নিউজ ডেস্ক।।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পৌনে চার বছর পর চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য ৩৮তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এবারও সরকারি কর্ম-কমিশনের (পিএসসি) চূড়ান্ত সুপারিশের ৭৫ প্রার্থীকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রার্থীর কেউ কেউ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি কিংবা কারও নামে মামলা থাকার কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সূত্রমতে, কিছু প্রার্থী নিয়োগবঞ্চিত হয়েছেন পরিবারের কোনো সদস্য বা আত্মীয়স্বজন ভিন্নমতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন/আছেন বলেও। গত কয়েকটি বিসিএসেই দেখা গেছে, পিএসসির সুপারিশের পরও বেশ কিছু চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগ আটকে গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত গেজেটে ২ হাজার ১২৯ প্রার্থীর নাম রয়েছে। অর্থাৎ এ সংখ্যক চাকরিপ্রার্থী চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় নির্দেশিত বা পদায়িত কার্যালয়ে তারা যোগ দেবেন। গতকাল প্রকাশিত গেজেট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য ‘সন্তোষজনক’ না হওয়ায় গেজেটে তাদের নাম আসেনি। এদের কারও কারও তথ্য-উপাত্ত তদন্ত করা হবে। নিয়োগবঞ্চিত এক প্রার্থী জানান, তার পরিবারের কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই সম্পৃক্ত নন। পিএসসি তার জন্য সুপারিশ করার পর পরিবারের সবার মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। এখন নিয়োগ আটকে যাওয়ায় পরিবারটিতে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। নিয়োগ পেতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করবেন, জানান তিনি।
জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন স্বাক্ষরিত গেজেটে বলা হয়েছে, ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী কোনো নির্দেশ না পেলে ওই তারিখেই অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি নিয়োগপ্রাপ্তকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে হবে। নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে তিনি চাকরিতে যোগদান করতে সম্মত নন বলে ধরে নেওয়া হবে এবং নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। নিয়োগপ্রাপ্তদের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বা সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
এ প্রশিক্ষণ শেষে চাকরিসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পেশাগত ও বিশেষ ধরনের প্রশিক্ষণ নিতে হবে। নিয়োগপ্রাপ্তদের দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। এ সময়ে যদি তিনি চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী বলে বিবেচিত হন, তা হলে কোনো কারণ দর্শানো ও পিএসসির সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে।
প্রশাসন ক্যাডারে ৩০০, পুলিশ ক্যাডারে ১০০টি পদসহ ৩৮তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারে ৫২০টি, কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে ৫৪৯টি এবং শিক্ষা ক্যাডারে ৯৫৫টি পদের বিপরীতে আবেদন নেওয়া হয়েছিল। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ২ হাজার ২০৪ জনকে নিয়োগ দিতে সুপারিশ করে পিএসসি। পরে সুপারিশপ্রাপ্তদের ব্যক্তিগত তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই গতকাল ২ হাজার ১২৯ প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দিতে গেজেট জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
২০১৭ সালের ২০ জুন ৩৮তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৮ প্রার্থী। ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর প্রিলিমিনারি পরীক্ষার দুই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশ হয়। ১৬ হাজার ২৮৬ জন উত্তীর্ণ প্রার্থীর মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় ১৪ হাজার ৫৪৬ জন অংশ নেন। পরীক্ষা শেষ হয় ২০১৮ সালের ১৩ আগস্ট।
এতে পাস করেন ৯ হাজার ৮৬২ জন। গত ফেব্রুয়ারিতে তাদের মৌখিক পরীক্ষা হয়। ৩৮তম বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বাধিক সময় ব্যয় হচ্ছে, প্রায় পৌনে চার বছর। ৩৫তম বিসিএসে প্রিলিমিনারি থেকে যোগদান পর্যন্ত সময় লেগেছে ২ বছর ১ মাস ৮ দিন; ৩৬তম বিসিএসে ২ বছর ৭ মাস ২৫ দিন এবং ৩৭তম বিসিএসে ২ বছর ৬ মাস ৭ দিন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গোয়েন্দা সংস্থার যাচাই-বাছাইকালে ৭৫ প্রার্থীর বিষয়ে ‘নেতিবাচক’ প্রতিবেদন আসায় তাদের নিয়োগ আটকে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাদের বিষয়ে আরও খোঁজখবর নেওয়ার পর কেউ কেউ হয়তো নিয়োগ পাবেন।
এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (নবনিয়োগ শাখা) মো. মোস্তাফিজার রহমান বলেন, যেসব প্রার্থীর নাম গেজেটে আসেনি, তাদের কারও কারও নামে মামলা রয়েছে। চাকরিবিধিতে মামলা থাকা কোনো প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার নিয়ম নেই। তাদের মামলা যদি নিষ্পত্তি হয়ে যায়, তা হলে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যারা আবেদন করেছেন, তাদের বিষয়েও অধিকতর যাচাই-বাছাই চলছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেননি যেসব প্রার্থী, তাদেরও নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে ৭৫ জনের নিয়োগ আটকে যাওয়া বিষয়ে কথা বলতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুনকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। কথা বলার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ (এপিডি) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আনিসুর রহমানের সঙ্গেও।আমাদের সময়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
