এইমাত্র পাওয়া

উচ্চশিক্ষা জীবিকায় কাজে আসছে না

নিউজ ডেস্ক।।

দেশের তরুণদের মধ্যে উচ্চশিক্ষার দিকে ঝুঁকে পড়ার যে প্রবণতা, তা দিনশেষে জীবিকা নির্বাহের কাজে আসছে না। এ জন্য বিকল্প শিক্ষার দিকে নজর দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, ক্রমপরিবর্তনশীল এই বিশ্বে দ্রুত নিজেদের নতুন দক্ষতার সাথে পরিচিত হতে হবে তরুণদের। আর অর্থনীতিবিদ ও বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ লোকবলকে কার্যকরভাবে অর্থনীতির উন্নয়নে কাজে লাগাতে শিক্ষা ও দক্ষতাবৃদ্ধি কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। শিক্ষাব্যবস্থা এবং কর্মক্ষেত্রের সমন্বয়ের অভাবে বেকারত্ব কিভাবে বৃদ্ধি হচ্ছে। তারা বলছেন, করোনা-পরবর্তী সময়ে বিশ্বের তরুণ সমাজ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে প্রয়োজন সরকারি বেসরকারি নানা উদ্যোগ আর প্রয়োজন বাজেটে তরুণদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ।

সানেম ও অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে গতকাল আয়োজিত ‘সেক্টরাল অ্যাকশন প্ল্যান ফর ইয়ুথ বাজেটিং’ শীর্ষক ওয়েবিনার আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশা। অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।

এম এ মান্নান বলেন, সব কর্মক্ষেত্রে কাজের শোভন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশের যুবসমাজের বিভিন্ন সমস্যাগুলো প্রশমিত হবে। বাংলাদেশ সরকার যেকোনো প্রয়োজনে তারুণ্যের পাশে থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

বক্তারা বলেন, কারিগরি শিক্ষার প্রতি দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর বিরূপ মনোভাব এবং তা থেকে উত্তরণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একসাথে কাজ করতে হবে।

বর্তমান সময়ে কোভিড প্রেক্ষাপটে তরুণদের সমস্যাগুলো উল্লেখ করে ফারাহ কবির বলেন, তিনি শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ক্ষেত্রগুলোয় সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের বড়ই প্রয়োজন। শুধুমাত্র সরকারেরই নয়, তরুণদের অভিভাবকদেরও সক্রিয়ভাবে সন্তানদের শিক্ষা এবং দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করতে হবে। তিনি এ সময়ে দক্ষ জনবল তৈরিতে দ্রুত বিনিয়োগে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, সবাইকে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানাতে হবে এমন কোনো কথা নেই। তরুণদের উদ্যোক্তাও হতে হবে।

মো: বোরহানুল হক বলেন, কারিগরি শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে তরুণদের মাঝে দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব। মাদরাসা শিক্ষাকার্যক্রমের মাঝে কারিগরি শিক্ষাকে করা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, যা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে কর্মমুখী দক্ষতা ছড়িয়ে দেবে। তিনি বলেন, সরকার বর্তমানে কারিগরি শিক্ষার বিস্তারে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে এবং প্রতি উপজেলায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করছে।

ড. সেলিম রায়হান বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান জনমিতি লভ্যাংশের উপযুক্ত ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.