‘বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদকে মারার সময় সে পানি খেতে চেয়েছিল; কিন্তু তাকে সেই সময় পানি খেতেও দেওয়া হয়নি। আমরা ভাইদের বলেছিলাম হাসপাতালে নিয়ে যাইতে, ভাইরা নিতে দেয় নাই। আবরার বমি করে।’ বুধবার আদালতে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিল আবরার হত্যার অন্যতম আসামি নাজমুস সাদাত। গতকাল রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে আসামি এএসএম নাজমুস সাদাতের পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিচারক জানতে চান তার কিছু বলার আছে কি না? এ সময় বিচারকের প্রশ্নের উত্তরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যা মামলার আসামি এএসএম নাজমুস সাদাত বলে, স্যার, আমি বড়ভাইদের কথায় আবরারকে তার রুম থেকে ডেকে আনি।
পরে বড়ভাই অনিক, সকাল, মুজাহিদ, রবিন ও মনির রুমের মধ্যে আবরারকে দফায় দফায় মারে। এক সময় স্টাম্প দিয়ে আবরারকে প্রচন্ড পেটাতে থাকে অনিক। তখন রুমে উপস্থিত অন্যরা ভয় পেয়ে যায়। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আবরারকে পেটায় অনিক। তার মারের পরই আবরারের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। আবরার পানি খাইতে চাইলে পানি দেওয়া হয় নাই। আমি আবরারকে মারিনি। আমি রাত সাড়ে ১২টার দিকে রুম থেকে চলে আসি। এরপর কী হয়েছে তা আমি জানি না।
পরে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভ‚ইয়া আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুুর করেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মো. ওয়াহিদুজ্জামান আসামি সাদাতকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আবরার হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১৫ নম্বর আসামি সাদাত। এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে আসামি সাদাত সরাসরি জড়িত।
মামলার তদন্ত, সাক্ষ্য প্রমাণে, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় তার জড়িত থাকা সম্পর্কে যথেষ্ট সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ইতঃপূর্বে এই মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিকারীদের মধ্যে কয়েক আসামি জবানবন্দিতে আসামি সাদাতের জড়িত মর্মে নাম প্রকাশ করেছে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
জানা গেছে, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এএসএম নাজমুস সাদাতকে দিনাজপুরের বিরামপুর থানার কাঠলা থেকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করে ডিবি। বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাদাত হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিল। সাদাতের বাবার নাম হাফিজুর রহমান। তাদের গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাটের কালাই থানার কালাই উত্তরপাড়ায়। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক ছিল।
ডিবির মামলা তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আবরার হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর ১৬ জন এজাহারভুক্ত আসামি। বাকি চারজন এজাহারবহির্ভুত। এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে তিনজন এখনও গ্রেফতার হয়নি। তারা হলোÑ মো. জিসান, মো. মোর্শেদ ও মো. তানিম। তারা সবাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আবরার হত্যাকান্ডে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আদালতে সাতজন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা হলো বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, বুয়েটের ছাত্র ইফতি মোশাররফ সকাল, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, অনিক সরকার, মো. মোজাহিদুর, মনিরুজ্জামান মনির ও এএসএম নাজমুস সাদাত।
গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগের নেতারা ডেকে নেয় আবরার ফাহাদকে। তারা আবরারকে শিবির সন্দেহে প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে পেটায়। পরে আবরারকে হলের নিচতলার সিঁড়ি নিচে রেখে দেয়। আবরার নিহতের ঘটনায় তার বাবা চকবাজার থানায় ১৯ জনের নামে বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে ১৯ আসামিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করা হয়।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
