এইমাত্র পাওয়া

সহকারি অধ্যাপক বনাম জ্যেষ্ঠ প্রভাষক

ড. মোহাঃ এমরান হোসেন।।

শিক্ষার সংস্কার ও উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপ সিত্যই প্রশংসার দাবীদার। সরকারের নিরলস প্রচেষ্টার কারণেই শিক্ষাক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এ জন্য আমরা শিক্ষানুরাগী শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।

সম্প্রতি সংশোধিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ প্রকাশিত হয়েছে। এতে অনেক প্রশংসনীয় দিক রয়েছে। বিশেষ করে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ৫০% প্রভাষককে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় সরকার ফাযিল ও কামিল মাদরাসার শিক্ষকদের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছে। ফলে প্রভাষকদের অন্তরে আনন্দের বন্যা বইছে।

কিন্তু আলিম মাদরাসার প্রভাষকদের অন্তরে ব্যাথার একটি কালো তিলকের জন্ম নিয়েছে। কারণ সদ্য প্রকাশিত এমপিও নীতিমালার আলোকে ফাযিল ও কামিল মাদরাসার প্রভাষকদের ৫০% প্রভাষক পদে ৮ বছর পূর্তিতে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে পদোন্নতি পাবেন। তাদের পদবী হবে ‘সহকারী অধ্যাপক’, বেতন কোড হবে ০৬ এবং বেতন স্কেল হবে ৩৫৫০০ টাকা।

কিন্তু আলিম মাদরাসার প্রভাষকদের ৫০% প্রভাষক পদে ৮ বছর পূর্তিতে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে পদোন্নতি পাবেন। তাদের পদবী হবে ‘জ্যেষ্ঠ প্রভাষক’, বেতন কোড হবে ০৬ ও বেতন স্কেল হবে ৩৫৫০০ টাকা। একই বেতন কোডে ও স্কেল পেয়েও তারা সম্মানজনক পদবী ‘সহকারী অধ্যাপক’ লাভ করতে পারবেন না। এছাড়াও পদবীতে মার দিয়ে আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ পদে দরখাস্ত করার পথকে তাদের জন্য চিররুদ্ধ করা হয়েছে। এতে তারা চরম বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।

সুতরাং আলিম মাদরাসার প্রভাষকদেরকে ভাতা মারা হয়নি, কিন্তু তাদেরকে সম্মান ও অধিকারের দিক থেকে মারা হয়েছে। কাজেই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত এবং আলিম মাদরাসার পদোন্নতি প্রাপ্ত প্রভাষকদের পদবী ‘জ্যেষ্ঠ প্রভাষক’ এর স্থলে ‘সহকারী অধ্যাপক’ পদবী প্রতিস্থাপন করা দরকার। বিষয়টি সুবিবেচনায় নেওয়ার জন্য শিক্ষা ও শিক্ষক বান্ধব শিক্ষা মন্ত্রীর কৃপাদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

লেখক- অধ্যক্ষ
শংকরবাটী হেফজুল উলুম এফ.কে. কামিল মাদরাসা
ডাকঘর-নামোশংকরবাটী, সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.