এইমাত্র পাওয়া

৮৫ শতাংশ নম্বর পেয়েও ভর্তির কলেজ পায়নি ১২ হাজার শিক্ষার্থী

নিউজ ডেস্ক।।

এসএসসি পরীক্ষায় গাজীপুরের এক স্কুল থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে সাব্বির মৃধা। তার মোট প্রাপ্ত নম্বর ১১৮৬। শতকরা হিসেবে যা প্রায় ৮৫ শতাংশ। কিন্তু এর পরেও কোনো কলেজেই ভর্তির জন্য নির্বাচিত হতে পারেনি সে। কলেজে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করে ১০টি কলেজ চয়েস দিয়েছিল সাব্বির। কিন্তু গত শনিবার রাতে ফলাফল প্রকাশের পর রীতিমতো হতভম্ব হয়েছে তার পরিবার। যদিও সাব্বিরের বন্ধু তার চেয়েও কম নম্বর পেয়েও (১১৪৭ নম্বর) একই চয়েসের কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাব্বিরের অন্যান্য বন্ধু পরিবার ও স্কুলের শিক্ষকদের মধ্যেও বেশ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শুধু সাব্বির মৃধার ক্ষেত্রেই নয়, অনলাইনে আবেদন ও ফলাফল প্রকাশের পর এমন অনেক ঘটনাই ঘটেছে। গত শনিবার রাতেই জানা গেছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েও কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হতে পারেননি ১২ হাজার ১৬০ জন ভর্তি ইচ্ছুক। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চার হাজার ৯০৫ জন, কুমিল্লা বোর্ডের এক হাজার ৪৩৮ জন, রাজশাহীর এক হাজার ৮০৩ জন, যশোর বোর্ডের ২৭৫ জন, চট্টগ্রামের ৬৬৬ জন, বরিশালের ৪৯৬ জন, সিলেট বোর্ডের ৮৩, দিনাজপুরের এক হাজার ৫৬৪, ময়মনসিংহ বোর্ডের ৫৮৫, মাদরাসা বোর্ডের ১৬৫ ও কারিগরি বোর্ডের সাতজন।

জিপিএ ৫ পেয়েও কলেজে ভর্তির সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থীরা সবাই বিজ্ঞান বিভাগের। গত শনিবার সন্ধ্যায় প্রথম ধাপে নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করে শিক্ষা বোর্ডগুলো। কাক্সিক্ষত ফলফল ও প্রাপ্ত নম্বর বেশি থাকা সত্ত্বেও কেনো এমনটি হলো এ বিষয়ে রাতেই সাংবাদিকরা জানতে চান। ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ জবাবে বলেন, ভর্তি ইচ্ছুকদের চয়েস অর্ডারে সমস্যা ছিল। ১০টি কলেজ চয়েস দেয়ার সুযোগ থাকলেও অনেকেই মাত্র পাঁচটি দিয়েছেন। নম্বর কম হলেও কেউ কেউ টপ অর্ডারের পাঁচটি কলেজ চয়েস দিয়েছেন অথচ সেই কলেজগুলোর জন্য তাদের নম্বর নেই।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একজন ছাত্র প্রথম চয়েস দিয়েছেন ঢাকা কলেজ, তারপর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট, তারপর রাজউক উত্তরা মডেল ও রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ। এমন চয়েস যারা দিয়েছেন তারাই বাদ পড়েছেন। চেয়ারম্যান আরো বলেন, প্রথম ধাপে নির্বাচিতদের মধ্যে অনেকেই মিশনারি পরিচালিত নটর ডেম, হলিক্রস, সেন্ট যোসেফ ও সেন্ট গ্রেগরিজ কলেজে সুযোগ পেয়ে ভর্তিও হয়েছেন। এই চার কলেজ ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে। অন্য সব কলেজ ও মাদরাসায় ভর্তি পরীক্ষা না হয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলের ভিত্তিতে নির্বাচিত করা হয়েছে। জিপিএ ৫ পেয়েও প্রথম ধাপে যে ১২ হাজার ভর্তির জন্য কলেজ পাননি তাদের মধ্য থেকে চার হাজারের মতো দ্বিতীয় তালিকায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। দ্বিতীয় ধাপ এখনো রয়েছে। সুতরাং কেউ ভর্তি না হয়ে থাকবেন না। শিক্ষার্থীদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিজ্ঞান মানবিক ও বাণিজ্য এই তিনটি বিভাগের শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করেছেন। অন্য দু’টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা না হয়ে শুধু বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কেনো এমনটি হলো তা অবশ্যই খতিয়ে দেখার দরকার আছে। এ ছাড়া অনলাইনেই কোনো জটিলতা ছিল কি না সেটিও বিবেচনায় নিয়ে অনুসন্ধান করা দরকার বলে মনে করেন বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.