বাড়ছে নদনদীর পানি, আসছে বন্যা?

নিউজ ডেস্ক।।

দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের সব প্রধান নদনদীর পানির সমতল বাড়তে শুরু করেছে। তবে এখনও তা বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর ও ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের গাণিতিক মডেলের তথ্য মতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের নদনদীর পানির সমতল দ্রুত বাড়তে পারে।

এদিকে বাংলা ট্রিবিউনের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজানে বৃষ্টিপাতের ফলে সুনামগঞ্জ জেলায় যাদুকাটা, পুরাতন সুরমা ও সুরমা নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এই সময়ে সুনামগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি কিছু পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদী আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ৮ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা প্রদেশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত এবং কিছু স্থানে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, উজানের মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে জেলার সব নদনদীর পানি বাড়বে। এতে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এদিকে এই বিষয়ে জানতে চাইলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভারতে এবং আমাদের উত্তরাঞ্চলের দিকে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে কিছু নদীর পানি বেড়ে যাবে। আগামী কয়েকদিন পানি আরও কিছুটা বাড়তে পারে। সুনামগঞ্জের দিকে ধান কাটা হয়ে গেছে। এখন হাওড়ে পানি আসা স্বাভাবিক। পানি কিছুটা বাড়বে। এখনও কোনও নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে ওঠেনি। ফলে এখনই আমরা বন্যার আশঙ্কা করছি না।

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের জানায়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং এর আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমে স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে খেপুপাড়ায় ৩৭ মিলিমিটার। এর বাইরে রাজারহাট ও সন্দ্বীপে ৪, ডিমলা, দিনাজপুর ও রাঙামাটিতে ২, সৈয়দপুর ও মাইজদী কোর্টে ৩, হাতিয়ায় ২৪, সিলেটে ৫, বগুড়ায় ৩২, বদলগাছিতে ২১, রংপুরে ৬, ভোলায় ৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল ও পটুয়াখালীতে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, চলতি সপ্তাহে দেশের উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি বাড়তে পারে। এছাড়া সারাদেশেই কম বেশি থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে নদনদীর পানি কিছুটা বাড়বে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, গতবছর যে বন্যা হয়েছিল তা ছিল গত কয়েকবছরের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা। তিন দফা বন্যায় এক হাজার ৩২৩ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ৮২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার পুনর্বাসন কর্মসূচি নিয়েছিল কৃষি মন্ত্রণালয়। ওই সময় বন্যায় ১২ লাখ ৭২ হাজার ১৫১ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দুর্যোগ মন্ত্রণালয় জানায়, গত বছর জুলাই পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ২৮ লাখ ১২ হাজার ৩৮০ জন মানুষ। বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায় ৪২ জন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.