খোলতে শুরু করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রস্তুতি চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার।
তারই পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে সোমবার (২৩ আগস্ট) থেকে খুলেছে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় প্রত্যেক উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নির্দেশক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস খুলতে শুরু করেছে। প্রতিদিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে,, শিক্ষকদের ওয়ার্কসিট বিতরণ, মূল্যায়ন ও গুগল মিট ক্লাস নিয়মিত পরিচালনা করতে হবে। শিখন ঘাটতি পূরণে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে পাওয়া পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের সফট কপি নিয়ে যেতে হবে।
তবে অফিস খোলার নির্দেশনা আসলেও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। এ সময় প্রত্যেক শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসার সময় একজন শিক্ষার্থীর বাড়ি গিয়ে পাঠ মূল্যায়ন করবে।
এতে আরো বলা হয় , শিক্ষাকরা উপস্থিত হয়ে বিদ্যালয়ের আঙ্গিনা পরিস্কার-পরিচ্ছনা কার্যক্রম তদারিক করবে এবং শ্রেণিকক্ষ প্রস্তুত রাখবে। যে কোনো সময় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যেতে পারে বলে বলা হয়েছে।
এর আগে ১৮ আগস্ট দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত খুলে দেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।
এ সময় দুটি বিষয় বিবেচনার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এই দুই বিষয়ের মধ্যে আছে করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতি সুবিধাজনক অবস্থায় আসা এবং টিকা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আনা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয় দ্রুত সময়ে স্কুলগুলোও খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। কারণ, শিশুরা ঘরে থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। তারা মানসিকভাবেও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য সব পদক্ষেপ নিতে হবে। সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনার পর জাতীয় শোক দিবসের এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে আমাদের সকল ধরনের প্রস্তুতি আছে। দেশে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এলে আগামী নভেম্বরে এসএসসি এবং ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠতি হবে। পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংক্রমণের হার ১০ শতাংশে নেমে এলে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা প্রথম দিকে বিরতি দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাব। এভাবে ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেওয়া হবে।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়ায় ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ পর্যন্ত গত দফায় দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি বাড়ানো হয়। করোনা সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় সবশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান সাধারণ ছুটি আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.