‘স্কুল ফিডিং’ প্রকল্পের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ছে

নিউজ ডেস্ক।।

কোমলমতি প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ও অপুষ্টি রোধে চালু করা ‘দারিদ্র্য পীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং প্রকল্পের’ মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ছে। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্যয় বাড়ানো হবে না। জাতীয় স্কুল মিল নীতি ২০১৯ অনুযায়ী প্রস্তাবিত ‘প্রাইমারি স্কুল ফিডিং প্রকল্প’ এর ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) অনুমোদন না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ‘প্রাইমারি স্কুল ফিডিং প্রকল্প’ এর ডিপিপি অনুমোদনের পর পিপিআর ২০০৮ অনুযায়ী বিস্কুট উৎপাদনাকরী ফ্যাক্টরি, বাস্তবায়ন সহযোগী বেসরকারি সংস্থা ও মান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান নির্বাচন এবং স্কুল পর্যায়ে খাদ্যসামগ্রী পৌছানের জন্য কমপক্ষে ৬ মাস সময় দরকার। এরমধ্যে প্রকিউরমেন্ট কার্যক্রমের জন্য চার মাস ও বিস্কুট উৎপাদন ও বিতরণের জন্য দুই মাস দরকার হবে। অর্থাৎ আগামী জুনের আগে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ সম্ভব হবে না। ফলে শিশু শিক্ষার্থীদের ক্ষুধা নিবারণসহ অপুষ্টির অভাব পূরণের চলমান প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। যা শিশুর স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এসব বিষয় বিবেচনায় গত ২০ নভেম্বর দারিদ্র্য পীড়িত স্কুল ফিডিং প্রকল্পের ৩৩তম প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভায় চলমান প্রকল্পের মেয়াদ

\হআরও ছয় মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অনুমোদনের পর বিস্কুট উৎপাদনকারী ফ্যাক্টরি, বাস্তবায়ন সহযোগী বেসরকারি সংস্থা ও মান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় পাওয়া যাবে। ১০৪টি উপজেলায় চলমান দারিদ্র্য পীড়িত স্কুল ফিডিং প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই সময় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিস্কুট বিতরণ শেষে প্রকল্পের ৭০৫ কোটি টাকা থেকে যাবে। অপর দিকে প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কারিগরি সহায়তাসহ ১০টি উপজেলায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। সংস্থাটিও আরও ৬ মাস কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দারিদ্র্য পীড়িত স্কুল ফিডিং প্রকল্পটি প্রথম দফায় ২০১০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাস্তাবায়ন করা হয়। পরবর্তীসময়ে প্রকল্প সংশোধন করে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১১৪২ কোটি ৭৯ লাখ ৯১ হাজার টাকা। এরমধ্যে জিওবি ৫৯৭ কোটি ৭০ লাখ ৫৭ হাজার ও প্রকল্প সাহায্য ৫৪৫ কোটি নয় লাখ ৩৪ হাজার টাকা।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সারা দেশের স্কুল বন্ধ রয়েছে। তার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিস্কুট বিতরণ করছেন শিক্ষকরা। চলতি ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৬৩৪৮ টন বিস্কুট বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে বিতরণ শেষ করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় স্কুল মিল (দুপুরের খাবার) চালু রয়েছে সেক্ষেত্রে ১৫৯ দশমিক ৩৭ টন চাল শিশুদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ দিকে প্রস্তাবিত ‘প্রাইমারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির’ ডিপিপিতে বিদেশে গিয়ে ডিম-খিচুড়ি, সবজিসহ অন্যান্য খাবার রান্না ও প্রসেসিং শিখতে পাঁচ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। এছাড়া দেশে একই বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য আরও ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছিল। ব্যাপক সমালোচনার মুখে বিদেশ সফরের বিষয়টি বাতিল করতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

বর্তমানে ৩৩ লাখের মতো শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। বিভিন্ন কারণে তারা স্কুলে যাচ্ছে না। খাবার বিতরণের ফলে শিশুরা স্কুলে যাবে এবং তাদের পুষ্টিগত সমস্যা নিরসন হবে বলে বলে নতুন প্রকল্পের ডিপিইতে বলা হয়েছে। ১৯ হাজার ২৮২ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ের এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থীকে খাদ্য সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় সপ্তাহে তিন দিন শিক্ষার্থীদের দুপুরে খিচুড়ি-ডিম ও সবজি দেওয়া হবে। বাকি তিন দিন দেওয়া হবে পুষ্টিকর বিস্কুট। প্রকল্পটি ৫০৯টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.