যতিক্রম হয়েছে। বই কবে পাওয়া যাবে তার নিশ্চয়তাও পাননি তারা। ফলে দুঃচিন্তায় রয়েছেন তারা।

নাটোর শহরের বনবেল ঘড়িয়া শহীদ রেজা-উন-নবী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শামস কেয়া বলেন, ‘বই না পাওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। তবে ইন্টার নেট থেকে কিছু অধ্যায় নামিয়ে পাঠদানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

নাটোর সরকারি বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন-আর-রশিদ বলেন, ‘বই সংকট থাকায় তারা প্রতিদিন ৪টি বিষয়ে পাঠদান করে বাকি সময় বার্ষিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন। নতুন বই না পেলে ফেব্রুয়ারিতেও তাদের পাঠদান ব্যাহত হবে।’

আরও পড়ুন: বছরের প্রথম দিন যশোরে নতুন বই বিতরণ নিয়ে শঙ্কা

নাটোর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতার হোসেন জানান,মাধ্যমিকে ২৭ লাখ ৩৭ হাজার বইয়ের চাহিদার বিপরীতে এসেছে ২২ লাখ। বাকি বই দ্রুত আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

নাটোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম নবী বলেন, ‘প্রাথমিকের ৭ লাখ ৯৪ হাজার বইয়ের মধ্যে এসেছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার বই। গত ১৯ জানুয়ারি অবশিষ্ট বই আসার কথা থাকলেও তারা নতুন বই হাতে পাননি। তবে প্রাথমিকে সিলেবাস পরিবর্তন না হওয়ায় পুরাতন বই দিয়ে পাঠদান চলছে।’

জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে ২ লাখ ১৩ হাজার ও প্রাথমিক পর্যায়ে ১ লাখ ৮৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০২/০২/২৩   


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.