মহাসচিবের স্ত্রীকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে চায় জাতীয় পার্টি

অনলাইন ডেস্ক।।

নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিতে দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর স্ত্রী রোকসানা কাদেরের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করেছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। রোকসানা কাদের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব।

গত সোমবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ডাকা সংলাপে জাপা নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে আইন প্রণয়ন, সার্চ কমিটির জন্য চারজনের এবং নির্বাচন কমিশনার হিসেবে একজনের নাম প্রস্তাব করেছে।  
জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের নামের তালিকা মুখবন্ধ খামে নামগুলো রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছেন, যা প্রকাশ করা হয়নি।
চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জাপার এক প্রেসিডিয়াম সদস্য মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন, ১৯৮৩ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রোকসানা কাদেরকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিতে রাষ্ট্রপতির কাছে নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। 
দলের মহাসচিবের স্ত্রীর নাম প্রস্তাব করেছেন কিনা- এ প্রশ্নে জি এম কাদের বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছুই বলব না। রোকসানা কাদেরের নাম দিয়েছি কি দেইনি- তা বলা যাবে না।’
জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু মঙ্গলবার বলেন, ‘দলীয় চেয়ারম্যানকে সার্চ কমিটি এবং ইসির জন্য নাম প্রস্তাবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি নামের তালিকা সরসারি রাষ্ট্রপতির হাতে দিয়েছেন, যা সম্পর্কে অন্যরা অবগত নন।’ সংলাপে অংশ নেওয়া জাপার এক কো-চেয়ারম্যান বলেন, ‘যার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি তাকে নিয়োগ না দিলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতে পারে। সে কারণেই প্রস্তাবিত নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।’ 

তবে এই নেতার ধারণা, একটি দলের মহাসচিবের স্ত্রী হওয়ায় রোকসানা কাদেরকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। এই নেতা জানান, জাপা চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের সিদ্ধান্তে রোকসানা কাদেরের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। নতুন ইসি গঠনে গত সোমবার থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছেন রাষ্ট্রপতি। 
২০১২ এবং ২০১৭ সালে সংলাপ এবং সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইসি গঠন করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। ২০১৭ সালে জাপা ও তরিকত ফেডারেশন কে এম নুরুল হুদার নাম প্রস্তাব করেছিল।
সংলাপে অংশ নেওয়া জাপার প্রতিনিধি দলের এক সদস্য জানিয়েছেন, সার্চ কমিটির জন্য আপিল বিভাগের যে কেনো একজন বিচারপতি, মহাহিসাব নিরীক্ষক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ এবং সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে রাষ্ট্রপতির কাছে। 

গতবারের সার্চ কমিটিতেও আপিল বিভাগের বিচারপিত, সিএজি এবং ইউজিসি ও পিএসসির চেয়ারম্যানরা ছিলেন।

সার্চ কমিটির জন্য কার কার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে- এ বিষয়েও বলতে রাজি হননি জিএম কাদের ও মুজিবুল হক চুন্নু। 
জিএম কাদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য নামগুলো দেওয়া হয়েছে।’ রোকসানা কাদেরের বক্তব্য জানতে পারেনি। 
মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, তার স্ত্রী এ বিষয়ে অবগত নন। অবসরের পর তিনি ধর্মকর্ম ব্যস্ত রয়েছেন। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন না।

১৯৮২ সালে মুজিবুল হক চুন্নুর সঙ্গে বিয়ে হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রোকসানা কাদেরের। চুন্নু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় ছাত্রদলের প্যানেল থেকে হাজী মোহাম্মদ মহসীন হলের ভিপি নির্বাচিত হন।

বিচারকের চাকরি ছেড়ে এরশাদ শাসনামলে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে এমপি হয়ে উপমন্ত্রী হন। ২০০৮ সাল থেকে টানা তিনবার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সমর্থনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে। ২০১৩ সালে নির্বাচনকালীন সরকারে এবং দ্বিতীয় মহাজোট সরকারে তিনি শ্রম প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। জিয়াউদ্দিন বাবলুর মৃত্যুতে শূন্য জাপার মহাসচিব পদে আসেন গত ৯ অক্টোবর।

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.