এইমাত্র পাওয়া

‘বড় হচ্ছি তাই নিজের মূল্য বুঝছি’

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

টেস্ট ও ওয়ানডেতে লিটনের ব্যাটে রানের ফোয়ারা। সবশেষ নয় আন্তর্জাতিক ইনিংসে তিন সেঞ্চুরি। দুইটি পঞ্চাশ পেরুনো ইনিংস।

পাকিস্তান ও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সেঞ্চুরির পর ওয়ানডেতে আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি পেলেন। এছাড়া নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ৮৬ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫৯ রানের ইনিংসও আছে। ওয়ানডেতে তিন ইনিংস আগেই তার ব্যাট থেকে আসে ম্যাজিকাল সেঞ্চুরি। আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে তার ব্যাটে রঙ ছড়ায় ১৩৬ রানের ঝকঝকে ইনিংস। যে ইনিংসে জড়িয়ে আছে মুশফিকের সঙ্গে তার রেকর্ড ২০২ রানের জুটি।

অথচ একটা সময় নিজের অবস্থান নিয়ে কঠিন লড়াই করতে হয়েছে তাকে। বাদ পড়া, নিজেকে হারানো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রলসহ অসহ্য যন্ত্রণায় পুড়তে হয়েছে। সেই লিটনই এখন বাংলাদেশের অনেক সাফল্যের রূপকার। লিটন জানালেন, দিন যত গড়াচ্ছে নিজের ভাবনায় তত পরিবর্তন আসছে। দায়িত্বও নিতে শিখছেন তাই বাংলাদেশকে জেতাতে পারছেন।

কথার ঝাঁপি খুলে লিটন শোনালেন নিজের পরিবর্তনের গল্প। তার কথা শুনেছে রাইজিংবিডি:

ইনিংস বড় করার জন্য আপনার ও মুশফিকের জুটিটা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
লিটন: জুটিটা আসলেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ আমরা জানি যে তাদের হাতে কী ধরনের স্পিনার আছে। তাই আমি আর মুশি ভাই (মুশফিক) একটা জিনিসই আলাপ করছিলাম যে যতক্ষণ জুটিটা লম্বা করা যায়। আমরা সেট ব্যাটসম্যান ছিলাম। যত টেনে নিতে পারবো পেছনের দিকে যারা আছে তাদের জন্য সহজ হবে। যদিও পেছনের ব্যাটসম্যানরা আজকে খুব একটা সময় পায়নি। তবে যে পরিকল্পনা ছিল, আমরা সফল ছিলাম।

শুরুতে ধীরে খেলে পরে আগ্রাসন দেখিয়েছেন। আজকে কি ইচ্ছে ছিল ইনিংসটা আরেকটু বড় করার?
লিটন: জিনিসটা তেমন না। অবশ্যই ওপেনার হিসেবে আমার দায়িত্ব হলো রান করা, বড় ইনিংস খেলা। আমার প্রথম টার্গেট থাকে ৩৫ ওভার ব্যাটিং করা। আমার যে সামর্থ্য আছে, বিশ্বের যেকোনো দলের বিপক্ষে ৩৫ ওভার খেলতে পারলে অন্তত ৮০ রান করতে পারবো। ঐ জিনিসটাই আজ চেষ্টা করেছি। এভাবেই যাচ্ছিল। যখন আমি আর মুশি ভাই খেলছিলাম, জুটিটা ভালো হচ্ছিল। যখন ৪০ ওভার পার করলাম, তখন আমরা চিন্তা করলাম রান যত এগিয়ে নেওয়া যায়। কারণ তখন আমরা দুজনই সেট।

আগের ম্যাচে ফারুকি ৪ উইকেট পেয়েছিলেন নতুন বলে। তাকে নিয়ে কি পরিকল্পনা ছিল?
লিটন: সত্যিই আগেরদিন তার বোলিং খুব ভালো ছিল। আজও সে খারাপ বল করেনি। আজকেও সে শুরুতে ভালো করেছে, উইকেট থেকে অনেক সাহায্য পাচ্ছিল। আমার চিন্তা ছিল, প্রথম দশ ওভার না… ওর স্পেল যতক্ষণ আছে ততক্ষণ টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করা। কারণ, আমি জানি, ১৫-১৬ ওভার যদি খেলে ফেলা যায় তাহলে আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে যায়। উইকেট ভালো হয়ে যায়, বোলার পরিবর্তন হয়ে যায়। তখন জিনিসটা সামলে নিতে পারবো। পরিকল্পনা ছিল টেস্ট ব্যাটিং করা। টেস্টে যেভাবে আমি স্বাভাবিক শুরু করি… দশ ওভার পর্যন্ত খেলা।

