৯৪ থেকে ১৬০ টাকা পাঁচ বছরে তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ

নিউজ ডেস্ক।।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে দেশের বাজারে আবারো খোলা ও বোতলজাত তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাঁচ বছর আগে ২০১৬ সালের এই দিনে বাজারে সিটি ও মেঘনা গ্রুপের তেলের এক লিটারের বোতলের দর ছিল ৯৪-৯৫ টাকা। গত বছর বিক্রি হয়েছে ১১৫ টাকা লিটার। গতকাল সরকার এই তেলের বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে ১৬০ টাকা কেজি। ৫ বছরে প্রতি লিটারে দাম প্রায় দ্বিগুণ বাড়ল। আজ বুধবার থেকে নির্ধারিত নতুন দাম কার্যকর হবে।
বর্তমানে দেশের প্রায় প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি। ভোজ্যতেল ছাড়াও বাজারে এখন মুরগির দাম বেশ চড়া। বেড়েছে চিনির দামও। স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তারা টিসিবির ট্রাকের সামনে ভিড় করছেন। এমন সময়ে ভোজ্যতেলের দাম আরেক দফা বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়বে মানুষ। ফলে শুধু রান্নার তেলের পেছনেই এখন বাড়তি ব্যয় করতে হবে তাদের। গত দেড় মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষের। ব্যয় বৃদ্ধির চাপ সইতে না পেরে পরিবর্তন আনছে জীবনধারার। খাদ্যাভ্যাস ও আবাস্থল পরিবর্তন করে টিকে থাকতে নানা কৌশল অবলম্বন করতে হচ্ছে তাদের।

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সচিব মো: নুরুল ইসলাম মোল্লা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন তেল ও পাম অয়েলের দাম ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিবেচনায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন নতুন এ দাম নির্ধারণ করেছে। আজ বুধবার থেকে সারা দেশে নতুন দাম কার্যকর হবে।
নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল মিলগেটে দাম ১৩৪ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১৩৫ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ১৩৬ টাকা। বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল মিলগেটে ১৫০ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১৫৪ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ের দাম ১৬০ টাকা।

৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল মিলগেটে ৭২০ টাকা, পরিবেশক মূল্য ৭৪০ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৭৬০ টাকা। আর পাম তেল প্রতি লিটার মিলগেটে ১১৬ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১১৭ এবং খুচরা পর্যায়ে ১১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই দাম পরিবেশক ও খুচরা পর্যায়ে পুরনো মজুদকৃত তেলের ওপর কার্যকর হবে না।
গত রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য (আইআইটি) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত নিত্যপণ্যের মজুদ পরিস্থিতি, আমদানি ও দাম নির্ধারণ নিয়ে বৈঠকে তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।
বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সফিকুজ্জামান বলেন, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম আমরা ১৫৩ টাকা নির্ধারণ করেছিলাম। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাচ্ছিল, তাই ৮-১০ দিনের মধ্যে মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছিল রিফাইনারি অ্যাসোসিয়েশন। ২০১১ সালের আইন অনুযায়ী প্রতি ১৫ দিন অন্তর ট্যারিফ কমিশন অ্যানালাইসিস করে সুপারিশ করবে। আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রিফাইনারিদের সঙ্গে আলোচনা করে মূল্য নির্ধারণ করি। পরে রিফাইনারি অ্যাসোসিয়েশন তাদের অফিসিয়াল প্যাডে এটা ডিক্লেয়ার করে।
তেল দামের বিষয়ে মঙ্গলবারের বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে সফিকুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ভেজিটেবল ওয়েল রিফাইনার অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফেকচার অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাব ছিল বোতলজাত লিটার প্রতি তেল ১৬৮ টাকা করার। ট্যারিফ কমিশন একাধিকবার বসে অ্যানালাইসিস করে ১৬২ টাকা প্রস্তাব করেছে। এটা ছিল সেপ্টেম্বর মাসে অ্যাভারেজ রিপোর্ট। আজকে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করে প্রতি লিটার বোতলজাত তেলের দাম ঠিক করা হয়েছে ১৬০ টাকা। যেটার আগে দাম ছিল ১৫৩ টাকা।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.