”মা আই কুইট!”-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী

নিউজ ডেস্ক।।

করোনার কোপে বন্ধ স্কুলের দরজা। অথচ সামনেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। বাড়িতে পড়াশোনা, পরীক্ষার প্রস্তুতি চললেও কোথাও খামতি থেকে গিয়েছিল। সেটা পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছিল মেধাবী ছাত্র সোমনাথ সাহা। তারপরই ‘মা আই কুইট ‘ লিখে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। শিলিগুড়ির ভক্তিনগর থানা এলাকায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আর এই ঘটনায় ফের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি খোলার জোরাল দাবি উঠেছে শহরে।

হোয়াইট বোর্ডে তখনও রয়েছে শেষ করে যাওয়ার অঙ্ক। সেটি সলভ করতে পারলেও জীবনের অঙ্কটা অধরাই রয়ে গেল সোমনাথের। পুলিশ জানায়, মৃত ছাত্র সোমনাথ সাহা (১৭) শিলিগুড়ির জ্যোতিনগরের বাসিন্দা। মঙ্গলবার বিকেলে নিজের ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয় সোমনাথ। পড়াশোনার জেরে মানসিক অবসাদ থেকেই সে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। মৃত্যুর আগে ঘরের হোয়াইট বোর্ডে ‘মা আই কুইট ‘ কথাটি লিখে গিয়েছে ছাত্র। ময়নাতদন্তের পর বুধবার বিকেলে সোমনাথের দেহ তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটি আত্মহত্যা হলেও কেবল পড়াশোনার জন্য মানসিক অবসাদেই ছাত্রটি আত্মঘাতী হল কিনা তা খতিয়ে দেখছে ভক্তিনগর থানার পুলিশ। ACP শুভেন্দ্র কুমার বলেন, ”অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। তদন্ত চলছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভক্তিনগর থানার জ্যোতিনগরের বাসিন্দা সোমনাথ সাহা শিলিগুড়ি বয়েজ হাইস্কুলের ছাত্র ছিল। বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির এই ছাত্র মাধ্যমিকেও ভাল ফল করেছিল। কার্যত ‘বইপোকা’ সোমনাথ করোনার জেরে স্কুল বন্ধ থাকায় বাড়িতেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মঙ্গলবার বিকালে হঠাৎ করেই সে নিজের ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে খবর।

মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে বাড়িতে নিজের ঘরে পড়াশোনা করছিল সোমনাথ। সেই সময় বাড়িতে তার মা, বাবা ছিলেন না। কেবল ঠাকুমা বাড়িতে ছিলেন। তিনিই বিকেলে সোমনাথের ঘরে ঢুকে নাতির ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। এরপরই তিনি পরিবারের সকলকে ঘটনার কথা জানান। খবর পেয়ে ভক্তিনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

তার ঘর থেকে ‘মা আই কুইট ‘ লেখা বোর্ডটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। যেখানে আঁকা একটি স্মাইলিও। পড়াশোনার নিয়ে অবসাদের জেরেই সোমনাথ আত্মঘাতী হয়েছে বলে তার পরিবারের দাবি। সোমনাথের বাবা সুবীর সাহা বলেন, ”সোমনাথ সবসময় ঘড়ি ধরে পড়াশোনা করত। আগাগোড়াই পড়াশোনা নিয়ে খুব চিন্তিত ছিল। পড়াশোনা নিয়ে মানসিক অবসাদের কারণেই সে এই পথ বেছে নিয়েছে।” ঘটনার কথা শোনার পরই ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন স্কুলের শিক্ষকেরা। গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে, মেধাবী ছাত্রের এভাবে অকাল-মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শিলিগুড়ির শিক্ষামহলে রীতিমতো উদ্বেগ বেড়েছে। অবিলম্বে স্কুল খোলার দাবিও জোরাল হয়েছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.