এইমাত্র পাওয়া

অন্যের সন্তান দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে শিক্ষিকা

নিউজ ডেস্ক।।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে অন্যের সন্তান দেখিয়ে ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলেয়া সালমা শাপলা নামের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।

আলেয়া নাগেশ্বরী উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের মুনিয়ারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সন্তান জন্ম না দিয়েও মাতৃকালীন ছুটি নিয়ে চলতি বছরের ১৪ মার্চ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষিকা বগুড়ায় তার স্বামীর বাড়িতে রয়েছেন। তিনি। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর তার ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাদিজা সুলতানা, উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী ও হিসাবরক্ষক আজিজার রহমান, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মো. নওশাদ আলীর যোগসাজশে প্রতিবেশীর সন্তান দেখিয়ে ওই শিক্ষিকা ছুটি নিয়েছেন। তবে অভিযুক্তদের প্রত্যেকে এসব অস্বীকার করেছেন।

জানা যায়, বদলি সূত্রে ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মুনিয়ারহাট বিদ্যালয়ে যোগদান করেন আলেয়া সালমা। ২০১৯ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার কাগইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শফি আহমেদ স্বপনকে বিয়ে করেন তিনি। এটি ওই শিক্ষিকার তৃতীয় বিয়ে। বিয়ের পর থেকে বগুড়ায় চলে যান আলেয়া সালমা। এরপর করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরও তিনি স্কুলে যাননি। এ সময় চিকিৎসাসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে ছুটি নিয়েছেন তিনি। মাঝেমধ্যে ছুটি নিতে এবং অফিসিয়াল কাজে ওই শিক্ষিকা স্কুলে আসতেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যে সন্তানকে দেখিয়ে আলেয়া সালমা ছুটি নিয়েছেন সেই শিশুর আসল মায়ের নাম শারমিন বেগম। শারমিনের স্বামীর নাম আনিছুর রহমান পাশা। তারা আলেয়ার বর্তমান স্বামীর প্রতিবেশি ও দূর সম্পর্কের আত্মীয়। মার্চে শারমিনকে বেড়ানোর কথা বলে নাগেশ্বরী নিয়ে এসে তার সন্তানকে শিক্ষা অফিসে দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি নেন ওই শিক্ষিকা।

এ বিষয়ে ওই শিশুর আসল মা শারমিন জানান, ওনার সাথে কুড়িগ্রামে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার বাচ্চাকে দেখিয়ে ছুটি নিয়েছে সেটা আমি কিভাবে বুঝবো। তার বড় মেয়ের নাম আফিফা। বয়স পাঁচ বছর। আর ছোট মেয়ের নাম আশফিয়া। মার্চ মাসে আশফিয়ার জন্ম হয়েছে।

বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নাগেশ্বরী থাকা অবস্থায় তিনি আসতেন। তবে বগুড়া যাওয়ার পর তাকে আর আসতে দেখতাম না। সন্তান হওয়ার বিষয়টি তারা শুধু শুনেছেন, দেখেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলেয়া সালমা বগুড়ার সারিন্দাকান্দি উপজেলার হাট শেরপুর ইউনিয়নের তাজুরপাড়া গ্রামের মৃত মন্টু সরদারের চতুর্থ মেয়ে। একই ইউনিয়নের বলালী গ্রামের এক সেনাসদস্যের সাথে আলেয়ার প্রথম বিয়ে হয়েছিল। ২০০৬ সালে ওই সেনাসদস্য মারা যায়। এরপর নাগেশ্বরী পৌর এলাকার বিদ্যুৎপাড়ার শহীদুল ইসলামের সাথে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। ২০১২ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি পান আলেয়া। এর চার বছরের মাথায় ২০১৬ সালে শহীদুল তাকে ডিভোর্স দেন। সর্বশেষ বগুড়ায় বর্তমান স্বামী স্বপনের সাথে তার বিয়ে হয়।

আলেয়ার প্রথম সংসারে দুটি ও দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে একটি সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় সংসারের সন্তানের বয়স আট বছর। আর বর্তমান স্বামীর ঘরে কোনো সন্তান না থাকলেও তিনি নিজেকে চার সন্তানের জননী হিসেবে দাবি করেন। তবে শিক্ষা অফিসে শুধুমাত্র তার প্রথম স্বামীর দুই সন্তানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা আছে।

আলেয়া সালমা বলেন, আমার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। করোনার সময় বাচ্চাটা পেটে আসে। এজন্য কেউ কিছু জানেন না। গত ৭ জুন ওই সন্তানটি মারা গেছে। আমার কাছে সব কাগজপত্র রেডি আছে। ১৪ তারিখে ছুটি শেষে অফিসে জমা দেবে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক খাদিজা সুলতানা কেয়া বলেন, ওই সময় সে বলেছিল তার পেটে বাচ্চা। ডাক্তারের সার্ফিফিকেট জমা দিয়েছে। তিনি কোনো অন্যায় করলে ডিপার্টমেন্ট ব্যবস্থ নেবে।

নাগেশ্বরী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলী বলেন, স্বাভাবিকভাবে যেভাবে ছুটি দেয়া হয় তাকে সেভাবে ছুটি দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকের কাগজপত্র, প্রধান শিক্ষক ও এটিও কাগজপত্র দিয়েছেন। সে আলোকে ছুটি দেয়া হয়েছে। যদি তিনি মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.