শিক্ষককে ৬ টুকরা করার কারণ জানাল র‌্যাব

নিউজ ডেস্ক।।

আশুলিয়ায় নিখোঁজ সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণের (৩৬) ৬ টুকরা লাশ উদ্ধার করেছে র‌্যাব। সোমবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে দক্ষিণখানে আশকোনার নন্দাপাড়ার একটি ডোবা থেকে অধ্যক্ষের লাশ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার অভিযান শেষে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, এর আগে বেলা একটার দিকে ওই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শহীদ মিনারের সামনে দেয়ালের পাশে গর্ত থেকে লাশের খণ্ডিত পাঁচটি টুকরা উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে তল্লাশি শুরু করে র‍্যাব। একপর্যায়ে নন্দাপাড়ার একটি ডোবা থেকে অধ্যক্ষের খণ্ডিত মস্তক পাওয়া যায়।

গত ১৩ জুলাই আশুলিয়ার ব্যারন এলাকা থেকে নিখোঁজ হন সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণ। পরে তার ভাই দীপক চন্দ্র বর্মণ আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। অভিযোগ জানানো হয় র‍্যাবের কাছেও।

র‍্যাবের তদন্তে হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট রবিউল, মোতালেব ও বাদশাহর নাম বেরিয়ে আসে। গ্রেপ্তারের পর তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আজ ওই কলেজশিক্ষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত ৩ জন জানিয়েছে, গত ৭ জুন খুনিরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ১৩ জুলাই কোচিংয়ের ক্লাস শেষে ওই শিক্ষককে তারা ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে ৬ টুকরা করে। হত্যার আগেই তারা দা, কোদাল ইত্যাদি আলামত স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিঁড়ির নিচে লুকিয়ে রেখেছিল। পাশাপাশি খুনিরা সিমেন্ট, বালু ইত্যাদিও সংগ্রহ করে রেখেছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল হত্যার পর লাশের টুকরাগুলো মাটিচাপা দিয়ে ঢালাই করে রাখার। এছাড়াও মাথার টুকরাটি তারা রাজধানীর আশকোনার একটি ডোবায় ফেলে দেয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মিন্টু চন্দ্র বর্মণ সাত বছর ধরে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি সেখানকার আমিন মডেল টাউন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করতেন। দুই বছর আগে (২০১৯ সাল) মিন্টু চন্দ্র বর্মণসহ চারজন মিলে জামগড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়েন। অন্য তিন সহপ্রতিষ্ঠাতা হলেন রবিউল ইসলাম, মোতালেব ও শামসুজ্জামান। মিন্টু চন্দ্র বর্মণ ছিলেন এর অধ্যক্ষ। তাদের মধ্যে পেশাগত ঈর্ষাজনিত ব্যাপার ছিল, এছাড়া লভ্যাংশ বণ্টন নিয়েও তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে।

খন্দকার আল মঈন বলেন, যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের ভাষ্যমতে, স্কুলের শ্রেণিকক্ষেই মিন্টু বর্মণকে কুপিয়ে খুন করা হয়। লাশ ছয় টুকরা করে স্কুলের মাঠেই পুঁতে ফেলা হয়। এরপর বিচ্ছিন্ন মাথা ফেলা হয় দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকায়। আটক সবাই খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.