এইমাত্র পাওয়া

আরো ১ বছর প্রাথমিকে বদলি বন্ধ, ভোগান্তিতে শিক্ষকরা

নিউজ ডেস্ক।।

আয়রা মাহমুদ। জয়পুরহাট জেলার সরকারি প্রাথমিকে শিক্ষকতা করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ আট বছর জয়পুরহাট জেলা সদরে বদলি স্থগিত ছিলো। ২০১৯ সাল থেকে বদলি কার্যক্রম শুরু হয়। তখন বহিরাগতদের ১০ ভাগ কোটা ছিল। তাই বদলি আবেদনের সুযোগ পাইনি। অপেক্ষার পর ২০২০ সালে বহিরাগতদের কোটা ২০ ভাগ করা হয়। এরপর থেকে সরকারি প্রাথমিকে বদলি বন্ধ। যেখানে স্কুল তাতে এখন বদলি না হলে হয় সংসার না হয় চাকরি ছাড়তে হবে।

তিতলি বেগম (ছদ্মনাম)। তার স্বামী একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। কিন্তু সম্প্রতি তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। তিতলি বেগম বলেন, সাবেক স্বামীর বাড়ি ও স্কুল কাছাকাছি হওয়ায় বিড়ম্বনার মধ্যে রয়েছেন। করোনার কারণে বিদ্যালয় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সমস্যা হয়নি। কিন্তু আগামী ৩০ মার্চ থেকে স্কুল খুলছে। এখন এই স্কুলে শিক্ষকতা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এখানে শুধু মানসিক চাপ নয়, সামাজিক চাপও রয়েছে।

দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বদলি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় হাজারো শিক্ষক ভোগান্তিতে পড়েছেন। করোনা মহামারীর মধ্যে আবার বিদ্যালয় খোলায় তাদের দুশ্চিন্তাও বাড়ছে। এরমধ্যে প্রাথমিক অধিদপ্তরের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, অনলাইন বদলি কার্যক্রমের সুফল পেতে শিক্ষকদের আরো এক বছর অপেক্ষা করতে হবে।

কেন বদলি কার্যক্রম বন্ধ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম জানুয়ারিতে শুরু হয়, চলে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিবছর এই বদলি নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বদলির সময় অধিদপ্তরের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে দালালরা শিক্ষকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। এমন অভিযোগের কারণে এসব বন্ধে এ বদলি প্রক্রিয়া অনলাইন ভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সফটওয়্যার তৈরি করে এর মাধ্যমে শিক্ষক বদলি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকেও জানানো হয়। নভেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি করার কথা থাকলেও তা নানা কারণে পিছিয়ে গেছে।

অনলাইন বদলিতে জটিলতা কোথায়

মঙ্গলবার (৯ মার্চ) দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন অনলাইন বদলি কার্যক্রমের উদ্বোধনের কথা থাকলেও তা পেছানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বদলি প্রক্রিয়া একটি উপজেলা থেকে শুরু করার কথা জানিয়েছেন ডিপিই মহাপরিচালক এ এম মনসুরুল আলম। এর আগেও সারা দেশে অনলাইন বদলি একসঙ্গে শুরু করার কথা থাকলেও তা পাইলট আকারে শুরু করার চিন্তা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

এর আগে ডিপিই জানিয়েছিলো, সারা দেশে ৬৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব স্কুলে রয়েছে প্রায় ৪ লাখ শিক্ষক। বদলির বিষয়টি এত সহজ নয়। অনলাইনে বদলি কার্যক্রম শুরু করা হলো কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে সারা দেশে হইচই পড়ে গেলো। এ জন্য টেস্ট রান করা হচ্ছে।

জটিলতার বিষয়ে ডিপিইর ডিজি মনসুরুল আলম বলেন, আমরা অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করেছি। যেহেতু সফটওয়্যার নতুন তাই অনেকে ব্যবহার করতে পারবে না। কারণ এখানে টাইম বাউন্ড অ্যাকশন থাকবে। কোনো শিক্ষক যেনো বদলি থেকে বঞ্চিত না হয় সে কারণে নির্ধারিত সময় না হয়ে সাত দিন পরে শুরু হবে।

সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা একটা অরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম শুরু করছি। পাইলট প্রকল্পের আওতায় ওই উপজেলায় কর্মরত শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের এই অরিয়েন্টশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে ট্রেনিং করানো হবে। এরপর বদলি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু শিক্ষক বদলি কার্যক্রমে এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা, এজন্য পাইলটিং হিসেবে যেসব ভুলত্রুটি হবে তা দ্রুত সমাধান করা হবে। পাইলটিং কাজ সফল হলে দ্রুত সারা দেশে শিক্ষক বদলি কার্যক্রম শুরু হবে।

অনলাইনে বদলির সুফল পেতে লাগবে আরো এক বছর

মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মোহাম্মদ মনসুরুল আলম  বলেন, পাইলটিং অনলাইন বদলিতে কী সমস্যা দেখা দেয় আমরা সেটি মনিটরিং করবো। এরপর সমস্যাগুলো সমাধান করবো। সমাধানের পর আমরা সারা দেশে বদলি কার্যক্রম শুরু করবো না। আমরা প্রথমে একটি উপজেলায় এরপর আন্তঃউপজেলায় এরপর জেলায় পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় পর্যায়ে শুরু করব। তবে সারা দেশে একযোগে শুরু করা হবে না বলেও জানান তিনি।

তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, এবছর থেকে বিদ্যালয়ের বদলি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। এজন্য অন্তত সারা দেশের প্রায় চার লাখ শিক্ষকের আরো একবছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। কারণ জেলা, বিভাগ ও দেশের সকল পর্যায়ে এর সুফল পেতে আরো একবছর সময় লাগবে।

যা বলছেন শিক্ষক নেতারা

প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আবুল কাশেম বলেন, শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বলছি- বদলির না হওয়ার কারণে অনেক শিক্ষক কষ্টে আছেন। শুধু মার্চ মাস নয় আমরা বছরব্যাপী বদলি প্রক্রিয়া যেন চলমান থাকে সে দাবি জানাই। যদি অনলাইনে সম্ভব না হয় তবে একবছর কাটানো অনেক কঠিন সময় যেহেতু স্কুল খুলে যাচ্ছে। একারণে কর্তৃপক্ষকে এ বছর ম্যানুয়ালি বদলি প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামছুদ্দিন মাসুদ  বলেন, শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম দ্রুত শুরু না করা হলে বিড়ম্বনার শেষ থাকবে না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উচিত যেভাবেই হোক বদলি কার্যক্রম শুরু করার জন্য দাবি করেন তিনি। সুত্র বাংলাদেশ জার্নাল


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.