শিক্ষার্থীদের স্কুল মাঠে উচ্ছ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

দুই বছর পর পুরোদমে খুলেছে স্কুল। দীর্ঘ এই সময়ে প্রাথমিক স্তরের দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে মাধ্যমিকের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা নির্দেশনা মতো সীমিত পরিসরে মাঝে মধ্যে স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পেলেও প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা সেটিও পায়নি।

তবে গতকাল মঙ্গলবার ছিল স্কুলে তাদের প্রথম দিন। করোনারকালের পুরোটা সময়েই এই শিশুরা ছিল ঘরবন্দী। তাই শুধু প্রথম ক্লাসের আনন্দই নয় বরং স্কুলের খোলা মাঠে ঘরবন্দী শিক্ষার্থীদের ছিল বাধাহীন প্রাণের উচ্ছ্বাস। বইয়ের ব্যাগ হাতে ঘরের বাইরে গিয়ে তারা যেন ফিরে পেয়েছে বাধাহীন জীবনের অসীম আনন্দ। বন্ধুদের কাছে পেয়ে তারা ছিল আনন্দে আত্মহারা। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকেই করোনাভাইরাস মহামারী শুরুর পর একে একে বন্ধ হয়ে যায় দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা হয়ে পড়ে ঘরবন্দী।

কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। তবে এ সময়ে অনলাইন, টেলিভিশনসহ নানা মাধ্যমে শিক্ষাকার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা চালায় সরকার। কিন্তু তা কতটা কাজে এসেছে এ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। এ অবস্থায় শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন সবাই। দাবি ওঠে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার। তবে শুধু দাবি নয় দেশে এখন করোনার প্রাদুর্ভাব কমে আসায় এবং বেশির ভাগ করোনা প্রতিরোধী টিকার আওতায় চলে আসায় গতকাল থেকে পুরোদমে খুলে দেয়া হয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এর আগে গত সোমবার (১৪ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পুরোদমে ক্লাস শুরু করতে মূল বাধা ছিল ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের দুই ডোজ টিকা দেয়া। প্রথমে এক কোটি ২৯ লাখ শিক্ষার্থী ছিল তালিকায়। পরে আরো ১০ লাখ শিক্ষার্থী যুক্ত হয়। এ ছাড়া সংক্রমণ দুই শতাংশের আসার লক্ষ্য ছিল। সবশেষ গত রোববার করোনা শনাক্তের হার ছিল ১.৮৮ শতাংশ।

এ দিকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) সূত্র জানায়, দেশে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কোটি ৩৯ লাখ ৬৩ হাজার ৯৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এক কোটি ১০ লাখ ৬৯ হাজার জন দ্বিতীয় ডোজের আওতায় এসেছে। প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে এক কোটি ৩৬ লাখ ২০ হাজার জনকে। অন্তত ৯৮ শতাংশ প্রথম ডোজ ও ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে। এ সংখ্যা গত কয়েক দিনে আরো বেড়েছে।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলে স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে আগের সেই পুরনো রূপে ফিরেছে প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল স্কুল-কলেজের ক্যাম্পাস। তবে অনেক প্রতিষ্ঠানে দেখা গেছে পুরোদমে ক্লাস শুরু হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে গাদাগাদি করে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বসানো হয়েছে।

বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেই ছিল না হাত ধোয়া ও মাস্ক পরার কড়াকড়ি। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে ছিল গল্প আর আড্ডায় ব্যস্ত। এ ছাড়া ক্লাসের শিক্ষার্থীদেরও বিরতির সময়ে খেলাধুলা, আড্ডা, গল্প, টিফিন খাওয়ায় ব্যস্ত ছিল তারা। মতিঝিলের এক স্কুলের শিক্ষক জানান, ক্লাসে আমাদের উপস্থিতি অনেক ভালো।

প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে উঠেছে। তবে ক্লাসরুম সঙ্কট থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মানা পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না। দুই বছর পর স্কুলে এসে যেন নতুনভাবে প্রাণের স্পন্দন পেয়েছে প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা। গতকাল থেকে প্রাক-প্রাথমিক স্তরের শিশুদের ক্লাসও শুরু হয়েছে। জীবনের প্রথম ক্লাসে আসা শিক্ষার্থীদের ফুল ও বেলুন দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন ক্লাস-শিক্ষকরা।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.