বেকারদের বঞ্চিত করে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে একটা বড় অংশের নিবন্ধিত ইনডেক্সধারী শিক্ষকদেরকে পূনর্নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। বারবার নিয়োগপ্রাপ্ত ইনডেক্সধারীদের সুপারিশ করে বিতর্কিত হয়ে পড়েছে এনটিআরসিএ। এনটিআরসি’র প্রতি বেকারদের ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব সমস্যার একমাত্র সমাধান হতে পারে বদলি।
বদলি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘ দিনের দাবি। বিভিন্ন সময়ে প্রণীত এমপিও নীতিমালায় বদলিকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাবে আজ পর্যন্ত বদলি কার্যকর হয়নি। বদলির পক্ষে আজ ব্যাপক জনমত তৈরি হয়েছে। বদলির জন্য আন্দোলনরত শিক্ষকরা হাইকোর্টে রিটও করেছেন। বদলি না থাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নতুন চাকরি প্রার্থীরাও। সম্প্রতি এনটিআরসিএ তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে ৩৮২৮৬ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছেন। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য সুপারিশ প্রাপ্তদের প্রায় অর্ধেকই পুরাতন ইনডেক্সধারী। যারা শুধু মাত্র প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করবেন। এতে চাকরি থেকে বঞ্চিত হলেন নতুনরা। তারা এনটিআরসি’র প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এভাবে যতোবারই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিবেন ততবারই পুরাতন ইনডেক্সধারীরা বিপুল সংখ্যক পদ দখল করে রাখবেন। আর বারবার বঞ্চিত হবেন নতুন চাকরি প্রার্থীরা।
এহেন সমস্যা সমাধানে বদলির বিকল্প নাই। এনটিআরসিএ নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তির আগে যদি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের/বদলির গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে বদলি প্রার্থীদের চাহিদা পূরণ করেন তাহলে এসব প্রার্থীরা নতুন করে নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন না। প্রয়োজনে ইনডেক্সধারীদের আবেদন বন্ধও করা যেতে পারে। এমনটি করা হলে বিপুল সংখ্যক প্রার্থীদের চাকরির সুযোগ নষ্ট হবে না।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যারের মাধ্যমে করা যেতে পারে। আপাতত কোনো রকম ব্যয় ছাড়াই খুব সহজে বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি নিম্নোক্ত ভাবে সম্পন্ন করা যেতে পারেঃ
প্রথমতঃ পারস্পরিক/মিউচুয়াল বদলি। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন শুধু এমপিও ট্রান্সফার। দুজন শিক্ষকের মধ্যে সমঝোতা হলে, উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে আবেদন করে এমপিও ট্রান্সফার করে নিতে পারে।
দ্বিতীয়তঃ শূন্য পদে বদলি। এক্ষেত্রে একটি পদের বিপরীতে একাধিক প্রার্থী হলে নিম্নোক্ত ভাবে প্রার্থী বাছাই করা যেতে পারে-
* একাডেমিক কোয়ালিফিকেশনের ক্ষেত্রে প্রতিটি
* A+, A গ্রেড/প্রথম বিভাগের জন্য ৩ পয়েন্ট।
* A, A-গ্রেড/ দ্বিতীয় বিভাগের জন্য ২ পয়েন্ট।
* আর অন্যান্য গ্রেড/ তৃতীয় বিভাগের জন্য ১ পয়েন্ট নির্ধারিত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট পদের কাম্য যোগ্যতার চেয়ে অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসাবের আওতায় আসবে না।
* চাকরির অভিজ্ঞতার উপর প্রতি এক বছরের জন্য ১ পয়েন্ট। সর্বোচ্চ ১৬ পয়েন্ট। ১৬ বছরের অতিরিক্ত অভিজ্ঞতা হিসাবের আওতায় আসবে না।
* একাধিক প্রার্থী যদি একই পয়েন্টের অধিকারী হয় তাহলে বয়সের ভিত্তিতে বাছাই করা যেতে পারে।
* স্বামী স্ত্রী উভয়ে চাকরিজীবী হলে তাদেরকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
* স্ব স্ব উপজেলার প্রার্থীদের অগ্রাধিকার থাকবে। তবে, সংশ্লিষ্ট উপজেলার প্রার্থী পাওয়া না গেলে পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে প্রার্থী নেয়া যেতে পারে।
বেসরকারি শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ১০০০ টাকা। আর এই মুহুর্তে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করার কোনো চিন্তা ও সরকারের নাই। তাই আপাতত কোনো ব্যয় ছাড়া ই উপরোক্ত নিয়মে বদলি বাস্তবায়ন করা যায়।
বদলি কার্যকর হলে এতে যেমন অসংখ্য সমস্যার সমাধান হবে, তেমনি বেসরকারি শিক্ষা ব্যাবস্থায় সঞ্চারিত হবে নতুন গতি। বিষয়টি সম্পর্কে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
লেখক-
মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন
যুগ্ন মহাসচিব,
বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
