শিক্ষক কন্যা পুলিশ কর্মকর্তার আত্মহত্যা

লেনিন জাফর।।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এডিসি খন্দকার লাবণী আক্তার (৩৭) এর ঝুলন্ত অবস্থায় ও মাগুরা জেলা পুলিশের কনস্টেবল মাহমুদুল হাসান (২৩) এর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বরালিদাহ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার শফিকুল আজমের প্রথম কন্যা খুলনায় কর্মরত অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারের (এডিসি) খন্দকার লাবনী আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।তাঁর পিতা খন্দকার শফিকুল আজম ছিলেন নাকোল রাইচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ( ভারপ্রাপ্ত)।
২১ জুলাই বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার সারঙ্গদিয়া গ্রামের তাঁর নানাবাড়ি থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের লোকজন স্থানীয় শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লাবনীকে মৃত ঘোষণা করেন।

খন্দকার লাবণী আক্তার খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এডিসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই দিন আগে ছুটিতে মাগুরায় আসেন । তিনি বিসিএস ৩০ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। সে মাগুরা শ্রীপুরের সারঙ্গদিয়া গ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মরহুম আব্দুল কুদ্দুস মাস্টারের নাতনী এবং শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মোঃমাহবুবুর রহমানের ভাগিনী। মৃত্যু কালে তিনি স্বামী, পিতা -মাতা ২ ভাইসহ ২টি ফুটফুটে কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।

অপরদিকে২১ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে মাগুরা পুলিশ লাইনস থেকে এক কনস্টেবলের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ লাইনসের ব্যারাকের ছাদ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। মাহমুদুল হাসান (২৩) নামের ওই কনস্টেবলের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায়। দেড় মাস আগে তিনি মাগুরায় বদলি হয়ে আসেন। পুলিশের ধারণা, নিজ নামে ইস্যু করা অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ।

পুলিশের একটি সূত্রে জানা যায় , বদলির আগে কনস্টেবল মাহমুদুল হাসান খুলনায় কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি নিহত পুলিশ কর্মকর্তা খন্দকার লাবণীর দেহরক্ষী ছিলেন। দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো যোগসূত্র আছে কিনা সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত খন্দকার লাবণী আক্তারের বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বরালিদহ গ্রামে। তাঁর স্বামী তারেক আবদুল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ভারতের চেন্নাই এ চিকিৎসাধীন আছেন।

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, বুধবার রাত ১২টার দিকে নানার বাড়িতে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন খন্দকার লাবণী আক্তার । বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে পুলিশ কনস্টেবল মাহমুদুল হাসানের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান বলেন, মাহমুদুল হাসান ডিউটি শেষে ভোরে ব্যারাকে ফিরে ছাদে গিয়ে নিজ নামে ইস্যু করা শর্টগান দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুলির শব্দ শুনে অন্যরা গিয়ে তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর থুতনি দিয়ে গুলি ঢুকে মাথা ভেদ করে। তবে কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তা এখনো জানা যায়নি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.