অধিকাংশ সিকিউরিটি কোম্পানির গার্ডের পোশাক অনেকটাই বিভিন্ন সরকারি বাহিনীর মতো। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। সরকারি বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে মিল থাকায় বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানির সদস্যদের দেখে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে
পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানিতে জনবল নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যা নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। এজন্য নিয়োগের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদিও তা শতভাগ মানছে না কোম্পানিগুলো। এদিকে সিকিউরিটি কোম্পানির গার্ডদের একই পোশাক পরিধান করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। অধিকাংশ সিকিউরিটি কোম্পানির গার্ডদের পোশাক অনেকটাই বিভিন্ন সরকারি বাহিনীর মতো। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। সরকারি বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে মিল থাকায় বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানির সদস্যদের দেখে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সিকিউরিটি কোম্পানি খোলার ক্ষেত্রে বেসরকারি নিরাপত্তা বিধিমালা মানতে হবে। অথচ তা মানা হচ্ছে না। জেলাভিত্তিক সিকিউরিটি কোম্পানি গঠনের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ কমিশনার বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানি খোলার জন্য লাইসেন্স ইসু্য করার ক্ষেত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত।
সিকিউরিটি কোম্পানিতে লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন করানো বাধ্যতামূলক। নিরাপত্তা কোম্পানিগুলোর সদস্যদের পোশাক কোনো সরকারি বাহিনীর মতো বা সাদৃশ্যপূর্ণ হতে পারবে না। পোশাকে কোনোর্ যাংক ব্যাজ ব্যবহার করতে পারবে না। এমন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এমনকি দেশে কী পরিমাণ বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানি রয়েছে, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যানও নেই।
গোয়েন্দা সূত্রটি বলছে, বিভিন্ন সরকারি বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে অনেক বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানির সদস্যদের পোশাকের মিল আছে। আচমকা দেখলে মনে হবে, কোনো সরকারি বাহিনীর সদস্য। ফলে অনেক সময়ই মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। আবার অনেক সময় বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানির সদস্যরা অপরাধ করার পর, মানুষ মনে করছে কোনো সরকারি বাহিনী ওই অপরাধ করেছে। অনেকেই এসব নিয়ে ফেসবুকে নানা ধরনের পোস্টও দিয়ে থাকেন।
তিনি বলেন, বিশেষ করে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সদস্যদের মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তারা দেশের যেকোনো জায়গায় নাশকতামূলক কর্মকান্ড চালানোর পর শনাক্ত হলে আত্মগোপনে চলে যায়। আত্মগোপনে থেকে গার্মেন্টে চাকরি নেয়, রিকশা চালায়, সবজি বিক্রি করে। আবার বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানিতেও চাকরি নিয়ে থাকে। তারা যদি পরিকল্পিতভাবে নাশকতার উদ্দেশ্যে কোনো বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানিতে চাকরি নেয়, তাহলে সেই নাশকতা রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। যা নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। এজন্য অবশ্যই কাউকে বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার আগে পুলিশ ভেরিফিকেশন করাতে হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এমন নোটিশ জারির পর সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশের অনেক বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানির পোশাক,র্ যাংক ব্যাজ ও টুপি অনেক সরকারি বাহিনীর মতো এবং সাদৃশ্যপূর্ণ বলে জানানো হয়। এজন্য দেশের প্রতিটি বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানিকে একই পোশাক ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সভায় আলোচিত বিষয় সম্পর্কিত একটি নির্দেশনা পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ মহাপরিদর্শক, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, দেশের প্রতিটি জেলার ম্যাজিস্ট্রেট, সামরিক গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক, প্রতিটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ওর্ যাব মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
