৪ শিক্ষককে শোকজ

মাদারীপুরের কালকিনি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষককে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে শোকজ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ খলিলুর রহমান তাদের এ নোটিশ প্রদান করেন।

শোকজ হওয়া চার শিক্ষক হলেন, গনিত এর সিনিয়র শিক্ষক আবুল কালাম ও মনিরুজ্জামান, ইংরেজীর সিনিয়র শিক্ষক এনায়েত হোসেন ও নরোত্তম বৈরাগী।

তাদের আগামী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে উপযুক্ত প্রমাণসহ জবাব দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয় ও নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার কালকিনি উপজেলার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র ইংরেজি শিক্ষক নরোত্তমের বিরুদ্ধে শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পাঠদান না করে গল্প করেন, নির্বাচনীসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় খাতা মূল্যায়নে নম্বর প্রদানে পক্ষপাতিত্ব করেন, শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়ে না বিধায় তাদের সঠিকভাবে নম্বর দেয়া হয় না।

তবে ইংরেজি শিক্ষক নরোত্তম প্রাইভেট পড়ান না বলে জানান। কিন্তু ইউএনওর একজন প্রতিনিধি তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে তার বাসায় প্রাইভেট পড়ার সত্যতা পান। গত নির্বাচনী পরীক্ষায় তার কাছে প্রাইভেট পড়া ছাত্রদের খাতায় সংকেত দিতে বলেছেন বেশী নম্বর দিবেন বলে তারও প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সিনিয়র শিক্ষক এনায়েত হোসেনে বিরুদ্ধে অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ভালভাবে বুঝিয়ে পড়ান না। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ব্যঙ্গ উক্তি করেন। গত ২২ আগস্ট বিশেষ ক্লাসের সময় একজন শিক্ষার্থীকে নাস্তা আনতে বললে তা তার মনমত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই শিক্ষার্থীকে অকথ্য ভাষায় মন্দ কথা বলেন। এবং ওই ছাত্রের মুখের উপর নাস্তাসহ প্লেট ছুড়ে মারেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সিনিয়র শিক্ষক মনিরুজ্জানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ভালভাবে পাঠদান করাতে পারেন না। ক্লাসে শিক্ষার্থীরা কোন কিছু জিজ্ঞেসা করলে তিনি বলেন, আমার বাড়িতে গিয়ে দেখে নেয়া লাগবে। নবম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান পড়াতে পারেন নি। তাই একজন শিক্ষার্থীও অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞানে পাস করতে পারেনি।

সিনিয়র শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ভালভাবে বুঝিয়ে পাঠদান করান না। একটি অধ্যায়ের দুই একটি অংক করেই অন্য অধ্যায়ে চলে যান। ক্লাস চলাকালে অন্য শিক্ষকের সাথে সময় কাটান। অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষায় ৮ম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর খাতায় শুন্য নম্বর দেন।

ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করলে তাকে ২৩ নম্বর দিয়ে দেন। তিনি ফলাফল বহি, লেজার বহি, রসিদ বহি, শ্রেণি শিক্ষক হিসেবে হাজিরা খাতা সঠিকভাবে ব্যাবহার, ব্যস্থাপনা এবং সংরক্ষন না করাসহ তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে।

আবুল কালাম, এনায়েত হোসেন ও নরোত্তম বৈরাগীর কাছে নোটিশ প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, আমরা নোটিশ এর ব্যপারে কিছুই জানি না।

তবে অন্য শিক্ষক মনিরুজ্জামান বলেন, আমাকে একটা চিঠি দিয়েছে এখনো দেখি নাই, দেখলে জানতে পারবো।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, এই স্কুলের চারজন শিক্ষককে স্কুলের বিভিন্ন অনিয়ম ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শোকজ করা হয়। তাদের ৭ কার্য দিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। তারা সঠিক জবাব না দিতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কালকিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহবুবর রহমান জানান, আমি এ বিষয়ে এখনো কিছু জানি না, আর কেউ জানায় নাই।

কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কালকিনি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, চারজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকমের অভিযোগ পেয়েছি। এক শিক্ষক ইচ্ছা করে খাতায় নম্বর কম দেয় ও কোচিং করায়, আর এক শিক্ষক কোচিংসহ ছাত্রের সাথে খারাপ আচরণ করে, আরেক জন এক ছাত্রকে ডাল-ভাজি (খাবারের ঝোল) ছুড়ে মেরেছে, অন্য এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপরোক্ত অভিযোগ রয়েছে বলে তাদের শোকজ করা হয়েছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.