নিজস্ব প্রতিবেদক।।
পবিত্র হজ পালনে প্রথম দফা দেড় লাখ টাকা খরচ বাড়ার পর আরো ৫৯ হাজার বাড়াল সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো: ফরিদুল হক খান। এর আগে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং বাড়তি এ খরচ অনুমোদন দেয়া হয়। ফলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-১ এ ব্যয় দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৮৬ হাজার ৩৪০ টাকা এবং দ্বিতীয় প্যাকেজে দাঁড়াল পাঁচ লাখ ২১ হাজার ১৫০ টাকা। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনি¤œ প্যাকেজ হলো পাঁচ লাখ ২২ হাজার ৭৪৪ টাকা।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে হজের জন্য প্যাকেজ-১ এ খরচ ধরা হয় চার লাখ ২৫ হাজার টাকা, প্যাকেজ-২ এ ৩ লাখ ৬০ হাজার এবং প্যাকেজ-৩ এ ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। তবে গত ১১ মে হজ প্যাকেজ ঘোষণাকালে প্রতিটি প্যাকেজে এক থেকে দেড় লাখ টাকা বৃদ্ধি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাড়তি ৫৯ হাজার টাকা হাজীদের ২৮ থেকে ৩০ মের মধ্যে ব্যাংকে পরিশোধ করতে হবে। এ জন্য তফসিলি ব্যাংক আগামীকাল শনিবার খোলা রাখার জন্য বলা হয়েছে।
সৌদি সরকার মোয়াল্লেম ফি বাড়ানোর কারণে এ খরচ বেড়েছে জানিয়ে ফরিদুল হক খান বলেন, ‘প্যাকেজ ঘোষণার পর সৌদি সরকার অতিরিক্ত কোনো চার্জ আরোপ করলে তা প্যাকেজ মূল্য হিসেবে গণ্য হবে এবং হজযাত্রীকে তা পরিশোধ করতে হবে। একইসাথে কোনো অর্থ অব্যয়িত থাকলে তা হাজীদের ফেরত প্রদান করা হবে’ এ শর্তে গত ১১ মে হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে সৌদি সরকার হজের ঘোষণায় বিলম্বের জন্য এবং সৌদি আরব থেকে প্রকৃত খরচের বিবরণী না পাওয়ায় সম্ভাব্য ব্যয় বিবেচনা করে প্রভিশনাল হজ প্যাকেজ প্রস্তুত করা হয়েছিল।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, গত ২৫ মে সৌদি কর্তৃপক্ষ মিনায় অবস্থান স্থলের ভিত্তিতে ৪ ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করে চার ধাপের ব্যয়ের বিবরণ নির্ধারণ করে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ব্যয়ের ধাপ ডি ও সি প্রকাশ করেছে। ওই তথ্যানুযায়ী মোয়াল্লেম ফি ‘সি’ অনুসারে ৮ হাজার ৬৪০ সৌদি রিয়াল এবং ‘ডি’ অনুসারে ৭ হাজার ৪৯০ রিয়াল ধার্য করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে মোয়াল্লেম ফি ‘সি’ অনুসারে এক লাখ ৫ হাজার ৫৯৭ টাকা এবং ‘ডি’ অনুসারে ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা বৃদ্ধি পায়। তবে উন্নতমানের বাস সার্ভিস, ট্রেন ভাড়া এবং বাড়িভাড়া থেকে উভয় প্যাকেজে কিছু অর্থ সাশ্রয় করা গেছে। এ সাশ্রয় এবং বাংলাদেশের হজযাত্রীদের আর্থসামাজিক অবস্থা ও হজযাত্রীদের প্রতি বর্তমান সরকারের সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে আমরা উভয় প্যাকেজে সৌদি আরবে আবশ্যকীয় ব্যয় ৫৯ হাজার টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
খরচ সাড়ে ৭৪ হাজার ও এক লাখ ৫ হাজার টাকা বাড়লেও আপনারা কম বাড়ালেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য খাতের ব্যয় অ্যাডজাস্ট করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ব্যয় কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকার খরচ কমাতে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বাতিল করেছে সেক্ষেত্রে এবার রাষ্ট্রীয় খরচে সাধারণ মানুষকে হজে পাঠানো হবে কি না? এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ফরিদুল হক খান বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব এখতিয়ার। তবে এখনো এ ধরনের কোনো বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত জানাননি।
সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাবের সভাপতি এম শাহাদত হোসাইন তসলিম বলেন, নতুন নির্ধারিত অতিরিক্ত ৫৯ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হজযাত্রীদের কষ্ট হবে। তবে বেসরকারি এজেন্সিগুলো সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করবে।
এদিকে বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এখনো মোনাজ্জেম ভিসা না হওয়ায় সৌদিতে বাড়ি ভাড়া করা সম্ভব হয়নি। সেখানে বাড়ি ভাড়া অনেক বাড়তে পারে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। এতে খরচ আরো বেড়ে যেতে পারে। ফলে হজযাত্রীদের ভোগান্তির কোনো শেষ থাকবে না। এতে এজেন্সিগুলো হাজীদের অনেক দূরের বাড়িতে রাখার পরিকল্পনা করতে পারে।
হজ ফ্লাইট এক মাস : সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ৫ জুন থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে। চলবে ৩ জুলাই পর্যন্ত। ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ১৪ জুলাই থেকে। শেষ ১৪ আগস্টে।
প্রতিস্থাপনের সময় বৃদ্ধি : হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের জন্য সময় বাড়িয়েছে সরকার। গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ৩১ মে পর্যন্ত হজযাত্রী প্রতিস্থাপন করা যাবে। এর আগে ২৬ মে পর্যন্ত প্রতিস্থাপনের সময় দেয়া হয়েছিল।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
