মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেড়েছে ৫৪ শতাংশ

নিউজ ডেস্ক।।

দেশে গত এক বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। এতে প্রাণ হারিয়েছে দু্ই হাজার ২১৪ জন। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে ১৬.১৪ শতাংশ, প্রাণহানি বেড়েছে ৫৪.৮১ শতাংশ।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ৫০ লাখেরও বেশি। যেখানে, মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৩৫ লাখের বেশি। আর সেখানে প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন মোটরসাইকেলের সংখ্যা।

গোটা ২০২১ সাল জুড়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা হয়েছে দুই হাজার ৭৮টি। প্রাণ গেছে দুই হাজার ২১৪ জনের, আহতের সংখ্যা এক হাজার ৩০৯ জন। ২০২০ সালের তুলনায় এই দুর্ঘটনা বেড়েছে ৫০ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ৭৪.৩৯ শতাংশ ১৪ থেকে ৪৫ বছর বয়সী।

অন্য যানবাহন চালকরা জানান, মোটরসাইকেল চালকেরা এক যাত্রী দ্রুত নামিয়ে অন্য যাত্রী তোলার জন্য ট্রাফিক আইন সঠিকভাবে না মেনে বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। তারা আরও বলেন, ট্রাফিক পুলিশদের এ বিষয়ে রয়েছে তৎপরতার অভাব।

এদিকে পুলিশ বলছে, সড়কে ট্রাফিক সংকট বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচলের মূল কারণ। পুলিশ উপ কমিশনার ফারুক হোসেন জানান, ট্রাফিক বিভাগ অধিনস্থ সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছেনা অতিরিক্ত দায়িত্বভারের কারণে। পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যসংখ্যার ঘাটতির জন্য প্রয়োজনীয় পয়েন্টগুলোতে পুলিশ মোতায়েন সম্ভব হচ্ছেনা বলেও জানান তিনি।

পরিস্থিতি নিয়ণ্ত্রণে আনতে ডিজিটাল মনিটরিং বাড়ানোর তাগিদ দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞদের। সেই সাথে ট্রাফিক আইন ও যথাযথভাবে মানতে বাধ্য করতে হবে চালকদের, যোগ করেন বিশেষজ্ঞরা। বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন ডিজিটাল মনিটরিং ও মোটরসাইকেলের সীমিত নিবন্ধন।ডিজিটাল মনিটরিং এর মাধ্যমে যদি অনিয়ন্ত্রিত মোটর সা্ইকেল চালকদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা যায়, চালকদের মাঝে তাতে কিছুটা সাবধানতা আসতে পারে বলে তারা মনে করেন।

এছাড়া ওই প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, ২০২১ সালে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫৩৭১টি। এর মধ্যে নিহত হয়েছেন ৬ হাজার ২৮৪ জন এবং আহত ৭ হাজার ৪৬৮ জন। নিহতদের মধ্যে ৯২৭ জন নারী ও ৭৩৪ জন শিশু।

এ সময়ে ৭৬টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত, ১৯২ আহত এবং ৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছে। ঝালকাঠির সুগন্ধ্যা নদীতে ১টি লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫১ জন নিহত, ২৩ জন চিকিৎসাধীন এবং অজ্ঞাত সংখ্যক নিখোঁজ রয়েছে।

এছাড়ার ঈদে ঘরমুখো যাত্রায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ফেরি ঘাটে তাড়াহুড়া করে নামার সময় ৬ জন নিহত এবং ৩১ জন আহত হয়েছে। ১২৩টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৪৭ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.