এইমাত্র পাওয়া

এমপিও ফাইল রিজেক্ট, ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষকরা

নিউজ ডেস্ক।।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সদ্য যোগদান করা শিক্ষকরা তাদের এমপিও ফাইল কারণ ছাড়াই রিজেক্ট করার অভিযোগ তুলেছেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে। গণহারে ফাইল রিজেক্ট হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন তারা।

সম্প্রতি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৭৩ জনকে নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র দেয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। গত মাসের ২১ জানুয়ারির পর থেকেই সুপারিশপ্রাপ্তরা যোগদান করা শুরু করে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ম মেনে গত ১ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষকদের বড় একটি অংশ এমপিওর জন্য আবেদন করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এমপিও পেতে যত ধরনের কাগজ লাগে সবগুলো সঠিকভাবে জমা দিলেও ফাইল রিজেক্ট করা হয়েছে। তাছাড়াও, এমপিও ফাইল রিজেক্টে দেখানো অধিকাংশ কারণ ছিল মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, কেবলমাত্র ঘুষ না দেয়ার কারণেই সাবমিট করা ফাইল কোন কারণ ছাড়াই রিজেক্ট করেছে মাদ্রাসা অধিদপ্তর। এমনকি, যে কারণ (নির্ধারিত কাগজ) নেই বলে ফাইল রিজেক্টে করা হয়েছে মেমিসের ওয়েবসাইটে আমার জমা দেওয়া সেই কাগজ এখনও আছে।

রাসেল নামের এক ভুক্তভোগী জানান, অদৃশ্য কারণে আমার এমপিও ফাইল রিজেক্ট করে বলা হয়েছে আমি এনটিআরসিএর সুপারিশপত্র জমা দেইনি। অথচ সুপারিশপত্র পিডিএফ আকারে জমা দিয়েছি। তার স্ক্রিন শটও আছে আমার কাছে।

শা আদ্যক্ষর নামে আরেক প্রার্থী জানান, আমার প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কমিটি রয়েছে। অথচ, আমার ফাইল রিজেক্টের কারণে বলা হয়েছে, UNO/ADC/ আবেদনে প্রতিস্বাক্ষর নেই। যদিও নিয়মিত কমিটি থাকলে UNO/ADC/ প্রতিস্বাক্ষর লাগেনা। অন্যদিকে, আমার প্রতিষ্ঠানে কয়েকজনকে এমপিও দেয়া হয়েছে। ভাবতে অবাগ লাগে এমন মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া তথ্য তারা কিভাবে লিখল? আমাদের বলা হয়ে থাকে দেশ গড়ার কারিগর। শিক্ষকদের সাথে এমন প্রহসন তারা কিভাবে করল শিক্ষকতার মহান পেশায় এসে এভাবে ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের কবলে পড়তে হবে তা আগে ভাবিনি।

আরেক প্রার্থী জানান, অন্য জেলায় সুপারিশ পাওয়ায় ভেবেছিলাম সামনের মাসের রুমভাড়া, খাবার খরচের চিন্তা শেষ কারণ, যথাসময়ে এমপিও ফাইল সাবমিট করেছি। অথচ, আমার এমপিও ফাইলও রিজেক্ট করে মিথ্যা ও বানোয়াট কারণ লেখা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) কে এম রুহুল আমীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে কারো এমপিও ফাইল রিজেক্ট করছি না। যাদের কাগজপত্র সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে কেবল তাদের ফাইলগুলোই রিজেক্ট হচ্ছে। এমপিও নীতিমালা এবং জনবল কাঠামো অনুযায়ীই শিক্ষকরা এমপিও পাবেন। আমরা সেভাবেই কাজ করছি।

কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও এমপিও ফাইল রিজেক্ট করা হচ্ছে এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, এরকম কোনো তথ্য আমার জানা নেই। যদি এমন কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ফাইল আমার কাছে নিয়ে আসুন। কাগজপত্র ঠিক থাকলে তার এমপিও হয়ে যাবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.