নিউজ ডেস্ক।।
আসছে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়বে। শিক্ষাসংশ্নিষ্ট তিন মন্ত্রণালয় মিলে গতবারের চেয়ে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে করোনার ছোবলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার নানা উদ্যোগ নেওয়া যাবে।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুবুর রহমান গত বুধবার বলেন, ‘গতবারের চেয়ে বেশি বরাদ্দ চেয়েছি। আশা করছি বরাদ্দ বাড়বে।’ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির জন্য বাজেটে বরাদ্দ থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, থাকবে।’
গত বছর (২০২০-২১ অর্থবছরে) মূল বাজেটে শিক্ষা খাতে ৬৬ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ২৪ হাজার ৯৪০ কোটি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় ৩৩ হাজার ১১৭ কোটি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য আট হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষা খাতে এ বরাদ্দের পরিমাণ ছিল মোট ব্যয়ের ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং জিডিপির ২ দশমিক ০৯ শতাংশ। গত কয়েকটি বাজেটে শিক্ষা খাতে টাকার অঙ্কে বরাদ্দ বাড়লেও জিডিপির তুলনায় তাতে খুব বেশি হেরফের হয়নি। জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর পরামর্শ হলো, শিক্ষা খাতে মোট জিডিপির ছয় শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া দরকার। অথচ দেশে তা বহুদিন ধরে দুই দশমিক ২০ থেকে দুই দশমিক ৩০-এর মধ্যে থাকছে।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা খাতের বরাদ্দ হলো জাতি গড়ে তোলার জন্য বিনিয়োগ। অথচ এখানে যে যৎসামান্য বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাতে শিক্ষার মান বৈশ্বিক বা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা তো দূরের কথা, দেশীয় মানটাও ধরে রাখা কঠিন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, করোনার কারণে সারাদেশের চার কোটির বেশি শিক্ষার্থীর শিক্ষা গ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে। এর ক্ষতি ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী। আসছে অর্থবছরে শিক্ষা খাতের এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এরই মধ্যে নানা তথ্য-উপাত্ত থেকে আমরা দেখছি, করোনার কারণে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়ের আয় কমে গেছে, এই শিশুরা পুষ্টির ঘাটতিতে পড়ছে। করোনার প্রভাবে বাল্যবিয়ে বাড়ছে ও ঝরেপড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস মিলছে। শিশুশ্রমও বাড়ছে। শিক্ষার বিপর্যয় রোধে শিক্ষা খাতে মোট বাজেটের অন্তত ১৫ শতাংশ বরাদ্দের আহ্বান জানিয়ে রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, গতানুগতিক বাজেট দিয়ে কভিড ১৯-এর ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
এবার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত এমপিওভুক্তির খাতে বরাদ্দ থাকবে। এর জন্য বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আগেভাগেই চিঠি দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এমপিওভুক্তি খাতে আগামী অর্থবছরের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বাড়তি ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছিল। তা না দিয়ে নির্ধারিত বরাদ্দ ১৫০ কোটি টাকার সিলিং করে দিয়েছে অর্থ বিভাগ। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাইলেও ৫০ কোটি টাকায় সিলিং করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বাজেট পাসের পরপরই নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন নেওয়া শুরু করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জানা গেছে, প্রতি জেলায় একটি করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনার কাজ আগামী অর্থবছরে আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, ঝালকাঠি, বগুড়া, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খাগড়াছড়ি, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা. ফরিদপুরসহ বহু জেলায় কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই। প্রাথমিকে শিশুদের স্কুল ফিডিং কার্যক্রম জোরদার করা হবে। ঝরে পড়ার হার কমাতেও নেওয়া হবে বিশেষ উদ্যোগ।
ই-লার্নিং খাতেও আসন্ন বাজেটে সরকারের গুরুত্ব বাড়বে। করোনাকাল পার হলেও অনলাইন শিক্ষা চালু থাকবে। ক্লাসরুমে সশরীরে ও অনলাইনে- দুইভাবেই পাঠদান চালু রাখা হবে।
তবে ব্যাপক জনপ্রত্যাশা থাকলেও এবারের শিক্ষা বাজেটে শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন স্কেল, শিক্ষক নিয়োগের পৃথক কর্মকমিশন ও বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের দাবি পূরণের কোনো আশ্বাস দেওয়া হয়নি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।সুত্র সমকাল
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
