এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক

জান্নাতুল ফেরদৌস।।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। কয়েক দফা লকডাউনের পর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন আর্থিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে গণপরিবহন ও পর্যটনকেন্দ্রসহ প্রায় সবকিছু চলছে স্বাভাবিক সময়ের মতো। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বারবার পরিবর্তন করা হচ্ছে। ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার পুরোটা সময় বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রাক-প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ৪ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ আছে, যা করোনার কারণে স্কুল বন্ধের ক্ষেত্রে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম।

প্রতিবেদন অনুসারে, যত বেশি সময় ধরে শিশুরা স্কুলের বাইরে থাকবে, সহিংসতা, শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহের ঝুঁকির সম্মুখীন হওয়ায় ততই তাদের স্কুলে ফিরে আসার সম্ভাবনা কমে যাবে। শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কেবল পড়াশোনার ক্ষেত্রে নয়, একই সঙ্গে তাদের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও মানসিক সুস্থতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে। এছাড়াও দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেকারত্ব এক অভিশাপ। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী আর শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারবে না, বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে পড়তে হবে। এতে সামগ্রিকভাবে পুরো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অন্যদিকে যেখানে নতুন ক্যাম্পাসে ক্লাস কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় মুখর থাকার কথা সেখানে উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তিই হতে পারেনি পৌনে ৪ লাখ শিক্ষার্থী। কবে নাগাদ ভর্তি হতে পারবে সেটিও এখন অনিশ্চিত। যাদের উচ্চ শিক্ষা কার্যক্রম চলমান তারা আরো বেশি অনিশ্চয়তায় ভুগছে। গ্রাজুয়েশন শেষ করে যাদের চাকরির পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকার কথা, যাদের সংসারের হাল ধরার কথা তারা এখন কবে শেষ করতে পারবে সেই চিন্তায় আক্রান্ত! অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকলেও সেটা কতটুকু কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তাছাড়া পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনলাইন মাধ্যমে বেশকিছু সীমাবদ্ধতা আছে।

নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের অভাব, ডিভাইস সমস্যা, আর্থসামাজিক অবস্থার দরুন অনলাইনে লাইভ পরীক্ষার বিড়ম্বনা অনেক। তবুও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পরীক্ষা নিয়ে সাহসি ভূমিকা রেখেছে। টিকা নেওয়া সাপেক্ষে সশরীরে পরীক্ষা দিতে ইউজিসির পক্ষ থেকে অনুমতি আছে। পরীক্ষার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সরব হয়ে উঠছে। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর দাবি অনলাইন বা অফলাইন যেভাবেই হোক পরীক্ষা নিয়ে নেওয়া হোক। সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেক্ষেত্রে সব ব্যাচের একত্রে পরীক্ষা নেওয়াটা খুব ভালো ফল বয়ে আনবে না। পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যাচভিত্তিক পরীক্ষার রুটিন করা যেতে পারে। এতে স্বাস্থ্যবিধি মানা সহজতর হবে।

অনলাইন পরীক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট সংযোগসহ সব সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যে পদ্ধতিতে সবচেয়ে ভালো মূল্যায়ন করা যাবে সে পদ্ধতিতেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যাওয়া উচিত। এক্ষেত্রে ‘টেক হোম’ পদ্ধতি ভালো অপশন হতে পারে। শিক্ষকরা অনলাইনে প্রশ্ন পাঠিয়ে দিবেন, শিক্ষার্থীরা অফলাইনে পরীক্ষা দিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র জমা দেবে। দেশের উন্নয়ন অনেকটা নির্ভর করে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। তাই শিক্ষামন্ত্রীসহ শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সবাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে আসবে বলে বিশ্বাস করতে চাই। এবং এতে কার্যকরী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা।

লেখক :শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.