সূচকের বড় পতন লেনদেন ১১ মাসে সর্বনিম্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

শেষ দুই কার্যদিবস অর্থাৎ মঙ্গলবার ও বুধবার পতন থেকে রক্ষা পেলেও গতকাল রোববার বড় পতন হয়েছে শেয়ারবাজারে। এ দিন শেয়ারবাজারের সব সূচকই কমেছে। সাথে অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দরও কমেছে। কমেছে টাকার পরিমাণে লেনদেনও। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টাকার পরিমাণে লেনদেন ১১ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম হয়েছে। গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ৬৭ পয়েন্ট ও সিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ১৬৫ পয়েন্ট। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রোববার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে।

ফলে লেনদেনের প্রথম ১০ মিনিটেই ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। কিন্তু প্রথম ২০ মিনিটের লেনদেন শেষ হতেই বদলে যেতে থাকে চিত্র। বিনিয়োগকারীদের বিক্রয় আদেশের চাপে ক্রেতাশূন্য হতে থাকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান। লেনদেনের শেষ দুই ঘণ্টা এই প্রবণতা আরো বাড়ে। ফলে লেনদেনের একপর্যায়ে ১৬৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট ক্রয় আদেশের ঘর শূন্য হয়ে পড়ে। গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৭.৫৪ পয়েন্ট বা ০.৯৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৯৮.০৪ পয়েন্টে।

ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১৩ পয়েন্ট বা ০.৮৯ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২৩.৫০ পয়েন্ট বা ০.৯৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৪১.৩০ পয়েন্টে এবং দুই হাজার ৪৩৪.৯৮ পয়েন্টে। ডিএসইতে গতকাল টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৬১৬ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। ডিএসইর এ দিন লেনদেন ১১ মাস ২ দিন বা ২২২ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল গতকালের চেয়ে কম অর্থাৎ ৬০২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।

ডিএসইতে গতকাল ৩৭৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩টির বা ৬.০৭ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। দর কমেছে ৩৩৯টির বা ৮৯.৪৪ শতাংশের এবং ১৭টি বা ৪.৪৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন খরার দিনে টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ৫৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ড্রাগন সোয়েটারের ২৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

১৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ফার্মা। এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেÑ আইএফআইসি ব্যাংক, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, বিডিকম অনলাইন, নাহি অ্যালুমিনিয়াম, আমরা টেকনোলজি ও সাইফ পাওয়ার টেক। গতকাল লেনদেন শুরু হয়েছিল সূচক বেড়ে। সে সময় বেশির ভাগ শেয়ারের দর বেড়ে লেনদেন হচ্ছিল।

এর মধ্যে পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক বিভিন্ন ফেসবুক পেজে একটি জাতীয় দৈনিকের একটি সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। এতে বলা হয়, দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ বাতিল করে আগের মতোই ১০ শতাংশ করতে যাচ্ছে বিএসইসি। সকাল ১০টা ১৫ থেকে শুরু হয় দরপতন। বেলা ২টার দিনে ৭৫ পয়েন্ট পড়ে যায় সূচক। দিন শেষে আগের দিনের চেয়ে ৬৭ পয়েন্ট হারিয়ে শেষ হয় লেনদেন। শেয়ারের দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ করার পর সবচেয়ে বেশি সূচক পড়ে রোববার।

সারা দিনে কেবল একটি কোম্পানির শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৫০ কোটি টাকার বেশি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে যে কোম্পানির, সেটির শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৩০ কোটি টাকার কম। ২০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়নি আর কোনো কোম্পানির। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ হামলার পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ৮ কর্মদিবসে সূচক পড়ে ৩৮২ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। নবম দিনে ৮ মার্চ লেনদেনের শুরুতে দেড় ঘণ্টায় সূচক পড়ে আরো ১৩৭ পয়েন্ট। তখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক জেঁকে বসে।

সে সময় বিএসইসির দু’টি সিদ্ধান্তে ঘুরে দাঁড়ায় পুঁজিবাজার। পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের নির্দেশ দেয় প্রথমে। কিছুক্ষণ পর আসে দ্বিতীয় আদেশটি। জানানো হয়, এক দিনে দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ থাকলেও সর্বনিম্ন সীমা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ শতাংশ। এর পরের চার কর্মদিবসে পুঁজিবাজার ফেরে উত্থানে। সূচকে যোগ হয় ৩০৯ পয়েন্ট। তবে গত ১৪ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত সূচক বলতে গেলে একটি জায়গায় স্থির ছিল। প্রথম দিন সূচক পড়ে ১.৭৯ পয়েন্ট, পরের দিন বাড়ে ১.৫৪ পয়েন্ট, পরদিন বাড়ে ০.১১ পয়েন্ট।

এই তিন কর্মদিবসেই ৫০টিরও বেশি কোম্পানির দরপতনের সর্বোচ্চ সীমায় লেনদেন হতে দেখা দেয়, যা হয় দেড় শতাধিক। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এ দিন ১৬৫.৪৭ পয়েন্ট বা ০.৮৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬৫৫.৭১ পয়েন্টে। এ দিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৩০টির, কমেছে ২৩৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টির দর। আজ সিএসইতে ১৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.