নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনারঃ জেলার সাঁথিয়ায় কাশীনাথপুরে ‘প্রফেসর আব্দুস সালাম মহিলা ক্যাডেট কলেজ’ নাম দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে বেসরকারি কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বেড়ার মাশুন্দিয়া ভবানীপুর কেজেবি ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সালাম বিশ্বাস প্রফেসর না হয়েও নামের আগে বসিয়েছেন প্রফেসর। প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যবহার করছেন ভুয়া এডুকেশনাল ইনস্টিটিউট আইডেন্টিফিকেশন নম্বর-ইআইআইএন।
কাশীনাথপুর বাসস্ট্যান্ডের পাশে একটি ঘর ভাড়া করে নিজের নামে মহিলা ক্যাডেট কলেজের সাইনবোর্ড টাঙিয়েছেন আব্দুস সালাম বিশ্বাস। ইতোমধ্যে একাদশ শ্রেণিতে ছাত্রী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। কিন্তু সহকারী অধ্যাপক হলেও তাঁর নিজেকে অধ্যাপক পরিচয় দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানে ভুয়া ইআইআইএন ব্যবহারের বিষয়টি স্থানীয় সচেতন মহলের নজরে আসায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে তিনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলে মনে করছেন তাঁরা।
প্রফেসর আব্দুস সালাম মহিলা ক্যাডেট কলেজের সাইনবোর্ডে কলেজ কোড হিসেবে ইআইআইএন লেখা আছে- ১২৫৭৯৭। ওই নম্বর দিয়ে সার্চ দিলে সুজানগর উপজেলার রানীনগর বিলগাজনা স্কুল অ্যান্ড কলেজের নাম আসে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস বা ইউএনওর কার্যালয় থেকে অনুমোদন না নিয়ে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।
সাঁথিয়ার জোড়গাছা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক রাশেদ সালাহ উদ্দিন বাবু বলেন, সর্বশেষ শিক্ষা নীতিমালা ২০২১ অনুযায়ী বেসরকারি কলেজে প্রফেসর বা অধ্যাপক পদ বলতে কিছু নেই। আমরা বেসরকারি কলেজের শিক্ষকরা সর্বোচ্চ সহকারী অধ্যাপক পর্যন্ত পদোন্নতি পাই। সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন কেবল সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
ব্যক্তি নামে মহিলা ক্যাডেট কলেজ পরিচয়ে ব্যবহারেও আপত্তি জানিয়েছেন অনেকে। সাঁথিয়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক শহিদুল্লাহ সরকার জানান, তাঁর জানামতে বাংলাদেশে মহিলা ক্যাডেট কলেজ আছে মাত্র তিনটি। ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ, জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ। ক্যাডেট কলেজ কোনো ব্যক্তির নামে হয় কিনা, সেটি তাঁর জানা নেই।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুস সালাম বিশ্বাস বলেন, কলেজের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর নাম ব্যবহার করে আত্মীয়স্বজন কলেজটি করেছেন। কলেজের ভর্তি কার্যক্রমের জন্য রানীনগর বিলগাজনা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইআইআইএন তাঁরা ব্যবহার করেছেন।
সাঁথিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বিশ্বাস জানান, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করতে গেলে মাধ্যমিক অফিসের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তাদের সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক এ বিষয়ে কোনো পরামর্শ এবং আবেদন করেননি। এ ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করতে হলে সংশ্নিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কমকর্তার কার্যালয় থেকে প্রত্যয়নপত্র এবং সংশ্নিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে লোকেশন সনদ নিতে হয়। তিনি কোন প্রক্রিয়া মেনে প্রতিষ্ঠানটি করলেন, বিষয়টি তাঁদের বোধগম্য নয়।
এ বিষয়ে বেড়া ইউএনও সবুর আলী জানান, বিষয়টি তিনি অবগত ছিলেন না। খোঁজ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০২/০২/২৩
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
