এইমাত্র পাওয়া

“করোনার আত্নকথা”

মুহাম্মদ জয়নুল আবেদিন।।
আসসালামু আলাইকুম ,আমি করোনাভাইরাস বলছি। আমাকে হয়তো ইতিমধ্যে চিনে গেছেন। চীনের হুয়ান নগরীরে ২০১৯ সালে আমার জন্ম।আমি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এক অনুজীব। আপনাদের সাহায্য সহযোগীতায় মাত্র কয়েক মাসে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে প্রান্তিক অঞ্চলে আমি পৌঁছে গেছি।

সভ্যতার এই চরম উৎকর্ষের দিনে ও কোন বাহনই বোধ করি এত অল্প সময়ে বিশ্ব জনপদের ভাঁজে ভাঁজে পৌঁছতে পারতো না ; সে অর্থে আমাকে গতিশীলই বলতে হবে।

আমি মানুষের নাক,মুখ ও চোখ দিয়ে মানব দেহের গলদেশে অনুপ্রবেশ করি এবং সাধারণ সর্দি কাশি জ্বরের লক্ষণ প্রকাশ করি, কার ও কার ও শ্বাসকষ্টের মত উপসর্গ হয়ে দেখা দেই।মৃদু,মাঝারি ও অতিমাত্রার সংক্রমণ আমি ঘটিয়ে থাকি। কার ও কার ও মৃত্য পর্যন্ত হয়ে থাকে।

এ যাবত বিশ্বে তিন কোটির বেশি মানুষ আমাতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং দশ লক্ষাধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। আমার চলনক্রিয়া একেবারে কুম্ভকর্ণের মত না হলে ও বেশ ধীরগতিসম্পন্ন । আমি বহুরূপী। এলাকাভেদে দেশে দেশে আমার এক এক রূপ সৃষ্টি হয়। আমি প্রানী দেহে ক্রিয়াশীল।মানুষের দেহ না পেলে আমি মানুষকে আক্রান্ত করতে পারি না।

আর আমাকে সাহায্যে এগিয়ে আসে মানুষের হাত এবং মুখমন্ডল। আমি যে শুধু মানুষকে রোগাক্রান্ত করেছি এবং বিশ্বব্যাপি লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছি তাই নয়, আমি মানুষকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছি এবং অনুধাবন করতে শিখিয়েছি যে,

১। মানুষ সব ক্ষেত্রে মানুষের জন্য নয় কখন ও কখন ও সে বড় একা

২। প্রচুর অর্থ সম্পদ বৈভব একটি পর্যায়ে কোনই কাজেই আসে না

৩। এতসব উন্নয়ন,সভ্যতা নব নব সৃষ্টি সব কিছু আমার মত সামান্য একটি ক্ষুদ্র ভাইরাসের কাছে নিস্প্রভ হয়ে গেছে

৪।যা পাই তাই খাই নীতি বর্জন করে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা যা শরীর গঠনে ও রোগ প্রতিরোধ সহায়ক হয়

৫। পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছে যারা আমার মত করোনাভাইরাসের থেকে ও অত্যন্ত ভয়াবহ।

লেখক-,সাব-এডিটর, শিক্ষাবার্তা ডট কম।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.