ওদের স্পিনারদের বিপক্ষে ধারাবাহিক সাফল্যে পেছনে কি আপনার অ্যানালাইসিস কাজ করেছে?
লিটন: ওদের স্পিনারদের মধ্যে দুজন খুবই ভালো বোলার। মুজিব ও রশিদ। মুজিবকে আমরা পুরো বিপিএলেই খেলেছি। সেখান থেকে একটা ধারণা আছে। রশিদকেও আগে খেলার একটা অভিজ্ঞতা ছিল। ঐ অভিজ্ঞতা থেকেই আমাদের পরিকল্পনা সাজানো ছিল। যে কারণে সফল হওয়ার হার ভালো। এসব বোলারকে পরিকল্পনা করেই খেলতে হয়। আমার মনে হয়, আমি ও মুশি ভাই খুব ভালো পরিকল্পনা করে ব্যাটিং করেছি।

রশিদ-মুজিবের বিপক্ষে মাইন্ডসেটের কী পরিবর্তন হয়েছে?
লিটন: আমরা সিনিয়র হচ্ছি না (হাসি) । আমরাও তো ম্যাচ খেলে খেলে উন্নতি করছি। যেকোনো নতুন ব্যাটসম্যান যখন ক্যারিয়ার শুরু করে, এসব বোলিংয়ের বিপক্ষে খেলা তাদের জন্য কাজটা কঠিন। এখন তো আমরা যারা খেলছি আমরা সবাই… আমি ৫ বছর খেলে ফেলেছি, আফিফরা ২-৩ বছর খেলেছে… তাদের তো একটা অভিজ্ঞতা হচ্ছে ক্রিকেটের। আমার মনে হয়, এই জিনিসটা নিয়ে আমরা কেউ আর ঐভাবে চিন্তা করি না। ম্যাচে কীভাবে কাকে ব্যাটিং করবো সেই পরিকল্পনা সাজানোই মূল কাজ থাকে আমাদের।

উইকেটে থিতু হলে সেঞ্চুরির পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আপনার পরিসংখ্যান সেই কথাই বলছে…
লিটন: আমি প্রথমেই বললাম, উইকেটে চ্যালেঞ্জ ছিল। তারা যে খারাপ বল করেছে তা নয়। জিনিসটা হচ্ছে আপনি কীভাবে পরিকল্পনা করছেন। ম্যাচটাকে কীভাবে চিন্তা করছেন। আমি চাইলে হয়তো শুরুর দিকে ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে মেরে দিতে পারতাম। তাতে কী হতো? চার বা ছয়। কিন্তু সেটা হাই রিস্ক থাকতো যে একটা উইকেট চলে যাচ্ছে। এখন আমার উইকেট যাওয়া মানে তো দল চাপে পড়বে। আমার মনে হয় যে, এই জিনিসটা নিজে থেকে পরিবর্তন করা প্রত্যেক ব্যাটসম্যানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমি এ জিনিসটা নিয়ে চিন্তা করছি, ভাবনা করছি যে আমার উইকেটের একটা মূল্য আছে। নিজের মূল্যটা দিচ্ছি। আশা করি সামনেও দিতে পারবো।

এজন্য কি মানসিকতার পরিবর্তনই যথেষ্ট ছিল?
লিটন: আপনারা সেঞ্চুরি দেখছেন কিন্তু এর মাঝে কিন্তু অনেকগুলো ইনিংস আমি খারাপও খেলেছি। ক্রিকেটটাই এমনই যেটা আমি যেটা অনুভব করি। ওপেনার হিসেবে আপনি একদিন বড় ইনিংস খেলার সুযোগ পাবেন। তবে সুযোগ প্রতিদিনই থাকবে। কিন্তু আপনি একদিন বড় খেলতে পারবেন একদিন খেলতে পারবেন না। কারণ আমি যখন ম্যাচ শুরু করি তখন তাদের সেরা দুই বোলার বোলিং করেন। নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জ থাকে।

সময় যখন ভালো যায় তখন মানসিকতা কেমন থাকে?
লিটন: অনুশীলনে যে প্রক্রিয়া আছে সে জিনিসটাই অনুসরণ করি। ভালো করলেও একই প্রক্রিয়া। খারাপ করলেও তাই। একটা জিনিস যেটা ভালো, খেলা নিয়ে বেশি চিন্তা করি না।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.