নিজস্ব প্রতিনিধি।।
করোনা মহামারীতে নিম্ন আয়ের মানুষেরা অভাবে, ঋণে আর সংকটে জর্জরিত বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক সংলাপের বক্তরা। ১০ নভেম্বর, মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় ‘করোনা দুর্যোগ ও নগরে নিম্ন আয়ের মানুষদের সংকট ও করণীয়’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এই মন্তব্য করেন।
এ সমস্যা সমাধানে সরকারের নিকট পাঁচ দফা দাবিও তুলে ধরা হয়। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বারসিক’র উদ্যোগে সমাজসেবা বিভাগীয় কার্যলয় মোহাম্মদপুর, ঢাকার কনফারেন্স রুমে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। পবা’র সাধারণ সম্পাদক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সোবহান এতে সভাপতিত্ব করেন।
এতে বক্তারা বলেন, করোনাকালে বস্তিবাসীরা হাজারটা সমস্যার মধ্যে দিনযাপন করে যাচ্ছেন। তাদের আয় নেই, খাবার নেই, চিকিৎসা নাই। সরকার তার মতো করে চেষ্টা করে গেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। নিম্ন আয়ের মানুষদেরকে আরো গুরুত্ব দিয়ে সরকারের সকল উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুক্ত করার আহবান জানান বক্তারা।
সংলাপে বক্তারা আরো বলেন, বেসরকারি তথ্যমতে মোট বস্তিবাসীর সংখ্যা ৪০ লাখেরও অধিক, যা ঢাকার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৭.৪ শতাংশ। এই মানুষগুলো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানাবিধ প্রাকৃতিক আপদ বন্যা, নদীভাঙান, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা, শৈতপ্রবাহ, লবণাক্ততা কারণে জীবিকার তাগিদে গ্রাম ছেড়ে শহরে ভিড় করছেন। ফলে সহজলভ্যতার কারণে তাদের অধিকাংশেরই জায়গা হচ্ছে শহরের অপরিকল্পিত এবং অপরিচ্ছন্ন বস্তিতে ও ফুটপাতের খোলা জায়গায়। তাছাড়াও গ্রাম এবং শহরের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য তাদেরকে শহরে আসতে বাধ্য করছে।
২০২০ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বারসিকের গবেষণায় দেখা গেছে, করোনার কারণে এখন পর্যন্ত ৫০ শতাংশ গৃহকর্মী এখনো তাদের কাজ ফিরে পায়নি। যারা কাজ করছে, তারা আগে তিনটি বা চারটি কাজ করলেও এখন করছে মাত্র একটি বা দুটি। ফলে শুধু গৃহকর্মীদের আয় কমেছে ৬৬ ভাগ। যার প্রভাব পড়েছে তাদের খাদ্যাভ্যাসসহ অন্যান্য জীবনযাত্রায়। এমনকি ৮৫ ভাগ বস্তিবাসী মানুষ ৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকার ঋণে জর্জরিত।
পাওয়ার এন্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ব্র্যাক ইন্টিটিউট অফ গর্ভনেন্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) তথ্য মতে, করোনাকালে পারিবারিক খরচ চালাতে না পেরে ঢাকা শহর ছেড়ে ১৫.৬৪ শতাংশ মানুষ গ্রামে চলে গিয়েছে এবং রিকশা চালকদের আয় কমেছে ৫৩ শতাংশ। এর মধ্যে নগরে সরকারের নগদ সহায়তা পেয়েছেন ১৬ শতাংশ মানুষ। করোনার এই নিদানকালে নগরের এই বিরাট দরিদ্র জনগোষ্টীকে যে কোনো ভাবেই হোক বাঁচানোর উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে।
এ সময় পাইওনিয়ার হাউজিং বস্তিবাসীর ৮ জনকে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধি ভাতার জন্য নির্বাচন করায় সমাজসেবা অধিদপ্তরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তারা বলেন, সরকার ২০২০-২০২১ অর্থ বছর বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর জন্য প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। অন্যান্য খাতের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা খাতে যে ১৪৫টির মতো সেবা খাত-উপখাত রয়েছে, সেখানে নগরের নিম্ন আয়ের মানুষদের যুক্ত করতে পারলে তাদের জীবন জীবিকা কিছুটা হলেও সচল হতে পারত বলে বস্তিবাসীরা মনে করেন।
এতে পরিবেশ বার্তার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জলের সঞ্চালনায় সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা বিভাগীয় কার্যলয়ের পরিচালক মিনা মাসুদুজ্জামান, অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাপা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের আহবায়ক মিহির বিশ্বাস, সমাজসেবা কর্মকর্তা এ কেএম শহীদুজ্জামান, বারসিকের সহযোগী কর্মসূচী কমকর্তা সুদীপ্তা কর্মকার, নিম্ন আয়ের মানুষের প্রতিনিধি নুরুজ্জামান, আব্দুল কুদ্দুস, রাফেজা বেগম, ঝুমুর বেগম প্রমূখ। অনুষ্ঠানে ধারণাপত্র উত্থাপন করেন বারসিকের সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
দাবি গুলো হলো-
১. সকল নিম্ন আয়ের মানুষদের তাদের স্ব স্ব কাজে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য সরকারি উদ্যোগ।
২. নগরের নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য গ্রামের ন্যায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী চালু করা। তাদের সকল ঋণ মওকুফের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩. করোনায় শহরের নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সকল ধরণের ভাতার ব্যবস্থা করা। করোনায় কর্মহীন নিম্ন আয়ের বস্তিবাসী ও পথবাসী মানুষদের জন্য আয়বর্ধনমূলক কাজের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
৪. নগরের সব ধরনের বস্তি উচ্ছেদ বন্ধ করা। বস্তিবাসীদের জন্য সরকারি উদ্যোগে আবাসন ব্যবস্থার কাজ শুরু করা।
৫. বস্তিবাসীদের জন্য রেশনিং এর ব্যবস্থা করা।
শিক্ষাবার্তা/এসজেড
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
