এইমাত্র পাওয়া

অর্জন-বিসর্জনের উৎসব ঈদুল আজহা

নিউজ ডেস্ক।।

মুসলিম বিশ্বের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা আজ (১০ জুলাই)। বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় উৎসবের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবে। সামর্থ্যবান মুসলমানরা ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে পশু কোরবানি করবেন। ঈদুল আজহা মুসলিম জাতির কোরবানি-উৎসর্গ-বিসর্জনের দিন। অথচ এ দিনই আবার প্রকৃত ঈদের আনন্দ-উৎসবের দিন। ত্যাগেই সুখ, ভোগে নয়। বিসর্জনেই প্রতিষ্ঠা, উৎসর্গেই সাফল্য, নিবেদনেই আনন্দ।

গতবারের মতো এবারও করোনার বিস্তার রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপন করবেন মুসলমানরা। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস রোধে ধর্ম মন্ত্রণালয় এবারও ৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। এ ছাড়া এবার কোরবানির ঈদ এমন এক সময় এলো, যখন দেশের একটি অংশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী বন্যাদুর্গত হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। তাই সারাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রার্থনায় থাকবে সবার সুখ-শান্তি কামনা।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানদের আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, মহান আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা। ‘আজহা’ অর্থ কুরবানি বা উৎসর্গ করা। ঈদুল আজহা উৎসবের সাথে মিশে আছে চরম ত্যাগ ও প্রভুপ্রেমের পরাকাষ্ঠা। মহান আল্লাহর নির্দেশে স্বীয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) কে কুরবানি করতে উদ্যত হয়ে হযরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর প্রতি অগাধ ভালোবাসা, অবিচল আনুগত্য ও অসীম আত্মত্যাগের যে সুমহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা ইতিহাসে অতুলনীয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কুরবানি আমাদের মাঝে আত্মদান ও আত্মত্যাগের মানসিকতা সঞ্চারিত করে। আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মনোভাব ও সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে পবিত্র ঈদুল আজহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কাজে অংশ নিয়ে বৈষম্যহীন, সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি প্রতিবারের মতো এবারও ঈদ ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলের জীবনে সুখ ও আনন্দের বার্তা বয়ে আনবে।’

এবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনে কোনও ধরনের আলোকসজ্জা না করার নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া করোনা সংক্রমণ রোধে মাস্ক পরিধান, নিজ নিজ বাসা থেকে অজু করে ঈদগাহে প্রবেশ এবং মসজিদ বা ঈদগাহের অজুখানায় সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ঈদের দিন রাত ১০টার মধ্যে পশুর বর্জ্য অপসারণে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। এ ছাড়া সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়। দ্বিতীয়টি সকাল ৮টায়, তৃতীয়টি সকাল ৯টায়, চতুর্থটি সকাল ১০টায় এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত হবে বেলা পৌনে ১১টায়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.