মেহেদী হাসানঃ বাংলাদেশে কয়েক ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং এর মধ্যে বিভিন্ন ধারা-উপধারা বিদ্যমান। দেশে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা।
সাধারণ শিক্ষার মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রেজিভুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, এমপিওভুক্ত, প্রাইভেট স্কুল, এনজিওচালিত বিভিন্ন স্কুল, ক্যাডেট, ইংলিশ মিডিয়াম, ভোকেশনাল ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আবার মাদ্রাসায় আলিয়া, কওমি, হাফেজি, নুরানি, ফোরকানিয়া, প্রাইভেট, ভোকেশনালসহ নানা ফরম্যাটে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু আছে।
যত প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করলাম বেশিরভাগেরই দর্শন, শিক্ষাক্রম, পাঠদান ব্যবস্থা, মূল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষক, পরিবেশে ভিন্নতা রয়েছে। অর্থাৎ একই ক্লাসের শিক্ষার্থী সরকারি স্কুলে এক রকম, মাদ্রাসায় আরেক রকম, প্রাইভেট স্কুলে এক ধরনের, আবার ইংলিশ মিডিয়ামে আরেক ধরনের শিক্ষা গ্রহণ করছে। স্বাভাবিকভাবে তারা ভিন্ন চিন্তা, দর্শন, বিশ্বাস নিয়ে বড় হচ্ছে। কারও মনে পাশ্চাত্যের লাল-নীল স্বপ্নের ঝড় বয়ে যায়। কেউ বা নিজেকে মরুভূমির বালুকণায় হারায়।
ফলে জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠেনি। জাতির স্বার্থে কোনো বিষয়ে সবাই একসঙ্গে সংহতি প্রকাশ করার মতো সক্ষমতা আমাদের তৈরি হয়নি।
এই যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষার্থী- অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে, ইংলিশ মিডিয়াম বা তথাকথিত নামকরা স্কুলগুলোয় উচ্চবিত্ত বা ধনিক শ্রেণির সন্তানরা পড়ে আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বা মাদ্রাসাগুলোতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। আরেকটি অংশ শিক্ষার সুযোগই পাচ্ছে না। তাদের কথা আজ আর আলোচনা না করি।
এখন সরকার চাইলেও অন্য সব স্কুল বন্ধ করতে পারবে না। কারণ, ছেলেমেয়েরা পড়বে কোথায়? সরকার এত স্কুল নিজেও চালাতে পারবে না। যেগুলো সরকারি ব্যবস্থাপনায়, সেগুলোই বেহাল। সরকার বা শিক্ষাসংশ্নিষ্ট কারও ছেলেমেয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে- এ রকম দু-একজনও খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ।
যাই হোক, সবার শিক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। শিক্ষা কোনো করুণা বা দয়া না। শিক্ষা সবার অধিকার। স্বাধীনতার এত বছর পরও এই বৈষম্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থার অবসান না হওয়া জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জার। বাংলাদেশে অনেক উন্নয়নমূলক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া এসব হয়তো রডের বদলে বাঁশ দিয়ে তৈরি বিল্ডিংয়ের মতো হবে। তবুও বিশ্বাস, একদিন দেশে বৈষম্যহীন শিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। সেদিন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া- সব জায়গার শিশু একই গুণ ও মানের শিক্ষা পাবে। তারা বড় হবে দেশের তরে, দেশের জন্য। তারা হবে সৎ ও নির্ভীক; সাহসী ও দেশপ্রেমিক এবং দক্ষ ও কর্মঠ।
শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২৮/২৩
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
