ছাত্রলীগ নেতা রাব্বানীকে কুপিয়ে জখম!

নিউজ ডেস্ক।।

মাদারীপুরে ইউপি নির্বাচনের একটি ভোটকেন্দ্রে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জেলার রাজৈর উপজেলার ঈশিবপুর ইউনিয়নের গাংকান্দি সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।

আহত গোলাম রাব্বানীকে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ‘জাল ভোট ঠেকাতে’ গিয়ে এই হামলার শিকার হয়েছেন দাবি করে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন রাব্বানী। তবে প্রতিপক্ষ বলছে, রাব্বানী প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ঈশিবপুর ইউপি নির্বাচনে গোলাম রাব্বানীর মামা সালাহ উদ্দিন আহমেদ চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী। গত কয়েক দিন ধরে রাব্বানী মামার পক্ষে নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। গতকাল ভোটের দিন ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গাংকান্দি সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশারফ মোল্লার ছেলে সোহেল মোল্লার সঙ্গে ‘জাল ভোট’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়। পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তখন রাব্বানীসহ আরও কয়েকজন আহত হন।

এ বিষয়ে রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচনে মোশারফ মোল্লার লোকজন প্রকাশ্যে ভোট কেটে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। তার প্রতিবাদ করতে গেলে তারা আমাকে কুপিয়ে আহত করেছে। আমার ডান হাতের তিনটি আঙুল কেটে গেছে। আমি থানায় অভিযোগ করব।’

এ বিষয়ে কথা বলতে মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশারফ মোল্লাকে টেলিফোন করা হলে তিনি কথা বলেননি। নিজেকে মোশারফ মোল্লার ‘সহকারী’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, ‘রাব্বানীর ওপর কোনো হামলা হয়নি। তিনি তার লোকজন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।’

ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘কেন্দ্রের ভেতর তেমন কোনো কিছু হয়নি। কেন্দ্রের বাইরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভোট সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে। কোনো জাল ভোট বা ভোট কারচুপির ঘটনা ঘটেনি।’

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. সাদিক বলেন, ‘নির্বাচনে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটতে পারে। আমি এখনো রাব্বানীর ওপর হামলার কথা শুনিনি। থানায় অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিবচর ও রাজৈর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. আনিচুর রহমান বলেন, ‘মোশারফ মোল্লা ও গোলাম রাব্বানী একই সময়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ায় একটু উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল বলে শুনেছি। আমার জানা মতে পরে সেটা মিটমাট হয়ে গেছে।’


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.