মাদরাসার প্রশাসনিক পদে জেনারেল শিক্ষকদের আবেদনের সুযোগ দিন

মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন।।

অধ্যক্ষ বা সুপারিন্টেনডেন্টের কাজ ইমামতি বা মিলাদ পড়া নয়। একজন অধ্যক্ষ বা সুপারকে মাওলানা হতেই হবে এমন কোন কথা বর্তমানে প্রযোজ্য হওয়ার কথা নয়। একটি প্রতিষ্ঠান সঠিক ভাবে পরিচালনা করাই একজন প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রধান দায়িত্ব। অনুসন্ধানে জানা গেছে দেশব্যাপী বেশ কিছু মাদরাসা রয়েছে যার প্রধান একজন নারী। যারা অত্যন্ত সুনামের সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

আমি নারী বিদ্বেষী নই। নারীদেরকে হেয় করাও আমার উদ্দেশ্য নয়। নারীর প্রতিষ্ঠান প্রধান হওয়ার প্রসঙ্গটা আনার উদ্দেশ্য হলো এ কথাটি বুঝানো যে, যুগ এখন অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। এমন একটা সময় ছিল যখন মাদরাসায় মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগও তেমন একটা ছিলনা। আর এখন সেই মাদরাসার পরিচালনায় আসছে নারী। নারী যদি একটা মাদরাসার প্রধান হয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে পারে, তবে একজন জেনারেল শিক্ষক মাদরাসা প্রধান হতে অসুবিধা কোথায়?

প্রশাসনিক পদে যারা থাকেন তাদের প্রধান কাজ হলো, প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দিকটি দেখাশোনা করা। বর্তমান নিয়মে মাদরাসার প্রধান হন আরবী শিক্ষিত মাওলানাগন। তারা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি যদি কিছু ক্লাশ নিয়ে থাকেন তাহলে তারা শুধু আরবী বিষয় গুলোর উপরেই ক্লাশ নিয়ে থাকেন। অথচ বর্তমানে মাদরাসার সিলেবাসে প্রায় অর্ধেকটাই জেনারেল সাবজেক্ট। এ ক্ষেত্রে যদি দেশের নামকরা বিশ্ব বিদ্যালয় গুলো থেকে অনার্স মাস্টার্স পাশ করা জেনারেল শিক্ষিতরা প্রতিষ্ঠান প্রধান হন, তাহলে তাদেরও জেনারেক সাবজেক্টের উপর ক্লাশ নেয়ার সুযোগ রয়েছে।

বর্তমানে মাদরাসা বোর্ড, কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সহ অনেক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আছে যার পরিচালনায় রয়েছেন জেনারেল শিক্ষিত লোকজন।

তাই এখন সময় এসেছে পরিবর্তনের। নারী যেমন মাদরাসার প্রধান হিসেবে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছেন, জেনারেল শিক্ষকরাও তেমনি যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবেন। তাই উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন, মাদরাসার প্রশাসনিক পদে জেনারেল শিক্ষকদের আবেদনের সুযোগ দিয়ে তাদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখার সুযোগ দিন।
লেখক:
প্রভাষক, জিরাইল আজিজিয়া ফাজিল মাদরাসা
বাকেরগঞ্জ,বরিশাল।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.