নিজস্ব প্রতিনিধি।।
৩০ ডিসেম্বর দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন অবসরে যাবেন। তার আগেই নিয়োগ দেয়া হবে ২৩তম প্রধান বিচারপতি। তবে প্রধান বিচারপতি নিয়োগে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর অবসরে যাবেন প্রধান বিচারপতি। তারপরই (নির্দেশনা) আসাটা আমার মনে হয় সঠিক হবে।
৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ না হলে জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি ভারপ্রাপ্ত প্রধান!: ৩০ ডিসেম্বর বর্তমান প্রধান বিচারপতি অবসরে যাওয়ার পর ৩১ ডিসেম্বর নতুন প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণের বিধান রয়েছে। আর সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়ার যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে সেখানে বর্তমান প্রধান বিচারপতির মেয়াদকাল থাকতেই পরবর্তী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে হবে এরকম কোনো গাইডলাইন নেই সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ।
এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছা করলে বা প্রয়োজন মনে করলে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য হওয়ার পরও নিয়োগ দিতে পারেন। তখন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি অন্তর্বর্তীকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সে ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাসুদ রানা মনে করেন। তবে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছা করলে এক আদেশের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে যখন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হবে তখন তার দায়িত্ব সমাপ্ত হবে।
বর্তমানে প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ৫ জন বিচারপতি রয়েছেন। অন্যরা হলেনÑ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মো: নূরুজ্জামান ননী ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। এ চারজনের মধ্য থেকেই নিযুক্ত হবেন নতুন প্রধান বিচারপতি। এ দিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতি নিয়োগের আগেই আপিল বিভাগে নতুন বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হতে পারে।
সাধারণত আপিল বিভাগে যিনি জ্যেষ্ঠ বিচারক, তাকেই পরবর্তী প্রধান বিচারপতি করা হয়। তবে জ্যেষ্ঠতার এ নিয়ম অনেকবার লঙ্ঘনও হয়েছে। তবে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকেই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা উচিত বলে মনে করেন আইনবিদরা।সে ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী যদি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয়, তাহলে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হওয়ার কথা আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর। তবে জ্যেষ্ঠতা অনুসরণ করা না হলে আপিল বিভাগের বাকি বিচারক বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মো: নূরুজ্জামান ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের মধ্য থেকে যেকোনো একজনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন রাষ্ট্রপতি।
সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন। সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগ করিবেন।’ সংবিধানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলা হয়নি। তবে দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের যে বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেবেন, তার বিষয়ে সম্মতি দিয়ে প্রথমে আইন মন্ত্রণালয়কে জানাবেন।
তবে আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি করা হতে পারে বলে অনেক আইনজীবী মনে করেন।
আইনজীবীরা বলছেন, আপিল বিভাগে চার বিচারপতির তিনজনেরই অবসরের মেয়াদ ২০২৩ সালের মধ্যে।
সংবিধান অনুযায়ী ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত বিচারপতি পদে থাকা যায়। সে হিসাবে বিচারপতি ইমান আলী অবসরে যাবেন ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি।
তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেলে তার মেয়াদকাল হবে এক বছর। আর বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী নিয়োগ পেলে তার মেয়াদকাল হবে দেড় বছরের বেশি। কারণ তার অবসরের মেয়াদ ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এ ছাড়া বিচারপতি নূরুজ্জামান অবসরে যাবেন ২০২৩ সালের ১ জুলাই আর বিচারপতি ওবায়দুল হাসান অবসরে যাবেন ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি।
আইনজীবীরা জানান, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করলে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো: আব্দুল ওয়াহহাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। পরবর্তী সময়ে বিচারপতি মো: আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির পদে থাকাকালীন প্রধান বিচারপতি হিসেবে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নিয়োগ চূড়ান্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
এ নিয়োগের দিন (২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন বিচারপতি মো: আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা। বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞার তখন চাকরির মেয়াদ ছিল আরো ১০ মাস। তার আগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়ায় আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান পদত্যাগ করেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
