হজ প্যাকেজ ঘোষণা আজ, বাড়ছে খরচ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

হজ পালনের প্রতি প্যাকেজে এবার প্রায় এক লাখ টাকা করে খরচ বাড়তে পারে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ। এবার হজ পালনে প্যাকেজ-১ এ ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা আর সর্বশেষ ঘোষিত প্যাকেজ ছিল চার লাখ ২৫ হাজার টাকা। প্যাকেজ-২ এ চার লাখ ৬০ হাজার টাকা; যা এর আগে ছিল তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা। এতে প্যাকেজ-১ এ ৯৫ হাজার এবং প্যাকেজ-২ এ এক লাখ টাকা বেশি খরচ প্রস্তাব করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সংশ্নিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তবে সৌদি আরবের মোয়াল্লেম (যিনি হজের সময় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন) ফি ও অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ এখনও জানা যায়নি। আজ বুধবার বৈঠকের আগ পর্যন্ত সৌদি সরকার তাদের খরচ না জানালে নির্বাহী কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে হজের এ খরচ চূড়ান্ত করা হবে। সৌদি সরকার তাদের মোয়াল্লেম ফি ও অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ কম ধরলে হজের খরচ কিছুটা কমতে পারে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ গমনেচ্ছুদের প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে আজ বুধবার। এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে হজ প্যাকেজ অনুমোদন দেওয়া হলেও এবার প্রথম হজ ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদন দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো তিন ধরনের প্যাকেজ প্রস্তাব করেছিল ধর্ম মন্ত্রণালয়। তখন নতুন প্যাকেজ-৩ এর ব্যয় ধরা হয় তিন লাখ ১৫ হাজার টাকা। এবার শুধু দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। সচিবালয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। করোনা মহামারির কারণে ২০২০ এবং ২০২১ সালে কোনো হজযাত্রী সৌদি আরবে যেতে পারেননি। ২০২০ সালে হজ প্যাকেজ ঘোষণা করার পরও বাংলাদেশ থেকে হজ করতে যেতে পারেননি এক লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান সমকালকে বলেন, হজ ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটির সভায় হজ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করা হবে। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা সাংবাদিকদের জানানো হবে। সৌদি সরকারের খরচের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে এবার হজ ফ্লাইট শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ধরা হয়েছে আগামী ৩১ মে। তবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ৩১ মের মধ্যে প্রথম হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা ও হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) নেতারা। এ বছর হাজিদের বিমান ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। ২০১৯ সালে বিমান ভাড়া ছিল এক লাখ ২৮ হাজার টাকা। বিমান ভাড়া ১২ হাজার টাকা বেশি ধরা হয়েছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় হজযাত্রীদের বিমান ভাড়ার প্রস্তাব করেছিল এক লাখ ২৫ হাজার টাকা। বিমান ভাড়া কমানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন হাব নেতারা।

হজের ব্যয় বাড়ছে প্রতিবছরই :সাত বছরের তথ্য বিশ্নেষণে দেখা গেছে, হজের ব্যয় বাড়ছে প্রতিবছরই। ২০২০ সালে সরকারের সর্বশেষ ঘোষিত হজ প্যাকেজ-১ ছিল চার লাখ ২৫ হাজার টাকা, প্যাকেজ-২ ছিল তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং প্যাকেজ-৩ ছিল তিন লাখ ১৫ হাজার টাকা। ২০১৯ সালের প্যাকেজ-১ ছিল চার লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা, ২০২০ সালে বাড়ানো হয় সাড়ে ছয় হাজার টাকা। ২০১৯ সালে প্যাকেজ-২ ছিল তিন লাখ ৪৪ হাজার টাকা, ২০২০ সালে বেড়েছে ১৬ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে প্যাকেজ-১ ছিল তিন লাখ ৯৭ হাজার ৯২৯ টাকা। প্যাকেজ-২ এ তিন লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ টাকা। এর আগে ২০১৭ সালে প্যাকেজ-১ ছিল তিন লাখ ৮১ হাজার ৫০৮ টাকা, ২০১৬ সালে তিন লাখ ৬০ হাজার ২৮ টাকা এবং ২০১৫ সালে ছিল তিন লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৫ টাকা।

হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, আলোচনা করে সবার সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সৌদি সরকারের খরচের বিষয়ে তিনি বলেন, বৈঠক পর্যন্ত দেখি তারা জানায় কিনা। না জানালে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর বেসরকারি প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। প্যাকেজের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে হাব সভাপতি বলেন, সরকার যদি বাড়ায়, তাহলে আমাদের করার কী আছে। তবে সহনীয় পর্যায়ে রাখা উচিত। কারণ এদেশের অধিকাংশ হজযাত্রী নিম্ন-মধ্যবিত্ত। এ জন্য বেসরকারি প্যাকেজ আমরা বুঝেশুনে করব।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.