নিজস্ব প্রতিবেদক।।
সারা দেশে তৃণমূল পর্যায়ে নিম্ন আয়ের প্রায় এক কোটি পরিবারের মধ্যে টিসিবির পণ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। করোনাকালে প্রণীত ডাটাবেজে ৩০ লাখ ৫০ হাজার পরিবারের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৬৯ লাখ ৫০ হাজার নি¤œ আয়ের মানুষ এই সুবিধা পাচ্ছেন। গতকাল রোববার থেকে উপকারভোগী এক কোটি পরিবারের কাছে এই পণ্য বিক্রির কাজ শুরু হয়েছে। এ সময় বিক্রয় কেন্দ্রের সামনে বিপুলসংখ্যক স্বল্প আয়ের মানুষের ভিড় দেখা গেছে। মানুষের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে নিরাপত্তা কর্মীদের। জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, সরকার যে পরিমাণ কার্ড দিয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়, ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নওগাঁর পোরশায় উপকারভোগীদের মধ্যে টিসিবির পণ্য বিক্রয়ের উদ্বোধন করেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকির হোসেন। প্রথম দিন গাঙ্গুরিয়া ইউনিয়নের এক হাজার ৭৬২ জন উপকারভোগীর মাঝে ২ কেজি চিনি, ২ কেজি মসুর ডাল ও ২ কেজি সোয়াবিন তেল বিক্রি করা হয়। এ সময় কার্ড না পেলেও পণ্য কিনতে কয়েক শ’ মানুষ ভিড় করে। কিন্তু কার্ড না থাকায় তাদের কাছে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। গাঙ্গুরিয়া ইউপির চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নে করোনাকালে ৮৩০ জন সরকারি সুবিধা পেয়েছিল।
এ ছাড়াও ৪০ দিনের মাটিকাটা কর্মসূচির ১৩২ জন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ১৫ জনসহ এক হাজার ৭৬২ জন ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। উপজেলা টিসিবি পণ্য বিক্রি কার্যক্রম পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও এসিল্যান্ড জাকির হোসেন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমাদেরকে প্রতিবেদন দিবেন। সেখানে যদি ফ্যামিলি কার্ড বৃদ্ধির প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিব।
সয়াবিন তেল, মসুরের ডাল ও চিনি বিক্রির মাধ্যমে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ফ্যামিলি কার্ডে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়। সকালে উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট এলাকায় পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাহবুবুর রহমান। রানীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, তার ইউনিয়নে তিন হাজার ১১৭ জন স্বল্প আয়ের মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে।
এর মধ্যে করোনাকালীন সহযোগিতা পেয়েছে প্রায় ১২শত জন। বাকিদের যুক্ত করে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। পণ্য বিক্রির প্রথম দিনে ফ্যামিলি কার্ড না পেলেও শতাধিক মানুষ পণ্য ক্রয়ের জন্য লাইনে দাঁড়ায়। কিন্তু তাদের কাছে পণ্য বিক্রি সম্ভব হয়নি।
এদিকে টিসিবি জানিয়েছে, সব ধরনের পণ্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। রাজধানী ঢাকার ১২ লাখ ও বরিশাল সিটির ৯০ হাজার নাম বাদ রেখে চূড়ান্ত করা হয়েছে ৮৭ লাখ ১০ হাজার পরিবারকে, যারা এই সহায়তা পাচ্ছে। তবে ঢাকা ও বরিশাল সিটিতে বসবাসকারী নিম্ন আয়ের নাগরিকরাও টিসিবির ট্রাক সেলের মাধ্যমে সয়াবিন তেল, চিনি, ডাল ও পেঁয়াজ পাচ্ছেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী এক কোটি পরিবারের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। করোনাকালে প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থসহায়তা বাবদ আড়াই হাজার টাকা করে পেয়েছেন দেশের মোট ৩৮ লাখ ৫০ হাজার সুবিধাভোগী পরিবার। এই সাড়ে ৩৮ লাখ পরিবারের সবাই পাচ্ছেন টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড। এর সাথে নতুন যুক্ত করা হয়েছে আরো ৬১ লাখ ৫০ হাজার পরিবার। এ কাজে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে। সুবিধাভোগী পরিবার নির্বাচিত করতে সরকারের সামাজিক বলয়ের আওতায় থাকা নিম্ন আয়ের মানুষের তালিকার বাইরেও নানা বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
২০ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রথম পর্বে এক কোটি উপকারভোগী পরিবারের মাঝে ১১০ টাকা লিটার দরে দুই লিটার সয়াবিন তেল, ৫৫ টাকা কেজি দরে দুই কেজি চিনি, ৬৫ টাকা কেজি দরে দুই কেজি মসুর ডাল বিক্রি করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে ৩ এপ্রিল থেকে এসব পণ্যের সাথে ৫০ টাকা কেজি দরে দুই কেজি ছোলা যুক্ত হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
