মৃত্যুর অবহেলায় ডেকেছি তারে
আজ মৃত্যুর অবহেলায় জড়িয়েছি তারে।
জারুল ছেয়েছে ফুলে,
সোনালু ডুবেছে হলুদে।
সবুজ ঘাসের ডগাতে জমেছে বৃষ্টিফোটা।
আচমকা মেঘ এসে,
ভরা চাঁদটাও গেছে ঢেকে।
এমনও মৃত্যুর অবহেলায় পেয়েছি তারে।
পৃথিবীর সব সুর থেমে গেছে ঘুমের মতো।
মাঠ-মরু-প্রান্তর,
সব ঘুমিয়েছে ক্লান্তির ঘুমে।
রাতের পাখিরাও ঘুমিয়েছে সব – দিনের চাঞ্চল্য ভুলে।
বনের জন্তুরাও চোখ বুজেছে,
চিল-শকূনের ডাক থেমে আছে।
ঠিক এমন রাতের মায়াতেই চেয়েছি খুব করে।
শুধু এক মৃত্যুর অবহেলায় ডেকেছি তারে।
থাক। ঘুমিয়ে থাকুক এই ছায়া-শীতল-উত্তপ্ত পৃথিবী।
ঘুমিয়ে থাকুক নগর-বন্দর,
থেমে থাকুক উর্মীর তীব্রতা।
মুহূর্তের গানে থেমে থাকুক নদীর খরস্রোতাও।
দুর্গম পথ ঘিরে হয়ে মুখোমুখি
শুধু মৃত্যু স্বাদে জেগে উঠি।
আজ মরবো বলে যে করেছি পণ এই ভরা আঁধারে।
শুধু এমনও এক মৃত্যুর অবহেলায় ডেকেছি তারে।
আজ এই মৃত্যুর সোপানে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।
এতোদিনে পুষে রেখেছিলাম যা –
বুকের ছায়াতে আর চোখের মায়াতে
আজ তা যাক মরে উন্মাদনার গানে – অঙ্গের নেশাতে।
মৃত্যুকে করি বরণ,
এক দারুণ অবহেলাতে।
এমন মৃত্যুর ডাকে মরতে চেয়েছি কতবার!
আজ যে মৃত্যু এলো ফাগুন হয়ে এই রাতে।
শুনেছি নাকি পথিক বলে জনে জনে।
প্রেমের তীব্রতা থেমে যায়,
নেশা কেটে গেলেই প্রেম মরে যায়।
প্রেম বেঁচে থাকে অল্প সময় যতো অল্প সময় বাঁচে নেশা।
মরে যাওয়াই যার নিয়তি,
সে তো মরবেই!
কিই বা বেঁচে থাকে চিরন্তন এই মাটির বুকে?
নক্ষত্র – সেও তো একদিন খসে পড়ে ক্লান্ত হয়ে।
নক্ষত্ররাজি খসে পড়ে উল্কা হয়ে মাটিতে।
প্রেম মিশে থাকে ইথারে,
শব্দ হয়ে, কথা হয়ে।
তারপর প্রেম আবার ফিরে ফিরে আসে
মানুষ প্রেমহীন হলে,
মায়া ভুলে গেলে।
জানি একদিন এই রাত মরে যাবে, শালিকের গানও থেমে যাবে।
তারপরেও সব জেনে জড়িয়েছি তারে শুধু এক মৃত্যুর অবহেলাতে
লেখক-আসিফ ইকবাল আরিফ ;
প্রভাষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
