পাঠ্যপুস্তকের এ কী হাল!

নিউজ ডেস্ক।।

বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া সরকারের জন্য বরাবরই একটি চ্যালেঞ্জ। কিন্তু সময়মতো বই না ছাপিয়ে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে একটি গোষ্ঠী নিম্নমানের বই বাজারজাত করছে দেদারছে। একদিকে শুরু হয়ে গেছে নতুন শিক্ষাবর্ষ। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা পায়নি নতুন বই। মূলত এই সুযোগেই ব্যবসায়ীদের একটি মহল এই অপকর্মটি সুকৌশলে চালিয়ে যাচ্ছে। নিম্নমানের কাগজে বই ছাপানোর শুভঙ্করের ফাঁকির বিষয়টি খোদ সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) অনুসন্ধানেও উঠে এসেছে। অন্যদিকে প্রাথমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠ্যবই মাত্র এক মাসের মধ্যেই সেলাই খুলে পড়ার অনুপযোগী হয়ে গেছে। অভিভাবকদের পক্ষ থেকেই এমন অভিযোগ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকেও পাঠ্যবইয়ে নানা ধরনের ভুল ও অসঙ্গতি নিয়ে এনসিটিবিতে অভিযোগ আসছে। এসব ভুল সংশোধন করতে এনসিটিবির পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারাই মূলত পাঠ্যপুস্তকের ভুল অসঙ্গতি সংশোধনের বিষয়ে কাজ করবে। তবে যেসব বই এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে চলে গেছে সেগুলোর ভুলগুলো চলতি বছর সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই। আগামী শিক্ষাবর্ষে নতুন বই ছাড়ানোর আগে সেগুলো সংশোধন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে নিম্নমানের কাগজে পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর অভিযোগ করেছেন একাধিক মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। তারা অভিযোগ করে সরকারের আনুকূল্য পেয়ে কিছু কিছু প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান বছরের শেষ সময়ে এসে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে নিম্নমানের কাগজে বই ছেপে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে। এ ধরনের কিছু নিম্নমানের কাগজে ছাপানো বই দেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে সংগ্রহ করে সেগুলোর মান যাচাই করতে (বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) পাঠানো হয়। গত সপ্তাহে সেই রিপোর্টও মুদ্রণ শিল্প সমিতির হাতে চলে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী এনসিটিবির দেয়া শর্ত মোতাবেক কাগজের মান সংরক্ষণ করা হয়নি।

বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান নয়া দিগন্তকে জানান, প্রতি বছরই শেষ দিকে এসে কৃত্রিম একটি সঙ্কট তৈরি করা হয়। আর এই সুযোগে নিম্নমানের কাগজে ছাপানো বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়। এ বছরও একই কায়দায় শেষভাগে এসে বইয়ের সঙ্কট দেখিয়ে যথাসময়ে পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হয়নি। এর মূল কারণ হলো কৌশলে নি

ম্নমানের কাগজে বই ছাপানো এবং তা জেলা উপজেলায় দ্রুততার সাথে পৌঁছে দেয়া।
পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার প্রসঙ্গে এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলছেন, তিন স্তরে পরিদর্শন করে বইয়ের মান সন্তোষজনক হলেই পাঠ্যবই জেলা উপজেলায় পৌঁছানো হয়। এর পরেও দ্বিতীয় দফায় আবারো ফেব্রুয়ারি-মার্চে মাঠপর্যায় থেকে বই সংগ্রহ করে মান যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রতি বছরই এটা করা হয়। দ্বিতীয় দফায় পরিদর্শন প্রতিবেদনের আগ পর্যন্ত বইয়ের মান নিয়ে এখনি প্রশ্ন তোলা যাবে না। তবে যদি বইয়ের মান নিয়ে কোনো নেতিবাচক রিপোর্ট এনসিটিবিতে আসে তখন ব্যবস্থা গ্রহণের যথেষ্ট উপায়ও আমাদের হাতে রয়েছে। কেননা মুদ্রণ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০ শতাংশ অর্থ আটকে রাখা হয়। এতে পরিদর্শনে কোনো বই নিম্নমানের পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর ফরহাদুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, মাধ্যমিক স্তরের সব বই উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহের আগে আমাদের নিয়োজিত ইন্সপেকশন এজেন্ট মান যাচাই করেই ছাড়পত্র দিয়ে থাকে। এর আগে বই সরবরাহের সুযোগ নেই। আর প্রাথমিকের বইয়ের মান যাচাইয়ের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ইন্সপেকশন এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে থাকে। তারাও মান যাচাই করেই বই গ্রহণ করে।

অন্যদিকে পাঠ্যপুস্তকে ভুলভ্রান্তি সংশোধনের জন্য এরই মধ্যে ৪০ জন বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হয়েছে। তারা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর ১০টি পাঠ্যবইয়ের সব বিষয় পুনর্মূল্যায়ন (রিভিউ) করবেন। এরপর তা একটি সুপারিশ আকারে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) জমা দেয়া হবে। এনসিটিবি চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক মো: মশিউজ্জামান বলেন, পাঠ্যপুস্তকের যেসব জায়গায় কনফিউশন বা ভুল আছে বা যেকোনো ধরনের ভুল ব্যাখ্যার জন্য রিভিউ সংক্রান্ত কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিষয়ে এনসিটিবির একজন বিশেষজ্ঞও কাজ করছেন। তিনি বলেন, প্রথম ধাপে ১০টি বিষয়ের ওপর ৪০ জন বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। একটি বিষয়ের ওপর চারজন করে এ কাজ করছেন। এ পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করেই যা যা সংশোধন করা প্রয়োজন, তা করা হবে।সুত্র নয়াদিগন্ত


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.