ময়মনসিংহে কলেজছাত্রী আলপিনা অপহরণের ৫ মাস পর উদ্ধার

আনোয়ার সাদত জাহাঙ্গীর,ময়মনসিংহ।।

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের অপহৃত কলেজছাত্রী আলপিনা খাতুনকে দীর্ঘ ৫ মাস পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশণ (পিবিআই) ময়মনসিংহ উদ্ধার করেছে। বুধবার গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকা তাকে উদ্ধার করা হয়। ঐ দিনই আলপিনাকে আদালতে পাঠানো হলে সে স্বেচ্ছায় ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।

পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান,হালুয়াঘাটের বানিহালা গ্রামের ইউনুস আলীর মেয়ে আলপিনা খাতুন তারাকান্দা থানাধীন বঙ্গবন্ধু ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি ১ম বর্ষের ছাত্রী ছিল। আলপিনা তারাকান্দা মসজিদ রোডস্থ কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে কম্পিউটার কোর্স করার জন্য আসা-যাওয়ার সময় এনায়েতুর রহমান খান অপু তাকে বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করত। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারী বিকালে কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার থেকে বাড়ী ফেরার সময় এনায়েতুর রহমান খান অপু ৩ জন সহযোগিদের নিয়ে আলপিনাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে সিএনজিযোগে ময়মনসিংহ’র দিকে নিয়ে যায়। তাকে খোঁজাখুজি করে কোথাও না পেয়ে তার চাচা শামছুল হক বাদী হয়ে এনায়েতুর রহমান খান অপুসহ তার সহযোগি আরো ৩জনকে আসামী করে আদালতে তারাকান্দা থানার সিআর মামলা নং-২০/২০২১, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সং/০৩) এর ৭/৩০ এ দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেয়।

পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার এর সঠিক তত্ত্বাবধানে ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই ময়মনসিংহ ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের সার্বিক সহযোগিতায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসাইন মামলাটি তদন্ত করেন।

পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস আরো বলেন,তার দিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রযুক্তির সহায়তায় অপহৃত আলপিনার অবস্থান শনাক্ত হয়ে বুধবার ভোরে গাজীপুরের চৌরাস্তা এলাকায় এনায়েতুর রহমান খান অপুর ভাড়া বাসা হতে ভিকটিম আলপিনা খাতুনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান, এটি একটি চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্রী অপহরণ ঘটনা। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই ময়মনসিংহকে প্রদান করা হলে পিবিআই অত্র মামলার ভিকটিম আলপিনা খাতুনকে উদ্ধারের বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে।এক পর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আলপিনা খাতুনকে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকা থেকে বুধবার উদ্ধার করে তাকে আদালতে পাঠানো হলে সে স্বেচ্ছায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.