শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থার কোন পরিবর্তন এতটা সময়ে না হওয়ার মূল কারণ রয়েছে। আমরা সেখানে যেতে পারিনি। গভীরে যাওয়ার প্রবণতা নিজের লাভ-ক্ষতির উপর অনেকটা নির্ভর হয়ে উঠেছে। ভালোবেসে এই কাজে আসা। লাভ-ক্ষতির এই নিরেট সমাধান কখনও খুঁজিনি। যারফলে এমন হতাশাজনক অবস্থা দেখলে মনটা ভারী হয়ে উঠে। কষ্টে কিছু বলতে সাহস করে। এক পা আগাই আবার কেন জানি আপনজনদের কথা ভেবে আগের অবস্থানে ফিরে আসি। আমার এই অবস্থাকে আপনি হয়ত নিজের মত করে বিশ্লেষণ করবেন। কিন্তু না-এ্রর একটি ব্যাখ্যা রয়েছে।। দিতে সাহস লাগবে। আমার সেই সৎ সাহস থাকলেও, সাহস হারা।
সৎ সাহস আর সাহস হারা পুরো শিক্ষক সমাজ। নিজেকে আলাদা করার পরিস্থিতি দেখি না। দেখলেও পথ খুঁজে পাই না। ৪দিন আগে এক বৈঠকে একজন শিক্ষাবিদ যুক্তি তুললেন যে, আগামী মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিবে, বহু কাজ!! আমাদের দুইজন প্রশাসনের ব্যক্তি নিয়োগ দিতে হবে।। একই ব্যক্তি দুইমাস আগে বলেছিলেন খরচ কমাতে হবে। এখন লোক নিয়োগের প্রয়োজন নাই।। এই দুই অবস্থানে আমি ঠিক তাঁর উল্টো মত দিয়েছিলাম। প্রথমবার বলেছিলাম লোক আমাদের লাগবে। দ্বিতীয়বার বলেছিলাম লোক লাগবে তবে দুইজন নয়। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী মাসে খুলবে এইকথা সত্য নয়-খুললেও বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ একদম আপনার কথা সঠিক হলে এসএসসি পর্যন্ত হতে পারে।
গতকাল মন্ত্রী পরিষদ সচিব বললেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে প্রথমে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছি। পর্যায়ক্রমে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে অন্যান্য গুলো কি করা যায় দেখা হবে। আমি একটি বৈঠকের কথা কেন এখানে আনলাম সেটাই আজকের আলোচনা। শিক্ষক একজন মানুষ, তিনি সমাজের অন্য দশজন মানুষের মতই। আলাদা হতে পারেনি। বিশেষত আমাদের এই অঞ্চলে। যারফলে শিক্ষা বা শিক্ষব্যবস্থার পরিবর্তন হয়নি। ঐ শিক্ষাবিদ প্রথমে যে নিয়োগের বিপক্ষে ছিলেন কারণ হল তার পছন্দের নিয়োগ হবে না এই হতাশা থেকে। আর দ্বিতীয়বার পক্ষে গেলেন খুলে দিবে বা অনেক কাজ এই কারণে নয়,-কারণ সেই সময়ে তিনি তার পছন্দের মানুষকে নিয়োগের বিষয়টি প্রায় চুড়ান্ত করেই ফেলেছেন? আর আমিই বা কেন লিখছি? হয়ত এমন হবে যে, আমার পছন্দের লোক নিয়োগ হয়নি!! হতে পারে??
আমাদের জাতীয় কবি এই শিক্ষক সমাজকে নিয়ে বহুকাল আগে তাঁর হতাশার কথা বলেছেন। বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র আছে যেখানে শিক্ষকের কথায় রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি নির্ধারণ হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে আজকের যে অবস্থা সেই অবস্থার জন্য তোষামোদি শিক্ষক আর ব্রিটিশের প্রণীত শিক্ষাব্যবস্থা কোন অংশে কম দায়ী নয়। অথচ কাল যখন আমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি খুলছে?? লিখলাম-আপনারা অনেকেই অনেককে দায়ী করেছেন। শিক্ষাবিদ আছেন-বিদগ্ধ ও নির্মোহ শিক্ষাবিদের অভাবেই আজকের এই অবস্থান।
দায় যারই হউক। ক্ষতি জাতির। বুঝবার জন্য একটি রুচিশীল মন-মনন ও চিন্তা থাকতে হবে। সেই মন মনন আর রুচিবোধ তৈরী হউক। জাগ্রত হউক বিবেক। খুলে দেয়া হউক শিক্ষার্থীদের ভালোবাসার জায়গা।
লেখক- ডক্টর মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন
নজরুল গবেষক
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
