যেমন হবে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের চরিত্র

অনলাইন ডেস্ক।।

ভারতে শনাক্ত করোনা ভাইরাসের একটি ভ্যারিয়েন্ট বা ধরন এখন সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন। তবে এটা এখনো জানা যায়নি যে, কোভিডের এই ভ্যারিয়েন্টটি আসলে কতটা ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভারতে এখন সংক্রমণের যে ভয়াবহ দ্বিতীয় ঢেউ চলছে তার জন্য নতুন শনাক্ত এই করোনা ভাইরাসটি কতটা দায়ী।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন, যে কোনো ভাইরাসই ক্রমাগত নিজের ভেতরে নিজেই মিউটেশন ঘটাতে করতে থাকে অর্থাত্ নিজেকে বদলাতে থাকে এবং তার ফলে একই ভাইরাসের নানা ধরন তৈরি হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই পরিবর্তন প্রক্রিয়া নিয়ে তেমন মাথাব্যথার প্রয়োজন হয় না, কারণ নতুন সৃষ্ট অনেক ভ্যারিয়েন্ট মূল ভাইরাসের চেয়ে দুর্বল এবং কম ক্ষতিকর হয়। কিন্তু কিছু ভ্যারিয়েন্ট আবার অধিকতর ছোঁয়াচে হয়ে ওঠে—যার ফলে টিকা দিয়ে একে কাবু করা দুরূহ হয়ে পড়ে।
করোনা ভাইরাসের ভারত ভ্যারিয়েন্ট—যেটার বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে বি.১.৬১। প্রথম ভারতে শনাক্ত হয় অক্টোবর মাসে। কত দ্রুত এবং কতদূর নতুন ধরনের এই ভাইরাসটি ভারতে ছড়িয়েছে তার সুনির্দিষ্ট ধারণা পেতে যে মাত্রায় নমুনা পরীক্ষা করতে হয় তা এখনো ভারতে সম্ভব নয়। পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৩৬১টি নমুনা পরীক্ষায় ২২০টির মধ্যে নতুন ধরনের এই ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। এদিকে সংক্রামক রোগের তথ্য সংগ্রহ এবং আদান-প্রদানে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থা জিআইসএইড-এর ডাটাবেজ অনুসারে, এরই মধ্যে কমপক্ষে ২৪টি দেশে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। যাতায়াতের কারণে ব্রিটেনেও করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ধরনটি পাওয়া গেছে। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০৩ জন কোভিড রোগীর দেহে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে, ভারত থেকে ব্রিটেনে ভ্রমণ প্রায় নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য বিভাগ এখন করোনা ভাইরাসের যেসব ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে গবেষণা করছে সেই তালিকায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টকে ঢোকানো হয়েছে। তবে এখনো তারা বলেনি যে এই ভ্যারিয়েন্টটি নিয়ে ‘বিশেষ উদ্বেগের’ কারণ হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা এখনো জানতে পারেননি যে, ভারতে প্রথম শনাক্ত এই করোনা ভাইরাসটি অন্যগুলোর তুলনায় দ্রুত সংক্রমণ ঘটায় কি না, বা এটির বিরুদ্ধে টিকা কার্যকর কি না। যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ভাইরোলজিস্ট ড. জেরেমি কামিল বলেন ভারত ভ্যারিয়েন্টে শনাক্ত একটি মিউটেশনের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিল ভ্যারিয়েন্টে শনাক্ত মিউটেশনের মিল রয়েছে। এই মিউটেশনটি দেহে রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থায় তৈরি অ্যান্টিবডিকে পাশ কাটিয়ে যেতে ভাইরাসকে সাহায্য করতে পারে। সংক্রমণ এবং ভ্যাকসিন নিয়ে আগের বিভিন্ন পরীক্ষায় এটি দেখা গেছে। কিন্তু অনেক বিজ্ঞানী মনে করছেন, বর্তমানে ব্রিটেনে শনাক্ত করোনা ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্টটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ কাজ করছে। ব্রিটিশ ভ্যারিয়েন্টটি এখন ৫০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.