মোয়াজ্জেম হোসেন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি।।
তেল ছাড়া কিভাবে রান্না করা যায় তা শিখাইয়া দেন, আর পারছিনা। সারাদিন রিকশা চালাইয়া যা পাই তার সবটুকু দিয়ে ১লিটার তেল কিনলে অন্য সদায় করমু কেমনে? আক্ষেপের সাথে কথাগুলো বলছিলেন কলাপাড়া নীলগঞ্জ ইউপির আবাসনের বাসিন্দা ষাটোর্ধ ভ্যান চালক দুলাল হাওলাদার। তিনি আরও বলেন, ৩টি পোলা আছে, তারা বিয়া কইরা বউ নিয়া আলাদা থাকে।
এই বুড়া বয়সে ভ্যান চালাইয়া রোজগার করতে হয়। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এতো বেড়েছে যে এখন স্ত্রীকে নিয়ে তিন বেলা খাবার যোগাইতে কষ্ট হয়। বৃহস্পতিবার সকালে কলাপাড়া পৌর শহরের ফেরিঘাট এলাকায় সাংবাদিকদের সাথে আক্ষেপ প্রকাশ করেন এই বৃদ্ধ ভ্যান চালক। তিনি আরও বলেন, ৬৫ বছর বয়সেও বয়স্ক ভাতাসহ কোন কিছুই পাই নাই।
এদিকে কলাপাড়ায় বোতলজাত ভোজ্য (সয়াবিন) তেলের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আর খোলা বাজারে তেল বিক্রি হচ্ছে ২’শ ১০ থেকে ২২০ টাকা দরে। যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি। ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় এ তেল কিনতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। তবে অনেকেই বলছেন বোতলজাত তেলের কৌটা ভেঙ্গে বের করে তা খোলা তেল হিসেবে বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। আর এতেই বাজারে বোতলজাত তেলের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক দোকান ঘুরে বোতল ভর্তি মোড়ক লাগানো কোন তেল খুঁজে পাওয়া যায়নি।
দুই একটা দোকানে তেল ভর্তি বোতলের দেখা মিললেও তার দাম হাকাচ্ছেন একটু বেশি। সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরের শতাধিক মুদি দোকানে বোতলজাত তেলের সঙ্কট রয়েছে। এসব দোকানীরা বলছেন, তেলের মূল্য নির্ধারণের পর বোতলজাত তেল অনেকটাই বাজার থেকে উধাউ হয়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকার এক মুদি ব্যবসায়ী জানান, বোতলজাত তেলের মোড়কে মূল্য নির্ধারণ করা রয়েছে।
মূলত এই কারণে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী বোতল ভেঙ্গে খোলা তেল বিক্রি করছে অন্তত ২০ টাকা বেশি দরে। এর ফলেই বাজার থেকে বোতলজাত তেল উধাউ হয়ে গেছে। এদিকে পৌর শহরের এতিমখানা এলাকাসহ বিভিন্ন অলিগলিতে খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে ২’শ ২০ টাকা দরে। আর মাছবাজার সংলগ্ন অনেক দোকানেই খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে ২’শ ১০ টাকা দরে।
পৌর শহরের সবজিবাজার সংলগ্ন মুদি দোকানী শংকর দাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেনা ২’শ টাকার উপরে বিক্রি করবো কত? স্থানীয় মহাজন, রাধা কান্ত দাস জানান, গত ৫দিন ধরে তার প্রতিষ্ঠান থেকে একজন দোকানীকেও তেল দিতে পারেননি। বোতলজাত তেলের চরম সঙ্কট থাকায় তাদের মহাজনী দোকান থেকে খুচরা দোকানে পাইকারী তেল বিক্রি করতে পারছেন না। আবার মহাজনেরা তেলের সাথে চা পাতা, মসলা ধরিয়ে দেয়। এসব পণ্য না আনলে তেল দেয়না।
এদিকে ভুক্তভোগী সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স এন্ড বনষ্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন’র সচিব স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে খোলা তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১’শ ৮০ টাকা। কিন্তু প্রায় প্রতিটা দোকানেই খোলা তেলের দাম রাখা হচ্ছে ২’শ টাকারও অনেক ঊর্ধ্বে। ক্রেতারা বলছেন, সমস্ত বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রি হচ্ছে কেন। আর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং কিবাং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেই বা কেন ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না।
এবিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)আবু হাসনাত মো.শহীদুল হক বলেন, ব্যবস্থা গ্রহনে সরকারী ভাবে এখনও কোন চিঠি হাতে এসে পৌঁছায়নি। চিঠি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
