এইমাত্র পাওয়া

রাজশাহীসহ তিন অঞ্চলের শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে এসাইনমেন্ট বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত

মোঃ হায়দার আলী, রাজশাহী।।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকার অয়োজনে

রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট অঞ্চলের উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার, শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকদের নিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট বিষয়ে এক ভার্চ্যুয়াল মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৭ টা ৩০ মিনিটের সময় শুরু হয়ে চলে সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত। তিন ঘন্টার বেশী সময় ধরে চলা এ মিটিং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মোঃ গোলাম ফারুক, মাধ্যমিক উইং এর পরিচালক মোঃ বেলাল হোসেন, উপপরিচালক ( মাধ্যমিক) মোহাম্মদ আজিজ উদ্দিন, সহকারী পরিচালক দুর্গা রানী সিকদার, রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী, রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাঃ নাসির উদ্দিন, মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হায়দার আলীসহ ওই তিন অঞ্চলের ৯৫ জন শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকগণ অংশ গ্রহন করেন।

আলোচনায় উঠে আসে, গত বছর এসাইনমেন্ট কার্যক্রম চালু থাকলেও মাঠ পর্যয়ের শিক্ষকগণ মূল্যায়নে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন, তারা কোন এসাইনমেন্ট না পড়ে, আন্ডার লাইন না করে, ভুলগুলি সংশোধন না করে মনগড়া মূল্যায়ন করে শিক্ষার্থীদের হাতে এসাইনমেন্ট ফেরত দিয়েছেন, শিক্ষকদের মুল্যায়নে ত্রুটির কারনে অনেক সমস্যা হয়েছিল। এখনও যেহেতু শিক্ষক শিক্ষার্থীরা শ্রেণী ক্লাসে করোনা ভাইরাসের কারণে উপস্থিত হতে পারছেন না। বাস্তব ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার সংসদ টিভি, অনলাইন ক্লাস, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম স্বচল রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেয়ার জন্য গত বছরে মত এবছর নতুন আঙ্গিকে এসাইনমেন্ট কার্যক্রম শুরু করেছেন।
অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভালো করছে। তাই অ্যাসাইনমেন্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে।
পরীক্ষা পদ্ধতি থেকে শুরু করে সব কিছু নিয়েই কাজ করছি। সেটা শুধু করোনার জন্য নয়। আমরা মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছি। পরীক্ষার চাপ থেকে বেরিয়ে আনন্দের মধ্য দিয়ে পরীক্ষার্থীরা কীভাবে শিখবে সেটা নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অ্যাসাইনমেন্ট এক ধরনের পরীক্ষা। এটা ধারাবাহিক অ্যাসেসমেন্টের একটি পার্ট। আমরা অনেক রকম মূল্যায়নের চেষ্টা করছি।’ মাঠ পর্যরের শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকগণ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন যেন কোন শিক্ষার্থী এসাইনমেন্ট কার্যক্রম থেকে বাদ না পড়ে। কোন শিক্ষার্থী যেন, সরাসরি কপি করে , কোচিং, প্রাইভেট, ইউটিউবসহ অন্য মাধ্যমে সরাসরি করে লিখে জমা না দেয় সে দিকে মুল্যায়ন করার সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের খেয়াল রাখতে হবে। কোন এধরনের এসাইনমেন্ট জমা দিলে তাকে ফেরত দিয়ে পুনঃরায় নতুন করে জমা নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তারপরেও যদি কোন ছাত্র ছাত্রী নকল করা এসাইনমেন্ট জমা দেন তার বিরুদ্ধে হালকা শাস্তি দেয়া যেতে পারেন। এসাইনমেন্ট লেখার নির্দিষ্ট কোন পদ্ধতি নেই। শিক্ষকের উপর নির্ভর করবে এসাইনমেন্টের পূণমান কত হবে। ১০/১২/১৫/১৬/১৮/২০/২৪ নম্বরের মধ্যে হতে পারে। মূল্যায়ন করার জন্য ১ / ২/ ৩/ ৪ অথবা ৪ / ১/ ২/ ৩/ ৪ নম্বরের ভিক্তিতে করা যেতে পারে।

শিক্ষকদের এ কার্যক্রম সঠিকভাবে মুল্যায়ন ও সংরক্ষন করতে হবে। যে সকল শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীর জমাকৃত এসাইনমেন্ট সঠিকভাবে মুল্যায়ন করবেন তাদেরকে শিক্ষামন্ত্রণালয় পুরস্কৃত করবেন আর সে সকল শিক্ষক সঠিকভাবে একার্যক্রম মুল্যায়ন ও সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হবেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আরও বলা হয় এখন ৩৩ নম্বরে পাস ধরা হয়। ভবিষ্যতে পাস নম্বর বেড়ে ৪৫/ ৫০ নম্বর হতে পারে। উন্নত বিশ্বের সাথে মিল রেখে শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হবে এজন্য সবাইকে এক যোগে কাজ করতে হবে।

রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী বলেন, সংসদ টিভির মাধ্যমে সরকার অনলাইন পাঠদান প্রচার করছেন, স্কুল,;কলেজগুলি অনলাইন ক্লাস করছেন যা শিক্ষার্থী, অভিভাবকগণ উপকৃত হচ্ছেন।
সরকারী নির্দশমতে এসাইনমেন্ট কার্যক্রম গত বছরের ন্যয় এবছরও রয়েছে। এ কার্যক্রমকে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, অভিভাবকগণকে এক সাথে কাজ করতে হবে। কাজটি সুন্দর সুচারুরুপে করতে পারলেই শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের নিকট আপনি একজন জনপ্রিয় শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি পাবেন। এ গৌরব ও সম্মান হবে গোটা শিক্ষা পরিবারের। একার্যক্রমে কোনভাবে অবহেলা করা যাবে না।

রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাঃ নাসির উদ্দিন বলেন, গত বছর ১৭ মার্চ থেকে সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আগামি ৩০ জুন পর্যন্ত ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সকল ছাত্রছাত্রী যেন সরকার প্রদত্ত এসাইনমেন্ট কার্যক্রমে অংশগ্রহন করতে পারে সেদিকে খেয়াল করতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষকে শিক্ষার্থীদের জমাকৃত এসাইনমেন্ট সঠিকভাবে মূল্যায়ন সংরক্ষণ করতে হবে। মূল্যায়নকৃত ও নম্বর প্রদানকৃত এসাইনমেন্ট শিক্ষার্থীদের দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে যেন শিক্ষকের স্বচ্ছতা থাকে। এগুলি আমরা তদারকি করবো। কোন অনিয়ম সহ্যকরা হবে না
এভাল কাজটি সফলভাবে করতে পারলে শিক্ষা পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে গর্ববোধ করবো। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, প্রতিষ্ঠানের উপকারে আসবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় সোনার মানুষ গড়ে উঠবেই। বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হবে ইনশাআল্লাহ।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.