ডিসিদের দিতে হবে মামলার তথ্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে তোলপার

অনলাইন ডেস্ক।।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি পেয়ে পুলিশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওই চিঠির বিষয়ে নাখোশ অনেক পুলিশ কর্মকর্তা। জেলায় প্রতিদিন যেসব মামলা বা জিডি হয়, জেলা প্রশাসকদের কাছে তা রোজ জানাতে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। পুলিশ আইনের আওতায় এই তথ্য দিতে বাধ্য বলেও চিঠিতে বলা হয়।
তবে, পুলিশ বলছে, এসব তথ্য আদালতে জানানো হয়। ডিসিদের জানাতে বাধ্য নন তারা। এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি আইজিপি।
অভিযোগ রয়েছে অনেক জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) জেলার ডিসিদের মামলা ও জিডির তথ্য সরবরাহ করেন না। এ নিয়ে এসপি ও ডিসিদের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকেই সমন্বয়হীনতা চলে আসছে। আর এ কারণে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফলপ্রসূভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ইতিমধ্যে চিঠির বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে পুলিশ সূত্র  জানিয়েছে।
বেশ কয়েকজন পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, মামলার তথ্যাদি নিয়মিত আদালতে জানানো হয়। পাশাপাশি একেবারেই অভ্যন্তরীণ এসবি ডেইলি রিপোর্ট, ডিসিদের জানানোর কোনো বিধান নেই।
এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরের এক অনুষ্ঠানে আইজিপির মন্তব্য জানতে চাইলে, তিনি জানান এটা নিয়ে কথা বললে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ১৯২ নম্বর ধারায় যেভাবে উল্লেখ্য করা হয়েছে তা মোটেও কঠিন কোনো বিষয় না, এটা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ারও দরকার নাই, এটা পড়লেই আপনার বুঝে যাবেন। এটা নিয়ে খামাখা কোনো বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাই না।
এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরের উর্ধতন এক কর্মকর্তা জানান, জেলার ডিসি ও এসপিদের মধ্যে কোন ধরনের বিরোধ নেই। জেলার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকগুলোতে পুলিশ নিয়মিত অংশ নেয়। কখনই মামলা বা জিডির বিষয়ে আলাদা করে জেলা প্রশাসকদের এই বিষয়ে জানাতে হয় না। জেলা পুলিশ এসব বিষয় জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থাপন করে থাকে। কি এমন ঘটল মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে নির্দেশ দিয়েছে ডিসিদের কাছে মামলা ও জিডির তথ্য দিতে হবে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা ডিসিসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করছি। চিঠিটি পেয়ে আমরা সত্যিই খুবই হতাশ। এতে আরও তিক্ততা বেড়ে যাবে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। চিঠির বিষয়টি আইজিপির নজরে এসেছে। খুব শীঘ্রই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পুলিশ সদর দফতর কথা বলবে। এই বিষয়টি কিভাবে সুরাহা করা যায় তা নিয়ে আমরা আলোচনা করব।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই কিছু কিছু জেলা সুপারের সঙ্গে জেলায় ডিসিদের মধ্যে কিছুটা বিরোধ দেখা গেছে। আমরা তথ্য পেয়েছি, ডিসি বা পুলিশ কর্মকর্তারা যখন মিটিং করেন। সেখানে অনেকে যান না। চলতি বছরের মে মাসে একটি গোপনীয় প্রতিবেদনে নানা ধরনের বিরোধ ও মতানৈক্য সংক্রান্ত বেশকিছু তথ্য এসেছে। এসব মতানৈক্যের কারণে জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণসহ দৈনন্দিন নানা কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসপিদেরও কোন কথা শোনেন না জেলা প্রশাসকরা।

বিষয়টি সুরাহা করতেই পিআরবিতে উল্লিখিত প্রবিধান স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডিসিদের কাছে মামলা ও জিডির সংক্ষিপ্ত তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.