অনলাইন ডেস্ক :
শিক্ষা ও ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের ইচ্ছাই মুখ্য থাকা বাংলাদেশে নতুন কোন চিত্র নয়। তবে এখন চিত্র কিছুটা পাল্টেছে। অনেক অভিভাবক এখন সন্তানের ক্যারিয়ারের পছন্দে সমর্থন দিচ্ছেন।
বাংলাদেশে ২০১৯ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় গড় পাশের হার ছিল ৭৩.৯৩ শতাংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ইউনিটে মোট আসন ৭,১১৮, ভর্তির আবেদন করেছেন ২ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯১ জন শিক্ষার্থী। বুয়েট ও মেডিকেলে ভর্তির আবেদন করছেন হাজারো শিক্ষার্থী। স্বপ্নপূরণ না হলেও ভালো কিছু করবেন এ লক্ষ্য নিয়েই এগুচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
এমনই কয়েকজনের সাথে কথা বলেছে বিবিসি বাংলা। তারা এসময় তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
এদেরই একজন জেরিন। তিনি জানান, মিউজিকের প্রতি দুর্বল ছিলো তার। তিনি ধারণা করেন মিউজিশিয়ান হওয়ার মতো প্রতিভা রয়েছে তার।
কিন্তু জেরিনের মা সালিমা শেখের ইচ্ছা ছিলো জেরিনকে ডাক্তার বানানোর। তাদের পরিবারে ডাক্তার নেই। এখনও ভার্সিটিতে ভর্তি হতে চায়। আমরা বলেছি হও, তবে এমনভাবে পড়াশোনা করো যাতে ভার্সিটিতে চান্স পাও। সায়েন্স থেকে ও ডাক্তারি না পড়তে চাইলেও আমাদের বিশ্বাস ও ভালো কিছু করতে পারবে। ব্যক্তি জীবনে সুন্দর মানুষ হওয়াটাই বড় কথা।
সুমাইয়া ফেরদৌসের ইচ্ছা ছিলো সাংবাদিক হওয়ার। তিনি এ জন্য জার্নালিজম পড়তে চান।
তার বাবা মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেন, ওর ইচ্ছা ছিলো জার্নালিজম কিন্তু ওটা চ্যালেঞ্জিং জব। আমি চাচ্ছি ও ইংরেজিতে অনার্স করে বিসিএস দিক। সব বাবা-মাই চায় সন্তান একজন বিসিএস ক্যাডার হোক।
তবে অনেক অভিভাবক এখন সন্তানের ক্যারিয়ারের পছন্দে সমর্থন দিচ্ছেন।
যেমন মাসুম বুঝতে পারে তার জন্য সায়েন্স না তাই তিনি ক ইউনিটে পরীক্ষা দেয়ার চিন্তা করছেন। তাকে সমর্থন দিয়েছেন তার মা ফেরদৌস সুলতানা।
তিনি বলেন, আমি মনে করি পড়াশোনাটা খুব বেশি সহজ বিষয় না। তাই পড়াশোনা কারো ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। আমি বিশ্বাস করি ও যদি ওর মতো করে পড়াশোনা করতে পারে তাহলে ভালো একটা জায়গায় গিয়ে ও দাঁড়াতে পারবে। আমরা যদি চাপিয়ে দেই তাহলে তো ও কিছুই নিজের ইচ্ছা মতো করতে পারবেনা।
বাংলাদেশে শিক্ষা ও ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের ইচ্ছা মূখ্য হয়ে থাকে। যা নতুন কোনো চিত্র না। এইচএসসির গণ্ডি পেরিয়ে এখন আর পরিবারের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চাননা শিক্ষার্থীরা। তারা নিজের ইচ্ছাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয় বেছে নিতে চান।
তাসিন বলেন, আমি বিদেশে যেতে চাই উচ্চশিক্ষার জন্য। না যেতে পারলে ফিন্যান্স নিয়ে পড়তে চাই।
তাসিনের মা সুলতানা আলম বলেন, বাবা-মা ছাড়া সন্তানরা একা থাকলে কি পড়াশোনা ভালো হবে? ও- বাইরের দেশের চেয়ে দেশেই পড়াশোনা করুক, আমি এটা চাই।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
