চাকুরীজীবিদের জন্যে আয়করের হিসাব

অনলাইন ডেস্কঃ

বাংলাদেশে যত করদাতা আছেন, তাঁদের একটি বড় অংশ চাকরিজীবী। করযোগ্য আয় থাকুক আর না–ই থাকুক, নির্বাহী পর্যায়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের তাঁদের প্রতিবছরই বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দিতে হয়। করের হিসাব-নিকাশ করা কিছুটা জটিল। কর ছাড়ের হিসাবও বিবেচনায় রাখতে হবে। কিন্তু একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকরিজীবী কীভাবে কর ঠিক করবেন, তা এবার দেখা যাক।

একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যেতে পারে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে চাকরি করেন কামরুন নাহার। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে মূল বেতন ৫০ হাজার টাকা, চিকিৎসা ভাতা ২ হাজার টাকা, বাড়িভাড়া ভাতা ২০ হাজার টাকা, যাতায়াত সুবিধার ৫ হাজার টাকা এবং বছরে দুটি উৎসব বোনাস (দুটি মূল বেতন) ১ লাখ টাকা পেয়েছেন। এই বাইরে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তিনি অফিস থেকে একটি গাড়ি বরাদ্দ পেয়েছেন। এ ছাড়া বেতন-ভাতার বাইরে বছরজুড়েই অন্য খাতে বাড়তি কিছু আয়ও করেছেন তিনি। যেমন গৃহসম্পত্তি থেকে ৫০ হাজার টাকা, আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড থেকে লভ্যাংশ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা এবং ব্যাংক সুদ ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন। লভ্যাংশ ও ব্যাংক সুদ তোলার সময় ১০ শতাংশ উৎসে কর কেটে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কামরুন নাহার এক লাখ টাকার তিন বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র কিনেছেন।

তাহলে এবার দেখা যাক, কামরুন নাহারের কত করযোগ্য আয় হলো। মূল বেতন (১২ মাসের মূল বেতন) ৬ লাখ টাকা এবং উৎসব বোনাস এক লাখ টাকা পেয়েছেন। এ ছাড়া বছরজুড়ে চিকিৎসা ভাতা হিসেবে পাওয়া ২৪ হাজার টাকার পুরোটাই করমুক্ত। কারণ, চিকিৎসা ভাতা হিসেবে মূল বেতনের ১০ শতাংশ পর্যন্ত বা বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে যেটি কম হবে, সেই টাকার ওপর কর ছাড় মেলে। ১২ মাসে বাড়িভাড়া হিসেবে পেয়েছেন মোট ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। চিকিৎসা ভাতার মতো বাড়িভাড়ায় কর ছাড় পাবেন কামরুন নাহার। বছরে ৩ লাখ টাকা বা মূল বেতনের ৫০ শতাংশের মধ্যে যেটি কম। সেই হিসাবে বাড়িভাড়ার ওপরও কর বসবে না। এ ছাড়া যাতায়াত সুবিধা হিসেবে মাসে ৫ হাজার টাকা করে ৬০ হাজার টাকা করযোগ্য আয়ে যোগ হবে।

সব মিলিয়ে কামরুন নাহারের বেতন খাতে আয় দাঁড়াবে ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এরবাইরে গৃহসম্পত্তি থেকে ৫০ হাজার টাকা, কৃষি খাতের ১০ হাজার টাকা, ব্যাংক সুদ ১০ হাজার টাকাও যোগ হবে। পাশাপাশি আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড থেকে লভ্যাংশ হিসেবে পাওয়া মাত্র ৫ হাজার টাকা যোগ করতে হবে।

কারণ, এই খাতে বিনিয়োগের জন্য বছরে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত রেয়াত পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে করযোগ্য আয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এই আয়ের প্রথম সাড়ে তিন লাখ টাকার ওপর কোনো কর বসবে না। পরবর্তী এক লাখ টাকার জন্য ৫ শতাংশ হারে কর বসবে। পরের তিন লাখ টাকার জন্য ১০ শতাংশ এবং পরবর্তী ৮৫ হাজার টাকার ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর বসবে। সব মিলিয়ে কামরুন নাহারের করের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪৭ হাজার ৭৫০ টাকা।

কামরুন নাহার যেহেতু সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেছেন, তাই বিনিয়োগ কর রেয়াত পাবেন। মোট আয়ের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত, অর্থাৎ ২ লাখ ৮ হাজার ৭৫০ টাকা পর্যন্ত অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ। কিন্তু কামরুন নাহারের বিনিয়োগ এই সীমা ছাড়ায়নি। তাঁর বিনিয়োগের পরিমাণ এক লাখ টাকা। তাই বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ মানে, ১৫ হাজার টাকা কর রেয়াত পাবেন। এ ছাড়া মিউচুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ও ব্যাংক সুদের হার তুলে নেওয়ার সময় সব মিলিয়ে ৪ হাজার টাকা কেটে রাখা হয়েছিল। তাই বার্ষিক রিটার্ন দিয়ে কর দেওয়ার সময় বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত ও উৎসে কর হিসেবে কেটে নেওয়া টাকা বাদ দিতে হবে। সেই হিসাবে বাদ যাবে ১৯ হাজার টাকা। বছর শেষে কামরুন নাহারকে ২৮ হাজার ৭৫০ টাকা দিতে হবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.