এইমাত্র পাওয়া

‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলুন, না হলে দড়ি দিন’

নিউজ ডেস্ক।।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক মানবন্ধনে বলা হয়েছে, দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে, নয়তো দড়ি দিন, তা দিয়ে আমরা আত্মহত্যা করব। আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এমন কথা বলেছেন।

প্রসঙ্গত, করোনার সংক্রমণ ঠেকানোর অংশ হিসেবে গত বছরের মার্চ মাস থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে হল ও ক্যাম্পাস। বিগত এক বছরের বেশি সময় এই অবস্থা বিরাজ করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও দুশ্চিন্তা কাজ করছে। নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তৈরি হচ্ছে সেশন জট। পরীক্ষা, ল্যাব-ক্লাস, চাকরির ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া এবং অর্থনৈতিক সংকট শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ ব্যাপক হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই অবস্থায় কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।

তাই অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হল ও ক্যাম্পাস খুলে দিতে হবে। তা না হলে শিক্ষার্থীরা দেশজুড়ে কঠোর আন্দোলনে নামবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে।

মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে ক্যাম্পাস ও হল। এতে বিভিন্ন কারণে আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছি। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না। তাই শিগগিরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিন, হল-ক্যাম্পাস খুলে দিন। আর তা না হলে স্থায়ীভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে আমাদের হাতে দড়ি দিন। আমরা সেই দড়ি গলায় দিয়ে আত্মহত্যা করব।

এ সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, টিকার কথা বলে এতদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে, টিকা দেওয়া হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেও দেওয়া হবে, কিন্তু সে টিকা নেই। তা ছাড়া টিকার দুই ডোজ সম্পন্ন করার পরও মানুষ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। সুতরাং এই টিকার জন্য তো আর বছর বছর বসে থাকা যাবে না। টিকার জন্য অপেক্ষা করার অর্থ হলো হয়রানি আরো বৃদ্ধি পাওয়া এবং শিক্ষা জীবন ধ্বংসের নামান্তর। তাই অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে। তা না হলে আমরা দেশজুড়ে একযোগে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেব।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকার তিতুমীর কলেজের নুর মুহাম্মদ সুমন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামসুল ইসলাম, ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী মারুফা প্রীতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফায়েত রতন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ নাসির, কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জি কে সাদিক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইব্রাহীম চৌধুরী মুন্না, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিকে সাদিক এবং মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.