১০ ও ১১ গ্রেডের দাবিতে প্রাথমিকে আজ পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালিত হচ্ছে

নিউজ ডেস্ক।।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের আহ্বানে সারা দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় নোয়াখালী জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও সহকারি শিক্ষকগণের ১১ তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের ১০ গ্রেডে বেতন ভাতাদি ঘোষণার দাবীতে কর্মবিরতির ৪র্থ দিবসে অদ্য ১৭ অক্টোবর পূর্ণদিবস স্বতঃফূর্ততার সাথে বিদ্যালয়গুলোতে কর্মবিরতি পালিত হচ্ছে ।

ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে প্রাথমিক শিক্ষকরা ২০১৪ খ্রিঃ থেকেই নিজেদের সামজিক মর্যাদা বৃদ্ধির, সম্মানজনক অবস্থানে নিজেদের পৌঁছাতে এ একই দাবীতে বিভিন্ন সময় মানবন্ধন, অনশন, গোলটেবিল বৈঠক, আলোচনাসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছিলেন । এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের নোয়াখালী জেলার মূখপাত্র মোহাম্মদ নাছিম ফারুকী শিক্ষা বার্তা ডটকে জানান দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় প্রাথমিক শিক্ষকরা আন্দোলন কর্মসুচি পালনের পরেও অগ্রগতি পরিলক্ষিত না হওয়ায় ২০১৭ খ্রিঃ বিদ্যালয় শীতকালীন বন্ধে নিজেদের রুটি রুজি সম্মানজনক বন্দোবস্তের আশা নিয়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ঢাকায় লক্ষাধিক শিক্ষক ভাই-বোনসহ আমরণ অনশণে অংশগ্রহন করেছিলাম আমরা।

২৫ ডিসেম্বর তারিখে তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার মহোদয় অচিরেই চাহিত বেতন বৈষম্য দূরকরণ করবেন আলোচনার ভিত্তিতে, সেই আশ্বাসে অনশনরত শিক্ষকরা বিশ্বাস নিয়ে বাড়ি ফিরে বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষায় কাজে নেমে পড়েন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ আাওয়ামীলীগ দলীয় নির্বাচনী ইশতিহারেও প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতনে বৈষম্যে বিষয়টি অন্তর্ভুক্তকরণ করে আশ্বস্ত করেছিলেন এবং মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ভয়েস কলে সে বিষয়টি পূর্ণ আশ্বস্ত করেছিলেন ।

 

কিস্তু সরকার গঠনের দীর্ঘ সময় পার হলেও দাবীটির বিষয়ে অদৃশ্য কারণে দৃশ্যমান তেমন কোন অগ্রগতি নেই। যার প্রক্ষিতে উপায়ান্তর না পেয়ে আমরা প্রাথমিক শিক্ষকরা আন্দোলনের কর্মসূচীতে, পৃথিবীর এমন কোন দেশ নেই যেখানে শিক্ষকরা আত্মমর্যদা রক্ষায় এত দীর্ঘসময় ধরে আন্দোলন- কর্মসূচী পালন করতে হয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষক সম্প্রদায়ের মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিতে হবে তবেই উচ্চ শিক্ষিত মেধাবীরা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে চাকুরী নিয়ে স্থিরতার সাথে কাজ করবে।

কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনায় নিয়ে এসে যৌক্তিক দাবী প্রধান শিক্ষকের ১০ ও সহকারি শিক্ষকগণের ১১ তম গ্রেড বেতনস্কেল ঘোষনা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন এমনটিই আমরা বিশ্বাস করি। শিক্ষা বার্তা ডটকমকে ঐক্য পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন সারা বছর আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেদের উপর অর্পিত দায়িত্ব আন্তরিকতার সাথে পালন করে আসছে । কিন্তু যখন শিক্ষক সমাজ নিজেদের সামাজিক অবস্থান সুদৃঢ় করতে কর্মবিরতির কর্মসূচিতে তখন রক্তচক্ষু দেখিয়ে, পরিপত্র জারি করে সেই কর্মসূচীকে বন্ধ করে দিতে চাচ্ছেন!

স্তব্ধ করে দিতেন যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর দেয়া স্বাধীন মতামত প্রকাশের মৌলিক অধিকার বাক স্বাধীনতাকে। অনেক ক্ষেত্র স্থানীয় কর্মকর্তারা উর্ব্ধতন কর্তৃপক্ষকে কর্মসূচী পালিত হচ্ছেনা মর্মে অসত্য তথ্য সরবরাহ করছেন যা প্রাথমিক শিক্ষকদের ন্যয্য আন্দোলনের সুফল পেতে সমস্যার সৃষ্টি করছে। সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করে নেতৃবৃন্দ জানান আগামি দিন গুলোতে কর্মসূচী আরো কঠিন ও কঠোরতম হিসেবে পালন করতে বাধ্য হবো আমরা যদি কাক্ষিত দাবী পূরণ না হয় ।

আগামি ২৩ অক্টোবর ঢাকায় মহাবেশ কর্মসূচীতে সকল শিক্ষক ঢাকায় উপস্থিতির মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১০ ও ১১ তম বেতনস্কেলের ঘোষনা নিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠদান কাজে প্রবেশ করবেন এ প্রত্যাশা সকল শিক্ষক করে।

বিগত ৩দিনের কর্মবিরতির কর্মসুচি সফলভাবে পালন করার জন্যে সকল শিক্ষককে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে দাবী আদায়ে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতার হাতি বাড়িয়ে দেয়ার জন্য ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আবুল কাশেম উদাত্ত আহবান জানান।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.