এইমাত্র পাওয়া

ভুয়া সনদে ১৮ বছর ধরে এমপিও ভোগ শিক্ষকের

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

সাইফুল ইসলাম লেনিন। ১৮ বছর ধরে ভুয়া সনদে শিক্ষকতা করছেন নীলফামারী ডিমলার দক্ষিণ কাকড়া সাইফুন সাইড নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

সাইফুল ইসলাম বিএ পাসের ভুয়া সনদে ১৮ বছর এমপিও ভোগ করার পর ধরা পড়েছেন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের সাধারণ পরিদর্শনে। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি ডিমলা নাউতারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।

জানা গেছে, ২০০০ সালের মার্চ মাসে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্কুলটি এমপিওভুক্ত হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে স্কুলটির প্রতিষ্ঠার সময় থেকে নিয়োজিত জুনিয়র শিক্ষক সাইফুল ইসলাম সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে ২০০২ সালে এমপিওভুক্ত হয়েছেন।

গত ২০১৯ সালে ২৬ জুন সাধারণ পরিদর্শনে আসেন নিরীক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিদর্শক মো. আলমগীর হাসান। তিনি সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামের বিএ পাস সনদের ছায়ালিপি অধিকতর যাচাইয়ের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান। ছায়ালিপির তথ্য অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সনদটি সঠিক নয় মন্তব্য দেয়। সাইফুল ইসলাম (ইনডেক্স-৫৫৬২০৯) স্নাতক (পাস)- ১৯৯৭, রোল নং- ৫৬৯১, রেজি: পি-৩৮৯৯ সনদের ছায়ালিপি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল।

সনদের ছায়ালিপিতে প্রাথমিকভাবে তা ভুয়া প্রমাণিত হওয়া অধিকতর যাচাইয়ের জন্য তার মূল সাময়িক সনদ, মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও মূল প্রবেশপত্র চায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর সাইফুল ইসলামের কাছে প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে সনদগুলো চাওয়া হলে তিনি একমাস সময় প্রার্থনা করেন। কিন্তু ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও তিনি সনদ দাখিল করেননি। পরে প্রধান শিক্ষক গত ২২ সেপ্টেম্বর চিঠিতে উল্লেখ করেন, এতে প্রতীয়মান হয় যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কাছে গ্রহণযোগ্য সনদ নেই।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী ছায়ালিপির তথ্য সঠিক নয়। নিয়োগকালে বিধি মোতাবেক সনদ সঠিক ছিল না। তাই এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের মে মাস পর্যন্ত নেয়া সরকারি বেতন-ভাতা বাবদ ১ কোটি ৬২ লাখ ২ হাজার ৮০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য। পরবর্তীকালে বেতন-ভাতা গ্রহণ করলে তাও ফেরতযোগ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিদর্শক মো. আলমগীর হাসান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকতার পাশাপাশি আমি একজন জনপ্রতিনিধি। নির্বাচনী প্রতিপক্ষ আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, পরিদর্শন প্রতিবেদনে চাওয়া তথ্য অনুযায়ী কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.